ঈদ কার্ডের সেই জনপ্রিয়তা আর নেই

আপডেট: জুন ১, ২০১৯, ১:০৭ পূর্বাহ্ণ

রফিকুল ইসলাম


ঈদ কার্ডের সেই জনপ্রিয়তা আর নেই। প্রিয়জনকে ঈদ শুভেচ্ছা জানাতে আর ব্যবহার হয় না ঈদ কার্ডের। আগে বিশেষ দিনগুলোতে প্রিয়জনকে শুভেচ্ছা জানাতে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার হতো ঈদ কার্ড। তাই বিশেষ দিনে এই কার্ডের জনপ্রিয়তা ছিল খুব। ঈদে তা পৌঁছাতো চরমে। এখন আর বিশেষ কোন দিনে ব্যবহার হয়না কার্ডের। এমনকি ঈদেও প্রিয়জনকে শুভেচ্ছা জানাতে ব্যবহার হয় না ঈদ কার্ডের। ইন্টারনেটের ছোঁয়ায় কার্ড হারিয়েছে তার জনপ্রিয়তা। কার্ডের পরিবর্তে শুভেচ্ছা জানাতে এখন মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার হয় এসএমএস, ফেসবুক, মেসেঞ্জার, ইমো ইত্যাদি।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টা নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে ঈদ উপলক্ষে দোকানগুলোতে কাস্টমারদের উপচেপড়া ভিড়। ঈদ কেনাবেচায় ব্যস্ত সবাই। ভিন্নচিত্র একমাত্র কার্ডের দোকানগুলোর বেলায়।
সরেজমিনে নগরীর অন্যতম একটি কার্ডের দোকান আইডিয়াল প্রোডাক্টসে গিয়ে দেখা যায় সেখানে দুইজন বিক্রেতা রয়েছেন। অথচ কাস্টমার মাত্র একজন। তা-ও আবার তিনি নিবেন বিয়ের দাওয়াত কার্ড। কথা বলছিলাম দোকানের বিক্রেতা ওমর ফারুকের সঙ্গে। তিনি বলেন, ঈদ উপলক্ষে তেমনভাবে আর ঈদ কার্ড চলে না। আমাদের এখানে বিশেষ করে বিয়ের কার্ড বিক্রি হয়।
উপস্থিত কস্টমার মো. সনেট বলেন, ঈদের দুইদিন পর আমার শ্যালিকার বিয়ে। বিয়ের দাওয়াত কার্ড তৈরির অর্ডার করতে এসেছি। আইডিয়াল প্রোডাক্ট থেকে আমার ছেলের জন্মদিনের দাওয়াত কার্ড তৈরি করেছিলাম। কার্ডগুলো খুব সুন্দর ছিল। তাই শালিকার বিয়ের দাওয়াত কার্ডও এখানেই তৈরি করতে দিব।
সাহেববাজার, জামাল সুপার মার্কেট এর শুভেচ্ছা কার্ড সেন্টারের মালিক মো. আবদুল হানিফ স্বপন বলেন, ঈদ উপলক্ষে কোনো কার্ডের ব্যবসা আর হয়না। এখন বিয়ের কার্ড বিক্রি হয়। তিনি আরো বলেন, ইন্টারনেট এসে আমাদের কার্ডের ব্যবসা শেষ। পাশের দোকানের বিক্রেতা মো. শহিদ বলেন, রোজার মাসে কার্ডের কেনাবেচা ভালো। বিয়ের কার্ডের অর্ডার ভালো। ঈদ কার্ডের ব্যবসা কম।
কার্ডের মূল্য সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে কোয়ালিটি অনুযায়ী বিভিন্ন মূল্যের কার্ড পাওয়া যায়। হালখাতার কার্ডগুলো এক টাকা পিস থেকে শুরু করে পাওয়া যায়। বিয়ের কার্ড থেকে ১০০ পিস ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন মূল্যের পাওয়া যায়। তিনি জানান, এখানে দুই থেকে তিন হাজার টাকা মূল্যের কার্ডও পাওয়া যায়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ