ঈদ শেষে ফিরতি যাত্রায় ব্যাপক ভোগান্তিতে উত্তরের মানুষ

আপডেট: জুন ১২, ২০১৯, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


নগরীর ঢাকা টার্মিনালে বাসের অপেক্ষায় যাত্রীরা-সোনার দেশ

ঈদ শেষে ফিরতি যাত্রায় ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েছেন উত্তরাঞ্চলের মানুষ। উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলার যাত্রীদেরই ঢাকা যেতে ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। দীর্ঘ যানজট, যাত্রীবোঝাই গাড়িতে গাদাগাদি করে যেতে তো হচ্ছেই, এমনকি গুণতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়াও। এই ভোগান্তিতে পোহাতে হচ্ছে ট্রেন ও বাসের যাত্রীদের। বলা যায়, বাস ও ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। অনেকে এই তীব্র ভোগান্তির কারণে পরিবার-পরিজনকে রেখেই ঢাকা যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
বিশেষ করে ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। গতকাল রাজশাহী-ঢাকা, রংপুর-ঢাকা, নীলফামারী-ঢাকাসহ উত্তরাঞ্চলের সব রুটেই ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। গতকাল সকালে সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনটি দেড় ঘণ্টা দেরিতে রাজশাহী থেকে ছেড়ে গেছে। এতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়েন ট্রেন যাত্রীরা। এর আগের দিনও রাজশাহী স্টেশন থেকে সকালে সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনটি ছেড়ে যায় আড়াই ঘণ্টা দেরিতে। বিকেলে পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনটি ছেড়ে যায় দেড় ঘণ্টা দেরি করে বিকেল সাড়ে ৫টায়। রাতে ভোগান্তি আরও চরমে পৌঁছায়। ধূমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেনটি রাজশাহীতে পৌঁছার কথা রাত সাড়ে ১০টায়। কিন্তু সেটি পৌঁছে রাত পৌনে ২টার সময়। এরপর ঢাকার উদ্দেশে ছাড়ে রাত ৩টা ৫ মিনিটে।
বিশেষ করে রাতে স্টেশনে ৪ ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করতে গিয়ে যাত্রীদের ব্যাপক ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়। বসার জায়গা না পেয়ে দাঁড়িয়ে থেকে অপেক্ষা করতে হয় শত শত যাত্রীকে। এদের মধ্যে অনেকে ক্লান্ত শরীর নিয়ে প্লাটফর্মে ঘুমিয়ে পড়তেও দেখা যায়। তবে এর মধ্যে একমাত্র বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনটিই নির্দিষ্ট সময়ে ছেড়ে যাচ্ছে।
এদিকে উত্তরাঞ্চলের সৈয়দপুর, নীলফামারী ও রংপুর থেকে ঢাকাগামী দ্রুতযান এক্সপ্রেস, নীল সাগর ও রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনেও শিডিউল বিপর্যয় দেখা গেছে। এসব ট্রেনের কোনো কোনোটা কয়েক ঘণ্টা দেরিতে পৌঁছেছে।
এর মধ্যে একটা ট্রেন হচ্ছে দ্রুতযান এক্সপ্রেস। ট্রেনটি আড়াইটার সময় নাটোর রেলস্টেশনে পৌঁছার কথা থাকলেও তিনঘণ্টা লেট করে সাড়ে ৫টায় পৌঁছায়। সেই ট্রেনের যাত্রীর তোফাজ্জল হোসেনের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তিনি জানান, তিনি নাটোর খাজুরা গ্রাম থেকে ঈদ শেষে তার কর্মস্থল নারায়ণগঞ্জে যাওয়ার জন্য রওয়ানা দিয়েছেন। কিন্তু ট্রেনে এত ভিড় যে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে উঠতেই পারেন নি। পরে বাধ্য হয়ে বেশি ভাড়া দিয়ে বাসে রওয়ানা দিই।
রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের সুপারিনটেনডেন্ট আবদুল করিম জানান, রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী সব ট্রেন দেরিতে ছেড়েছে। প্রতিটা ট্রেনেই যাত্রী বোঝাই করে দেড় থেকে সাড়ে ৪ ঘণ্টা পর রাজশাহী থেকে ঢাকা যাচ্ছে। লাইনের ধীর গতি এবং বাড়তিচাপে যাত্রীদের স্টেশনে নামতে দেরি হচ্ছে। তাই এ শিডিউল বিপর্যয়। ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় কাটতে আগামি ১৫ তারিখ পর্যন্ত লেগে যেতে পারে বলে জানান তিনি।
এদিকে লোকাল বাসের সোমবার রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন ও শিরোইল ঢাকা বাসস্ট্যান্ড ও ভদ্রা বাস কাউন্টারে চেনা দৃশ্য পাল্টে যায় রাতে।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়কে কাজে লাগিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে বেশি ভাড়া আদায় করছে লোকাল বাসগুলো। বেশি ভাড়া দিয়েও ভোগান্তির কমতি ছিলো না বাসগুলোতে। অনেকেই ফিরে গেছেন বাড়িতে আবার অনেকেই কর্মক্ষেত্রের তাগিদে ভোগান্তি মাথায় নিয়েই যাত্রা শুরু করেছেন লোকাল বাসে।
দেখা যায়, রাজশাহী ছাড়াও নওগাঁ এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের যাত্রীদের ঢাকা যেতে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। যাত্রীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ফিটনেসবিহীন লোকাল বাসে চেপে বসেছেন। এমনকি বাসের ছাদে ও বাসের ভিতরে গাদাগাদি করেও যাত্রী নিতে দেখা গেছে। তবে এসব বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।
যাত্রীদের অভিযোগ সকাল থেকে রাতে ভাড়া বেশি নিলেও অতিরিক্ত বোঝাই করে যাত্রী নিচ্ছে লোকাল বাসের কর্মচারীরা। এদিনে রাতে সিটে বসে গেলে ৭০০ টাকা, ইঞ্জিন কভারে বসে গেলে ৫৫০ টাকা, দাঁড়িয়ে গেলে ৪৫০ এমনকি ছাদে চড়ে যাওয়ার জন্য নেয়া হচ্ছে ৩৫০ টাকা করে। অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে আনেকেই ফিরে গেছেন বাড়িতে।
রাজশাহী মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন পরিচালিত চেকপোস্টে থাকা মোহাম্মদ মোমিন জানান, ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় থাকায় যাত্রীদের বাড়তি চাপ আছে। বাসের ছাদেও যাত্রী পরিবহন করতে না দিলেও মানুষ তা মানছে না জীবনের ঝুঁকি নিয়েই তারা যাচ্ছেন। তবে সকাল থেকে বাসের চাহিদা বেশি থাকায় লোকাল বাসের সংখ্যা বেড়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ