ঈদ হোক সম্পূর্ণতায় সৌহার্দ-সম্প্রীতির

আপডেট: জুন ৪, ২০১৯, ১:১৪ পূর্বাহ্ণ

মুসলমানদের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। উৎসবে সামিল হতে সকল প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে ইতোমধ্যে। এখন শুধু সময়ের ব্যাপার, চাঁদ দেখার অপেক্ষায় মুসলিম উম্মাহ। আজ মঙ্গলবার শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে পরদিন বুধবার হবে ঈদুল-ফিতর।
ঈদ মানেই আনন্দ। আবার ঈদের দিনেই আনন্দ- বিষয়টি তেমন নয়- ঈদের সাথে পারস্পরিক সম্পর্ক, সৌহার্দ ও ভ্রাতৃত্বের বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আনন্দ বণ্টনের উৎসব এটিÑ সৌহার্দ, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ব বণ্টনের উৎসব। ধনী-নির্ধন এই উৎসবে সামিল হওয়ার আদর্শই উজ্জীবিত-উদ্ভাসিত হয় ঈদের মাহাত্ম্য। সমাজে যারা অর্থনৈতিকভাবে সামর্থবান-সক্ষম তাদেরই দায়িত্ব বর্তায় নির্ধন-দরিদ্র যারা তাদের মধ্যে ঈদ উৎসবের পরিপূর্ণ আনন্দকে সঞ্চারিত করা। ঈদ আনন্দের পূর্ণতা এখানেই। ইসলাম ধর্ম শুধু মসজিদে এক কাতারে নামাজ পড়ার ঐক্যই নয়- নামাজ শেষে বাড়িতে গিয়ে যাতে হাড়ির ঐক্য ( খাদ্য নিরাপত্তা) সৃষ্টি হয় সেই শিক্ষাও দিয়ে থাকে। সাম্য, সৌহার্দ ও ভ্রাতৃত্বের উদাহরণ ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ জীবনে প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে ঈদের প্রকৃত আনন্দ ও মূল্যবোধ অস্বীকৃত থেকে যায়। ইসলাম শান্তির ধর্ম। আর সৌহার্দ, সম্প্রীতি ছাড়া শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয় নাÑ এটাই ইসলামেরই শিক্ষা।
এক মাস সিয়াম সাধনার পর মানুষের মধ্যেকার পাশবিক বৃত্তিগুলোকে উৎপাটন করে শরীর ও আত্মার যে শুদ্ধতার প্রত্যয় ব্যক্ত হয় তাতে ধৈর্য্য, সংনশীলতা, দরিদ্র ও প্রতিবেশিদের প্রতি কর্তব্য-কাজের দায়বোধ তৈরি হয়। অর্থাৎ মুসলমান হিসেবে নাগরিক ও সামাজিক দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে না। আমাদের চিন্তা ও বিশ্বাসের বিশুদ্ধতার মধ্যেই ঈদের প্রকৃতি আনন্দ। মানবিক মূল্যবোধ উদ্ভাসিত হবে। ঈদের আনন্দকে সমাজের প্রতিটি স্তরে সমানভাবে ছড়িয়ে দিতে না পারলে আধ্যাত্মিক ও পার্থিব জগতের আনন্দ সম্পূর্ণতা পায় না। সবার সঙ্গে আনন্দের সবটুকু ভাগ করে নেয়ার মধ্য দিয়েই ঈদ উৎসবের পূর্ণতা অর্জন করা সম্ভব হয়।
আমরা জানি রক্তপথে, হিংসা ছড়ায়ে বিশ্বে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়নি। যারা হিংসা বিদ্বেষ, হত্যার মধ্য দিয়ে ধর্ম প্রতিষ্ঠা করতে চায়- তারা ইসলামের শত্রু। তারা ধর্মের অবমাননা করছে, সারা বিশ্বের মুসলমানের সম্মান ও মর্যাদার ক্ষতি করছে। বিশ্বের অন্য ধর্মাবলম্বীদের কাছে হেয় করে তোলা হচ্ছে। ধর্মের এই শত্রুদের বিরুদ্ধে মুসলিমদেরই ঐক্যের শপথ নেয়ার দিনও হোক এবারের ঈদ-উৎসব।
ঈদের ছুটির দিনগুলোতে অনেক আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা ফাঁকা হয়ে যায়। নাড়ির টানে ফিরে যায় মানুষ যে যার গন্তব্যে, শেকড়-উৎসে। সমাজের দুষ্ট লোকেরা এর সুযোগ নিয়ে থাকে। সে ব্যাপারে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সজাগ থাকতে হবে, যাতে করে অপরাধীরা অপরাধ সংগঠনের সুযোগ না পায়। ঈদ ফেরত লোকেরা তাদের বাড়ি ঘর যে অবস্থায় রেখে গেছেন, ফিরে যেন তা-ই পান। সরকারি হাসপাতাল গুলোতে বিশেষ ব্যবস্থা রাখতে হবে। যাতে করে জরুরি চিকিৎসা ব্যাহত না হয়। ঈদের শিক্ষা শুধু একদিন নয় বছরের প্রতিটি দিনেই এই শিক্ষাকে আমাদের কর্মজীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখতে হবে। ঈদের আনন্দ উৎসবে আমাদের পাঠক, বিজ্ঞাপনদাতা ও শুভানুধায়ীদের জানাই ঈদ মোবারক, ঈদের শুভেচ্ছা। কামনা করি সবার ঈদ কাটুক উৎসাহ উদ্দীপনা, পরস্পর সৌহার্দ -ভ্রাতৃত্ব ও আনন্দের মধ্য দিয়ে। ঈদ হোক সবার জন্য।
ঈদ মোবারক

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ