ঈশ্বরদীতে কেন্দ্রীয় নির্দেশ উপেক্ষা করে শ্রমিকলীগের সম্মেলন !

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৯, ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি


কেন্দ্রীয় নির্দেশ উপেক্ষা করে জাতীয় শ্রমিক লীগ ঈশ্বরদী আঞ্চলিক শাখার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার নির্ধারিত দিনেই পাবনার ঈশ্বরদী শহরের স্টেশন সড়কে দলীয় কার্যালয়ে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ ১৩ বছর পর অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাংশের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
গতকাল সাড়ে ১১টার দিকে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে সম্মেলন উদ্বোধন করা হয়। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবনা জেলা আ’লীগের সভাপতি ও সাবেক ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ এমপি। তিনি বক্তব্যে বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার রাষ্ট্রায়ত্ব সকল কারখানা বন্ধ করে দেয়। ফলে হাজার শ্রমিক-কর্মচারী বেকার হয়ে পড়ে। কিন্তু শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে শ্রমিক-কর্মচারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতীয় শ্রমিক লীগ ঈশ্বরদী আঞ্চলিক শাখার সম্মেলনে সকল শ্রমিক সংগঠন ও ইউনিটের নেতাকর্মীরা উপস্থিত রয়েছে। তাই সকলের মতামতের ভিত্তিতে জাতীয় শ্রমিক লীগের কমিটি গঠন করতে হবে। শ্রমিক লীগ ঈশ্বরদী আঞ্চলিক শাখার সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে সম্মেলন পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম হোসেন।
সম্মেলনের সভাস্থলে স্থানীয় নেতাদের মধ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নায়েব আলী বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক মকলেছুর রহমান মিন্টু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুস সালাম খান, মুলাডুলি আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন মিঠু, সাহাপুর ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আতিয়ার রহমান ভোলা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
অপরদিকে স্থানীয় আ’লীগের একাংশের নেতা পৌর মেয়র ও আ’লীগ সভাপতি আবুল কালাম আজাদ মিন্টু, উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান বিশ্বাস, বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনের আলোচিত স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা রফিকুল ইসলাম লিটন ও পৌর আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ইছাহক আলী মালিথাসহ আ’লীগের একাধিক অংশের অনেকেই সম্মেলনে ছিলেন না।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২ বছর পর পর শ্রমিক লীগের সম্মেলন হওয়ার নিয়ম থাকলেও গত ১৩ বছর ঈশ্বরদী আঞ্চলিক শাখার সম্মেলন হয়নি। সর্বশেষ গত ২০০৬ সালে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, এর পর গত ১৩ বছর সম্মেলন হয়নি, এরই মধ্যে সম্মেলন করার জন্য দু’দফায় কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তারপরও যথাসময়ে সম্মেলন করা সম্ভব হয়নি। এবার কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশনা অনুযায়ী সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পর অনিবার্য কারণবশত: গত মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় কমিটি থেকেই এই সম্মেলন স্থগিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, একদিকে দলীয় গ্রুপিং অন্যদিকে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকার বিরোধিতাকারিদের নিয়ে এই সম্মেলন আয়োজন করায় শ্রমিকলীগ ও আওয়ামী লীগের বিরাট একটি অংশ বিষয়টি শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিকে অবহিত করেন। এসব নানা কারনে সম্মেলন স্থগিত করা হয় বলে জানান ঈশ্বরদীর বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ ও শ্রমিক লীগ নেতারা।
ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইছাহক আলী মালিথা অভিযোগ করে বলেন, ঈশ্বরদীতে সাবেক ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ এমপির সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম লিটনসহ বড় একটি অংশের গ্রুপিং থাকার কারণে এই সম্মেলনে ঈশ্বরদীর বেশিরভাগ নেতা-কর্মীদের বাদ রেখে এবং বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে শেখ হাসিনার নির্দেশ অমান্য করে নৌকার বিরোধীতাকারি নেতাদের নিয়ে এই সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছিল। তাই বিষয়টি তারা সহজভাবে মেনে নিতে পারেননি বলে লিখিত ও মৌখিক ভাবে কেন্দ্রীয় শ্রমিক লীগের নেতাদের অবহিত করেন। তারা অভিযোগটি তদন্ত করে সত্যতা পেয়ে সম্মেলন স্থগিতের নির্দেশ দিয়ে চিঠি পাঠান।
এদিকে কেন্দ্রীয় নির্দেশ অমান্য করে সম্মেলন করার বিষয়ে জাতীয় শ্রমিক লীগ ঈশ্বরদী আঞ্চলিক শাখার সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহীম হোসেন জানান, সম্মেলন আয়োজন করার জন্য কেন্দ্র থেকে বার বার বলার পর আমরা সকল আয়োজন সম্পন্ন করেছি। এখন ‘হঠাৎ’ করেই সম্মেলন স্থগিত করার নির্দেশনা আশায় দলের হাজার হাজার নেতাকর্মীরা বিষয়টি ভালভাবে মেনে নিতে পারেনি। তাই আমাদের প্রিয় নেতা স্থানীয় এমপি ও সাবেক মন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলু ভাইয়ের নির্দেশে আমরা আজ ৫ সেপ্টেম্বর সম্মেলন করেছি। তিনি আরো বলেন, কেন্দ্রের সঙ্গে আমাদের কোন বিরোধ নাই। আমরা সম্মেলন করবো। তারা বৈধতা দিলে ভাল, না দিলে সম্মেলন আবার করবো।
জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, অনিবার্য কারণ বশতঃ ঈশ্বরদী আঞ্চলিক শাখা শ্রমিকলীগের সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। বিষয়টি পাবনা জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি স্থানীয় এমপি শামসুর রহমান শরীফ ডিলুসহ স্থানীয় শ্রমিকলীগ নেতাদের চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপরও যদি তারা সম্মেলন করেন তাহলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য সম্মেলন সম্পন্ন করা হলেও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (গতকাল সন্ধ্য সাড়ে সাতটা) কমিটি গঠন করা হয়নি। জাতীয় শ্রমিকলীগ ঈশ্বরদী আঞ্চলিক শাখার সাধারণ বর্তমান সম্পাদক ইব্রাহীম হোসেন জানান, এমপি সাহেব ঢাকায় গিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে ফেরার পর কমিটি ঘোষণা করবেন।