ঈশ্বরদীতে ছাত্রকে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠালেন শিক্ষক

আপডেট: এপ্রিল ৮, ২০১৭, ১:০১ পূর্বাহ্ণ

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি


ঈশ্বরদীতে শিক্ষকের নির্যাতনে আহত শিক্ষার্থী শাহরিয়ার হোসেন রায়হান- সোনার দেশ

ঈশ্বরদীতে ‘দুষ্টুমি’ করার সন্দেহে শ্রেণিকক্ষে এক শিশু শিক্ষার্থীকে জোড়া বেত দিয়ে পিটিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করেছেন এক শিক্ষক। আহত শিক্ষার্থীর নাম শাহরিয়ার হোসেন রায়হান, সে পাবনার ঈশ্বরদীর জয়নগর পিজিসিবি উচ্ছ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্র এবং পল্লী বিদ্যুতের লাইনম্যান ওয়াহেদুজ্জামানের ছেলে। নির্যাতনের পর শিশুটি অজ্ঞান হয়ে পড়ে, আহত অবস্থায় তাকে ঈশ্বরদী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে শিশুটি ভয়ে আতঙ্কে নির্বাক হয়ে পড়েছে, সে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকলেও কোন কথা বলছেনা। গত বৃহস্পতিবার স্কুল ছুটির আগে এ ঘটনা ঘটে।
শিশুটির বাবা ওয়াহেদুজ্জামান জানান, তার ছেলেকে পিটিয়ে আহত করার পর থেকে তিনি ভয়ে আতঙ্কে কাউকে কিছু জানাননি, স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে জানানোর পরও তিনি কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় গতকাল শুক্রবার সকালে তিনি সাংবাদিকদের নিকট বিষয়টি জানান।
আহত শিশুটির বাবা ওয়াহেদুজ্জামান ও স্কুলের শারিরিক শিক্ষক নূর আহমেদ জানান, বৃহস্পতিবার শেষ ক্লাসে ৭ম শ্রেণির কক্ষে কয়েকজন ছাত্ররা দুস্টুমি করছিল, ছাত্র শাহরিয়ার হোসেন রায়হানও তাদের পাশে বসেছিল। এসময় বাংলা বিষয়ের শিক্ষিকা নিলুফা ইয়াসমিন সন্দেহ করে তাকে শ্রেণি কক্ষের ভেতরে ধরে জোড়া বেত দিয়ে অমানুষিকভাবে শরীরের বিভিন্ন স্থানে পেটায়। প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানায়, কয়েক মিনিট ধরে তাকে নির্দয়ভাবে পেটানোর পর রায়হান মাটিতে পড়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। সহপাঠিরা ধরাধরি করে তাকে তার বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর ঈশ্বরদী হাসপাতালে ভর্তি করা হয় রায়হানকে। হাসপাতালে ভর্তি করার পর রাত ৯টার দিকে তার জ্ঞান ফিরলেও সে কথা বলতে পারছিল না। হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় শিশুটি নির্বাক হয়ে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে আছে, ভয়ে সে কারো সঙ্গে কোন কথা বলছিল না। তার বাম হাতে, পিঠে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেতে আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। স্কুলের এক শিক্ষক জানান, স্কুল ছুটির পরপরই কয়েকজন ছাত্ররা তাকে এসে জানান, শ্রেণি কক্ষের পেছনের দিকের বেঞ্চে কয়েকজন ছাত্র দুষ্টুমি করছিল কিন্তু রায়হান কোন দুষ্টুমি করে নি, অথচ তাকে পিটিয়ে আহত করেছেন শিক্ষকা নিলুফা ইয়াসমিন।
ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শফিকুল ইসলাম শামিম জানান, ছেলেটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখে মনে হয়েছে তাকে খুব জোরে আঘাত করা হয়েছে, এই আঘাতের কারনে সে মানসিকভাবেও অসুস্থ হয়ে যেতে পারে।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক শহীদুল ইসলাম জানান, আমি ছুটিতে ছিলাম। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন এ বিষয়ে শনিবার স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির জরুরী সভা আহ্বান করা হয়েছে, ওই সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সেলিম আক্তার এ বিষয়ে বলেন, কোন শিক্ষার্থীকে নির্যাতন করা দণ্ডনীয় অপরাধ, এ ব্যাপারে আগামী রোববার সরেজমিন তদন্ত করে অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জয়নগর পাওয়ার গ্রীড কোম্পানী অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি)’র তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কে.এম. কামরুজ্জামান জানান, ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে আগামী সোমবারের মধ্যে পিজিসিবির প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হবে। শিক্ষিকা নিলুফা ইয়াসমিন আহত ছাত্রকে ঈশ্বরদী হাসপাতালে দেখতে এসে বলেন, “অন্যান্য শিক্ষকরাওতো স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের পেটায়, আমি শাহরিয়ার হোসেন রায়হানকে শাষন করতে গিয়ে মারপিট করেছি তবে অন্য শিক্ষকদের তুলনায় কমই মেরেছি।”

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ