ঈশ্বরদীতে দুই ভাইয়ের দ্বন্দের জের এক বিঘা জমির শিম গাছ কেটে বিনষ্ট

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৭, ১:০১ পূর্বাহ্ণ

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি


ঈশ্বরদীতে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে রাতের আঁধারে ডা. আবদুল মজিদ নামের এক ব্যক্তির ১ বিঘা জমির ফলন্ত শিম গাছ কেটে নষ্ট করেছে তারই আপন বড় ভাই জামায়াত নেতা আবু হানিফ মল্লিক গং। গত শনিবার দিবাগত গভীর রাতে ঈশ্বরদী উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের লক্ষীকোলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী জানায়, লক্ষীকোলা গ্রামের আবদুুল মজিদ ডাক্তারের সঙ্গে তারই আপন ভাই হানিফ মল্লিকের দীর্ঘদিন থেকে বিরোধ চলে আসছিল। এরই সুত্র ধরে গত শনিবার রাতে জামায়াত নেতা আবু হানিফ মল্লিকের নেতৃত্বে গফুর মল্লিক, আনারুল মল্লিক, শহিদুল মল্লিক ও মানিক মল্লিক একত্রিত হয়ে রাতের আঁধারে আবদুুল মজিদ ডাক্তারের এক বিঘা জমির ফলন্ত শিম গাছ কেটে নষ্ট করে দেয়। ক্ষতিগ্রস্ত মজিদ ডাক্তার ওই ঘটনার বিচার চেয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুুল আজিজের শরাপন্ন হলে তিনি সঙ্গে সঙ্গে অভিযুক্ত হানিফ মল্লিককে ধরে বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা করেন। গতকাল রোববার সকাল ৯টার সময় স্থানীয় একটি দোকানে হানিফ মল্লিককে বসিয়ে রেখে অভিযুক্ত অন্যদের ডেকে আনতে গেলে বাধে বিপত্তি। তারা লাঠি-সোটা নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মজিদ ডাক্তারসহ অন্যদের মারতে আসে। সে সময় পার্শ্ববর্তী শাহ্ আলম (৪৫) নামের এক ব্যক্তি তাদের রোষানলে পড়ে। তাকে লাঠি ও ইট দিয়ে মেরে গুরুতর আহত করা হয়। এ ঘটনায় আহত শাহ্ আলমের ভাই আ’লীগ নেতা নুরুল ইসলাম নুরু এগিয়ে গেলে তাকেও লক্ষ করে ইট-পাটকেল ছুঁড়ে আহত করে আবু হানিফ মল্লিক গং। আহতদের উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে ঈশ্বরদী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে গফুর মল্লিক ও শহিদুল মল্লিককে আটক করলেও পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। অন্যরা পলাতক রয়েছে।
এবিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুল আজিজ জানান, দীর্ঘদিন থেকে তাদের দুই ভাইদের মধ্যে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এর আগেও এরকম শিম গাছ কর্তনের ঘটনা ঘটিয়েছিল হানিফ মল্লিক। এবারও সে একই রকম ঘটনা ঘটিয়েছে, যা সত্যিই নিন্দনীয়। এবিষয়ে ঈশ্বরদী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।