ঈশ্বরদীতে ‘নিরাপদ গরু’র দিকে নজর ক্রেতাদের

আপডেট: আগস্ট ৯, ২০১৯, ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ

সেলিম সরদার, ঈশ্বরদী


ঈশ্বরদীর অরণকোলা পশু হাট-সোনার দেশ

এবার ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বড় পশুর হাট ঈশ্বরদীর অরনকোলা হাটে ‘নিরাপদ’ গরুর প্রতি ক্রেতাদের বিশেষ নজর পড়েছে। ঈশ্বরদীর বিভিন্ন গ্রামের বাড়িতে বাড়িতে গরু মোটাতাজা করণ পদ্ধতিতে পশু পালন না করে পারিবারিক পরিবেশে দেশিয় সনাতন পদ্ধতিতে কৃষকরা লালন পালন করেছেন দেশি গরু। ঈশ্বরদীর অরণকোলা পশু হাটে এবার এই স্থানীয় জাতের দেশি ‘নিরাপদ গরু’র প্রতি ক্রেতারাও ঝুঁকেছেন। হাটে গিয়ে ক্রেতারা গরু কেনার পর স্টেরয়েড খাওয়ানো কিনা তা পরীক্ষা করে ‘স্টেরয়েড ফ্রি’ গরু কিনে হাসিমুখে বাড়ি ফিরছেন। ঈশ্বরদীর এই হাটে ঈদ উপলক্ষ্যে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের মেডিকেল টিমের উপস্থিতির কারণে এবার কোরবানির পশু কিনতে অজানা শঙ্কায় পড়তে হচ্ছেনা ক্রেতাদের। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের চিকিৎসকরা প্রতিটি হাটেই উপস্থিত থাকছেন। তারা দৈবচয়ন পদ্ধতিতে গরুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে দেখছেন। গরুগুলোকে ক্ষতিকর স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ খাইয়ে মোটাতাজা করা হয়েছে কি না বা সেগুলো অসুস্থ কি না তা পরীক্ষা করছেন। গত মঙ্গলবার এই হাটে গিয়ে দেখা যায়, মাঝে মধ্যেই ক্রেতারা মেডিকেল টিমের সদস্যদের ডেকে নিয়ে পছন্দের গরুটি পরীক্ষা করিয়ে নিচ্ছেন। গরু কেনার পর রফিকুল ইসলাম নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘স্টেরয়েড খাওয়ানো গরু কিনা তা নিয়ে আশঙ্কায় ছিলাম। তাই হাটে গিয়ে গরুর দাম চূড়ান্ত করে মেডিকেল টিমের সদস্যদের কাছে দেখিয়েছি। তারা নানাভাবে পরীক্ষা করে গরুটিকে সুস্থ ও নিরাপদ বলেছেন।
টিমের ভেটরনারি সার্জন ডা. তানজিলা ফেরদৌসী বলেন, ‘স্টেরয়েড খাওয়ালে গরুর কোষগুলো অতিরিক্ত পানি ধরে রাখায় সেগুলো মোটা ও মাংসল মনে হয়। গরুর পেছনের অংশে মাংসের পরিমাণ বেশি মনে হয় ও কিছুটা ঝুলে থাকে। ভালোমতো লক্ষ্য করলে স্বাভাবিক ও স্টেরয়েড খাওয়ানো গরুকে আরও কয়েকটি লক্ষণের মাধ্যমে পৃথক করা যায়।’
ঈশ্বরদী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মেডিকেল টিমের সদস্য হয়ে আমিও হাটে গিয়ে পরীক্ষা করেছি। এখন পর্যন্ত স্টেরয়েড খাওয়ানো গরুর অস্তিত্ব পাইনি। এবার আমরা কৃত্রিম উপায়ে গরু মোটাতাজা করার বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছি। যেসব ওষুধের দোকানে স্টেরয়েড-জাতীয় উপাদান বিক্রির অভিযোগ ছিল, সেগুলো কড়া নজরদারিতে রেখেছিলাম। ফলে মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধির কারণে এবার কৃত্রিম উপায়ে গরু মোটাতাজাকরণ শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।’
অরণকোলা পশু হাটের ইজারাদার মিজানুর রহমান রুনু মন্ডল বলেন, এবার কৃষক ও খামারিরা খাবারের সঙ্গে ক্ষতিকর স্টেরয়েড দিয়ে গরু মোটাতাজা করেন নি বললেই চলে। এর পরও মেডিকেল টিমের সদস্যরা হাটে উপস্থিত থাকায় ক্রেতারা শতভাগ আস্থা নিয়ে গরু কিনছেন।