বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

ঈশ্বরদীতে যুবলীগ নেতার বাড়িতে প্রতিপক্ষের হামলা

আপডেট: November 27, 2019, 12:57 am

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি


ঈশ্বরদীতে ওয়ার্ড যুবলীগের দুই নেতার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর এবং একজন সাধারণ পথচারীকে প্রতিপক্ষের লোক বলে সন্দেহ করে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার ঘটনা ঘটেছে। এসময় সিপিবির বর্ষিয়ান নেতা প্রয়াত কমরেড জসিম মন্ডলের বাড়ির দরজা-জানালা ভাঙচুর করে যুবলীগের ক্যাডাররা। গত সোমবার রাত ৮টার দিকে ঈশ্বরদী পৌর এলাকার পশ্চিম টেংরি বিমানবন্দর রোডে এ ঘটনা ঘটে। যুবলীগ কর্মীদের হামলায় আহত পথচারীর নাম মাসুদ রানা, তিনি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের ম্যানেজার ও সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত। মাসুদ রানা রাজশাহীর বাগমারা এলাকার মোকলেছুর রহমানের ছেলে, রূপপুর প্রকল্পে চাকরির কারণে তিনি ঈশ্বরদীর পশ্চিমটেংরি এলাকায় ভাড়া থাকেন। ঘটনার সময় তিনি কর্মস্থল থেকে ফিরে রাতের খাবার শেষে রাস্তায় হাঁটাহাঁটি করছিলেন।
স্থানীয় সূত্র, ঈশ্বরদী থানা পুলিশ ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ক্যারমবোর্ড খেলা নিয়ে ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নাজিম ও সহ-সাধারণ সম্পাদক সুমন মন্ডলের মধ্যে পূর্বে বিরোধ ছিল। সে বিরোধের জের ধরে নাজিম ও তার ক্যাডাররা সোমবার রাত ৮টার দিকে সুমন মন্ডলের বাড়িতে হামলা করে। এসময় সুমন বাড়িতে না থাকায় তারা ক্ষুব্ধ হয়ে সুমনের দাদা প্রয়াত কমরেড জনিম মন্ডলের বাড়ির দরজা-জানালা ভাঙচুর করে। এ ঘটনার সময় ওই বাড়ির সামনের রাস্তা দিয়ে বাসায় ফিরছিলেন রূপপুর প্রকল্পের কর্মকর্তা মাসুদ রানা। হামলাকারিরা তাকে সুমন মন্ডলের লোক মনে করে ক্রিকেটের স্ট্যাম্প ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে রাস্তায় ফেলে দেয়। কিছুক্ষণ পরে স্থানীয় লোকজন ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে ঈশ্বরদী থানার ওসিসহ পুলিশ ঘটনাস্থলে ও হাসপাতালে গিয়ে আহত কর্মকর্তার খোঁজ খবর নেন। আহত ওই কর্মকর্তার অবস্থার অবনতি হলে রাত ১১ টার দিকে তাকে মূমুর্ষ অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে এ ঘটনায় প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা রবিউল আলমের স্ত্রী হোসনে আরা বাদী হয়ে বাড়ি ভাঙচুর করার অভিযোগে ঈশ্বরদী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন, পুলিশ মেহেদী হাসান নামের এক যুবলীগ কর্মীকে গ্রেফতার করেছে।
ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বাহাউদ্দীন ফারুকী, ওসি তদন্ত অরবিন্দ সরকার এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, মামলা রেকর্ড করা হয়েছে, অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতার করার চেষ্টা চলছে।
ঈশ্বরদী পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম লিটন এ বিষয়ে বলেন, ওয়ার্ড যুবলীগের এই দুই জনের মধ্যে পূর্ব বিরোধ ও দ্বন্দ্ব রয়েছে, তবে বাড়িতে হামলা ভাঙচুর ও নিরপরাধ পথচারীকে মারধর করে তারা অন্যায় করেছে, আমরা তাদের ব্যাপারে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবো। গ্রেফতার যুবলীগ কর্মী মেহেদী হাসান পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, মাসুদ রানা নামের রূপপুর প্রকল্পের ওই কর্মকর্তাকে তারা না বুঝেই পিটিয়েছে।