ঈশ্বরদীতে সদ্য বিবাহিতা কলেজ ছাত্রীর পর্নোগ্রাফি ইন্টারনেটে || ১২ যুবক গ্রেফতার

আপডেট: নভেম্বর ১২, ২০১৯, ১:১৫ পূর্বাহ্ণ

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি


ঈশ্বরদীতে সদ্য বিবাহত এক কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণের পর গোপনে মোবাইলে ধারণ করা ৫ মাস আগের পর্নোগ্রাফি ছবি ও ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ায় নতুন সংসার ভাঙতে বসেছে ওই নববধূর। ইতোমধ্যে ইন্টারনেটে এসব ভিডিও ও ছবি দেখার পর স্বামী তাকে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে। এদিকে এ ঘটনার মূল নায়ক বখাটে মেহেদী হাসানসহ তার ১২ জন বন্ধুকে গ্রেফতার করেছে ঈশ্বরদী থানা পুলিশ। গত শনিবার রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে এদের গ্রেফতার করে রোববার তাদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, পর্নোগ্রাফি ও ডিজিটাল আইনে মামলা নথিভুক্ত করে পাবনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্র জানায়, গত ৫ জুন বাড়ির সামনে একা পেয়ে প্রথমে ফুসলিয়ে ও পরে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ওই কলেজ ছাত্রীকে তুলে নিয়ে উপর্যুপরি ধর্ষণ করে মেহেদী হাসান। বন্ধুদের সহায়তায় গোপনে ওই ধর্ষণের পর্ণোছবি ও ভিডিও চিত্র বন্ধু রাজিবের কম্পিউটারে সংরক্ষণ করে রাখে। সম্প্রতি পারিবারিকভাবে ঈশ্বরদী পৌর এলাকার সাঁড়াগোপালপুর গ্রামে শাজাহান আলীর ছেলে শামিম হোসেনের সঙ্গে ওই কলেজ ছাত্রীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি প্রদর্শন করে পুনরায় তাকে কুপ্রস্তাব দিলে তার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বখাটে মেহেদী এসব পর্নোছবি ও ভিডিও তার কয়েকজন বন্ধুদের মাধ্যমে তার স্বামীর মোবাইলে এবং ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়। স্বামী শামিম হোসেন তার স্ত্রীর এসব পর্নোছবি দেখে কয়েক দিন আগে তাকে তার বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। গত শনিবার এ ঘটনা জানাজানি হলে নববধূর বাবা উপজেলার সাহাপুর পূর্বপাড়া গ্রামের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম ঈশ্বরদী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
পুলিশ ঘটনাটি আমলে নিয়ে রাতেই অভিযানে নামে। উপজেলার মহাদেবপুর, দিয়াড় সাহাপুর, সাহাপুর ও সাঁড়াগোপালপুর ইরকোন এলাকায় অভিযান চালিয়ে একে একে এ ঘটনায় জড়িত ১২ জনকেই গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলো সাহাপুর ইউনিয়নের মহাদেবপুর গ্রামের মানজুর রহমানের ছেলে মেহেদী হাসান (২২), রেজাউল মন্ডলের ছেলে রাজিব মন্ডল, আজিজুল ফকীরের ছেলে রাসেল (২০), দিয়াড় সাহাপুর গ্রামের মৃত আক্তার হোসেনের ছেলে রাব্বি হোসেন (২০), তরিকুল ইসলামের ছেলে শিহাব হোসেন (১৯), কেদু সাহের ছেলে শামিম হোসেন (২২), সোলাইমান হোসেনের ছেলে সৈকত হোসেন (২২), রাজ্জাক শেখের ছেলে রাজু আহমেদ (২০), সাহাপুর গ্রামের সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে শফিউল ইসলাম সালমান (২১), দেবেন মহলদারের ছেলে ইমন আলী (২১), সাঁড়াগোপালপুর নতুনপাড়ার ইরকোন এলাকার আশরাফুল ইসলামের ছেলে মো. আশিক (২১) ও মাহাবুল হোসেনের ছেলে মাহফুজ আহমেদ (২০)।
পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ঈশ্বরদী সার্কেল) মো. জহুরুল হক জানান, চলতি বছরের ১৮ আগস্ট শামিম হোসেনের সঙ্গে ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী বিয়ে হয় মেয়েটির। বিয়ের আগে থেকে ওই মেয়েকে বখাটে মেহেদী হাসান নানাভাবে উক্ত্যক্ত করতো। গত ৬ জুন বাড়ির সামনে একা পেয়ে অস্ত্রের মুখে তাকে জিম্মি করে উপর্যুপরি ধর্ষণ করে মেহেদী। মেরেয়টির বিয়ের পর সে এসব পর্নোছবি ও ভিডিও বন্ধুদের মাঝে আদান প্রদান করে।
ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বাহাউদ্দীন ফারুকী জানান, সদ্য বিবাহিত ওই গৃহবধূকে ধর্ষণ করার দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার কারণে ওই গৃহবধূর সংসার ভেঙে গেছে। এটি একটি সামাজিক অপরাধ। তাই অভিযোগ পেয়েই পুলিশ অভিযুক্ত ১২ জনকে গ্রেফতার করেছে। এ ব্যাপারে ৩ টি আইনের ধারা সংযোজন করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, পর্নোগ্রাফি ও ডিজিটাল আইনে মামলা নথিভুক্ত করে তাদের পাবনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ