ঈশ্বরদীতে স্ত্রীর অধিকার আদায়ে নির্যাতনের শিকার অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ

আপডেট: নভেম্বর ১২, ২০১৭, ১২:৫৭ পূর্বাহ্ণ

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি


স্ত্রীর অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে শশুর বাড়িতে এসে ঈশ্বরদীতে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ সুমি খাতুন (২০) তার আপন চাচা শশুরের হাতে অমানুষিক নির্যাতনের স্বীকার হয়েছেন। নির্যাতনের সময় তার হাত ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে সিগারেটের ছ্যাঁকা দেওয়াসহ তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছে চাচা শশুর আমিরুল ইসলামের ভাড়া করা তিন সন্ত্রসী।
নির্যাতনকারীদের মধ্যে রিয়েল ও মাসুদের নাম জানা গেলেও অন্যজনের নাম বলতে পারেনি কেউ। গতকাল শনিবার দুপুরে উদ্ধার করে ওই গৃহবধূকে মুমুর্ষ অবস্থায় পাবনা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গৃহবধূ সুমি জামালপুরের মৃত আবদুুর রাজ্জাকের মেয়ে। স্থানীয় গ্রামবাসী এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ হয়ে চাচা শশুর আমিরুল ইসলামকে বেধড়ক পিটিয়েছেন। খবর পেয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীকে শান্ত করে গৃহবধূ সুমি সুস্থ্য হওয়ার পর বিষয়টি মিমাংসা করবেন বলে জানিয়েছেন।
স্থানীয় এলাকাবাসী, আহত গৃহবধূ সুমি ও তার আরেক চাচা শশুর বকুল হোসেন জানান, প্রায় ১ বছর আগে ঈশ্বরদীর দিয়াড় সাহাপুর গ্রামের বাসিন্দা সৌদি আরব প্রবাসী বাচ্চু মিয়ার ছেলে রায়হানের সঙ্গে একা একা বিয়ে করে সুমি খাতুন। বিয়ের পর থেকে রায়হান ও সুমি লেখাপড়ার কারণে টাঙ্গাইলের শান্তিগঞ্জ মোড়ে একটি বাসা ভাড়া করে বসবাস করছিল। এদিকে মাস খানেক আগে রায়হানকে হঠাৎ তার বাবা-মা সৌদি আরবে নিয়ে গেলে বাসায় একা হয়ে পড়েন সুমি। আবার আগের স্বামীকে তালাক দিয়ে রায়হানের সঙ্গে দ্বিতীয় বিয়ে করার কারণে সুমি তার বাবার বাড়িতেও স্থান না পেয়ে গত বৃহস্পতিবার তার প্রবাসী স্বামীর কথামত তার শশুর বাড়ি ঈশ্বরদীর দিয়াড় সাহাপুরে আসেন।
সুমি জানায়, এখানে আসার পর বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে তার চাচা শশুর আমিরুল ইসলাম অপরিচিত ৩ জনকে সাথে নিয়ে তাকে ঘর থেকে টেনে হিঁচড়ে জোর করে মোটর সাইকেলে তুলে ঈশ্বরদী বাস টার্মিনালে নিয়ে যায়, রাস্তায় তাকে অমানুষিকভাবে শারিরিক নির্যাতন করে তারা। তার পেটের সন্তানকে নষ্ট করে দিতে পেটে লাথি মারলে তার প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়ে অসুস্থ্য হয়ে পড়ে সে। রাতে মুলাডুলিতে এক আত্মিয়ের বাড়িতে রেখে গত শুক্রবার তাকে সাহাপুরে নিয়ে এলে এলাকাবাসী ঘটনাটি টের পেয়ে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। গতকাল শনিবার এ ঘটনা শুনে এলাকার শত শত মানুষ ওই বাড়ির সামনে হাজির হয়। একপর্যায়ে আমিরুলকে পিটিয়ে আহত করার পর গ্রামে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে সাংবাদিকরা সেখানে গেলে এলাকাবাসী তাদের বিস্তারিত জানায়। এ বিষয়ে অভিযুক্ত আমিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা শিকার করে বলেন, এবাড়িতে সুমির স্বামী, শশুর-শাশুড়ি কেউ নেই, তারা সবাই সৌদি আরবে থাকে, তারা আগামী মাসে দেশে আসার পর বিষয়টির সমাধান হবে। উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন জানান, সুমি সুস্থ্য হওয়ার পর সমাধান নিয়ে কথা বলা হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ