ঈশ্বরদীতে হঠাৎ জ্বরের প্রকোপ, দুই জনের মৃত্যু

আপডেট: জুলাই ১০, ২০১৯, ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ

সেলিম সরদার, ঈশ্বরদী


হঠাৎ করেই ঈশ্বরদীজুড়ে জ্বর আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা হুহু করে বাড়ছে। ইতোমধ্যে মাত্র ৩ দিনে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মাঝ বয়সি দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও অন্যান্য চিকিৎসা সেবা কেন্দ্রে প্রতিদিনই জ্বরে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা আগের তুলনায় দ্বিগুন পরিমাণে বাড়ছে। চিকিৎসকরা এ জ্বরকে ইনফ্লুয়েঞ্জা ও মৌসুমী রোগ বলে মনে করছেন। হাইপাওয়ারের এন্টিবায়োটিক ওষুধ ছাড়া এ জ্বর কমছে না বলে জানান চিকিৎসকরা। জ্বরে চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন চিকিৎসকও জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন।
গতকাল মঙ্গলবার ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে এসব তথ্য জানা গেছে। জ্বরে আক্রান্ত হয়ে যে দুজনের মৃত্যু হয়েছে তারা হলেন, উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের নতুন রূপপুর গ্রামের বাসিন্দা স্বর্ণকলি বিদ্যাসদনের সঙ্গীত শিক্ষক রুহুল আমিন ইকবাল (৪৫) ও পৌর এলাকার পশ্চিমটেংরি এলাকার বাসিন্দা ফটোস্ট্যাট দোকানের মালিক রতন কুমার সরকার (৪৬)। এদের মধ্যে ইকবাল গত শুক্রবার ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং রতন শনিবার রাতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। স্বর্ণকলি বিদ্যাসদনের পরিচালক মনিরুল ইসলাম বাবু জানান, মৃত্যুর মাত্র তিন দিন আগে ইকবাল জ্বরে আক্রান্ত হন। ২ দিনেও জ্বর না কমায় তাকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থাতে তার মৃত্যু হয়। জ্বরে আক্রান্ত রতনের ভাই পার্থ কুমার জানান, সামান্য জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিল মনে করে প্রথমে তেমন গুরুত্ব না দিলেও ২ দিনের জ্বরে তার ভাই রতন কাহিল হয়ে পড়লে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে শনিবার রাতে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তার মৃত্যু হয়। এদিকে গত কয়েকদিন ধরে ঈশ্বরদী জুড়ে জ্বরের প্রকোপ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা। এই হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শফিকুল ইসলাম শামীম বলেন, আমি নিজেও গত দুই দিন ধরে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ অবস্থায় বাসায় রয়েছি। তিনি বলেন, হঠাৎ করেই ঈশ্বরদীতে জ্বরে আক্রান্ত রোগির সংখ্যা আগের চেয়ে দ্বিগুন পরিমাণ বেড়েছে। ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আসমা খান বলেন, প্রতিদিন ইমার্জেন্সিতে কমপক্ষে ২০-২৫ জন রোগি আসছেন জ্বরে আক্রান্ত হয়ে। জ্বরে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগির সংখ্যাও আগের চেয়ে বেশি বেড়েছে বলে জানান তিনি। জ্বরে আক্রান্তদের মধ্যে শিশুদের কাশি ও নিউমোনিয়ার প্রাদুর্ভাবও বেড়েছে। জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ইকবাল নামের এক ব্যক্তি ঈশ্বরদী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন বলে স্বীকার করে তিনি বলেন, জ্বরের শুরুতেই অবহেলা না করে হাসপাতালে নিয়ে এলে হয়ত তার মৃত্যু হতো না। জ্বর আক্রান্ত রোগিদের অবহেলা না করে দ্রুত হাসপাতালে অথবা নিকটস্থ স্বাস্থ্য সেবা ক্লিনিকে নেওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।