ঈশ্বরদীর ‘কুমড়া বড়ি’র খ্যাতি ছড়িয়েছে শহরেও

আপডেট: নভেম্বর ১০, ২০১৭, ১১:৩৯ অপরাহ্ণ

সেলিম সরদার, ঈশ্বরদী


কুমড়া বড়ি দিতে ব্যস্ত ঈশ্বরদীর সাঁড়াগোপালপুর গ্রামের দুই নারী-সোনার দেশ

শীতের শুরুতেই ঈশ্বরদীর গ্রাম ও শহরের বাড়িতে বাড়িতে শুরু হয়েছে শীতকালীন তরকারীর রসনা বিলাসের অন্যতম সুস্বাদু উপকরণ ‘কুমড়া বড়ি’ বানানোর ধুম। শীতকালীন সব ধরনের তরকারিতে বাড়তি স্বাদ আনয়নের জন্য কুমড়া বড়ির কদর এখন গ্রাম ছাড়িয়ে শহরেও সমাদৃত হয়ে সমভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
ঈশ্বরদীর প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই ধনী-গরীব নির্বিশেষে সব শ্রেণির মানুষেরই নিত্যদিনের ব্যঞ্জনে ব্যবহার হয় তরকারীর অতি প্রিয় অনুষঙ্গ কুমড়া বড়ি। পাকা ও পরিণত চালকুমড়া কুরে তার সাথে মাসকালাই কিংবা কালি কালাই বেঁটে পাঁচফোড়ন ও কালোজিরা দিয়ে বিশেষ কায়দায় তৈরি করা হয় এই কুমড়া বড়ি। কুমড়া বড়ি তৈরিতে বেশ পরিশ্রম ও ঝক্কি ঝামেলাও পোহাতে হয় বাড়ির ঝি-বউদের। আবার বড়ি তৈরির পর যদি তীব্র রোদ কিংবা তাপ না থাকে অথবা আকাশে মেঘ কিংবা ঘন কুয়াশা থাকে তাহলে হাড়ভাঙা খাটুনি আর দির্ঘ সময়ের পরিশ্রম সবই বৃথা যেতে পারে। কেননা বড়ি বানানোর পর যত দ্রুত তা রোদের তাপে শুকানো যায় ততই সুস্বাদু হয় এই কুমড়া বড়ি।
ঈশ্বরদীতে তৈরি কুমড়া বড়ি এখন গ্রামের বাড়ির আঙিনা ছেড়ে শহরে এমনকি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় বড় শহরগুলোর কাঁচা বাজারেও স্থান করে নিয়েছে। দেশের বাইরে থাকা অনেক প্রবাসীরাও দেশে এসে আবার প্রবাস জীবনে ফিরে যাওয়ার সময় সাথে করে নিয়ে যান মায়ের হাতে তৈরি কুমড়া বড়ি। ঈশ্বরদীর বিভিন্ন গ্রামে এখন মৌসুমি ব্যবসা হিসেবে কুমড়া বড়ি তৈরি ও বিক্রি করে জীবন জীবিকার জন্য বাড়তি আয়ের পথ হিসেবেও বেছে নিয়েছেন অনেকে। আবার সবজি উৎপাদনের জন্য ঈশ্বরদীর যেসব গ্রাম অনেক আগে থেকেই সারাদেশে সমাদৃত সেসব গ্রামের শত শত কৃষক চালকুমড়া পাকিয়ে বছরের এই সময়ে চড়া দামে বিক্রি করে বাড়তি লাভ করার পথ খুঁজে পেয়েছেন। বাংলা বছরের কার্তিক মাস থেকে শুরু হয়ে ফাল্গুন পর্যন্ত এই পাঁচ মাসের ব্যবসা কুমড়া বড়ি উৎপাদন ও বিপনন করে ইতোমধ্যে অভাবের সংসারে আলোর দেখা পেয়েছেন ঈশ্বরদীর সাহাপুর, দাশুড়িয়া, লক্ষীকুন্ডা, মুলাডুলি, পাকশী ও সাঁড়া ইউনিয়নের ২৩ টি গ্রামের ৪ হাজার দরিদ্র পরিবারের অন্ততঃ ২০ হাজার মানুষ। তবে এদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী। কুমড়া বড়ি তৈরি সাধারণত নারীরাই করে থাকে, ইদানিং কুমড়া বড়ি বিক্রিতে ভালো লাভ হওয়ায় কিছু কিছু পুরুষরাও এগিয়ে এসেছেন নারীদের সাথে সাথে।
সাঁড়া ইউনিয়নের আড়মবাড়িয়া গ্রামের সুলতান প্রামানিকের স্ত্রী সাজেদা খাতুন জানান, আগে বাড়িতে নিজেদের খাওয়ার জন্য কুমড়া বড়ি তৈরি করলেও এখন অর্ডার নিয়ে রিতিমত অর্ডার সাপ্ল¬াই দেন তিনি। পাক্শীর যুক্ততলা গ্রামের আলতাফুননেছা জানান, এই সময়ের সবজি আর মিঠা পানির নানান ধরনের মাছের সাথে তরকারির আলাদা স্বাদ এনে দিতে কুমড়া বড়ির তুলনা শুধু কুমড়া বড়িই। তবে ভর্তা বা অন্যান্য তরকারীতেও অনায়াসে এখন ব্যবহার হচ্ছে কুমড়া বড়ি।
গ্রামের বিভিন্ন হাট থেকে পাকা চাল কুমড়া ও মাস কালাই সংগ্রহ করে বাড়ির আঙিনায় বসে ছেলে-মেয়েদের সহযোগিতা নিয়ে তিনি তৈরি করেন কুমড়া বড়ি। বাণিজ্যিকভাবে কুমড়া বড়ি বিক্রেতা ঈশ্বরদীর চর সাহাপুর নতুন হাটের ব্যাপারী আজিজল হক জানান বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে বাড়ি বাড়ি থেকে কুমড়া বড়ি কিনে তিনি হাটে হাটে বিক্রি করে প্রতি মাসে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা আয় করেন তিনি।
আওতাপাড়া হাটের ব্যবসায়ী আবদুুল খালেক জানান গ্রাম থেকে ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি দরে কিনে হাটে ও বাজারে তিনি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত কেজি দরে বিক্রি করেন এই কুমড়া বড়ি।