ঈশ্বরদীর পদ্মায় বিপদসীমার ৭ সেমি উপরে পানি ডুবে গেছে ১৪ হাজার হেক্টর জমির ফসল

আপডেট: অক্টোবর ৩, ২০১৯, ১:১৪ পূর্বাহ্ণ

সেলিম সরদার, ঈশ্বরদী


ঈশ্বরদীর পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মা নদীতে গতকাল বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পানি। পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ড হাইড্রোলজি বিভাগের উত্তরাঞ্চলীয় নির্বাহী প্রকৌশলী কেএম জহুরুল হক জানান, হার্ডিঞ্জ ব্রিজের পানি পরিমাপ করার স্থানে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ছিল ১৪ দশমিক ২৮ সেন্টিমিটার, গতকাল বুধবার সকাল ৯টায় ১৪ দশমিক ৩০ সেন্টিমিটার এবং দুপুর ১২টায় আরো ২ সেন্টিমিটার বেড়ে ১৪ দশমিক ৩২ সেন্টিমিটার পানি প্রবাহিত হয়েছে, যা বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার উপরে।
এদিকে ঈশ্বরদীতে পদ্মার পানি বেড়ে যাওয়ায় আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ১৪শ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি উপজেলার পাকশী, সাঁড়া, সাহাপুর ও লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নের অন্ততঃ দশটি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বাড়ির আঙিনা ছাপিয়ে বন্যার পানি গতকাল বুধবার ঘরে প্রবেশ করেছে। লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নের নিচু এলাকার শতাধিক বাড়িতে বন্যার পানি ঘরের মেঝের ওপরে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি অফিসার আবদুল লতিফ জানান, আকস্মিক বন্যার পানিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ পর্যন্ত ১৩ হাজার দশমিক ৯৮ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহম্মেদ হোসেন ভূঁইয়া জানান, এখনো ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হয়নি তবে পাবনা জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ইতোমধ্যে ঈশ্বরদী উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকায় উপজেলা প্রশাসন সতর্ক দৃষ্টি রেখেছে, ক্ষতিগ্রস্তদের সঠিক তালিকা প্রস্তুত করে তাদের সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
পাবনা জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ গতকাল বুধবার দুপুরে জানান, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তালিকা তৈরির করে সব ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে পাবনা জেলা প্রশাসন দাঁড়াবে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু করা হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ