ঈশ্বরদীর পাকুড়িয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ ‘জমি কিনে দেয়ার শর্ত’ || চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী পদে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা আজ

আপডেট: অক্টোবর ৩০, ২০১৯, ১:০৮ পূর্বাহ্ণ

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি


বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী পদে চাকরির জন্য কোন টাকা নেয়া হবে না, তবে চূড়ান্ত প্রার্থীর কাছ থেকে স্কুলের ভবন নির্মাণের জন্য চার কাঠা করে জমি কিনে দেওয়ার শর্তে আজ বুধবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে পাকুড়িয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের স্কুল শাখার দুইজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী পদে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা। এ পরীক্ষায় আজ মোট ১৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করবেন।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডির সভাপতি ও লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. জিল্ল¬ুর রহমান ঈশ্বরদী প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান। এ সময় উপস্থিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ, গভর্নিং বডির সদস্য ও সাংবাদিকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। সম্প্রতি পাকুড়িয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী পদের নিয়োগ নিয়ে আদালতে মামলা এবং মামলার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গণমাধ্যমে নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় তার প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে মো. জিল্ল¬ুর রহমান অকপটেই স্বীকার করে বলেন, যার যার চাকরি চূড়ান্ত হবে তার তার কাছ থেকে কোন নগদ টাকা নেওয়া হবে না, তারা দুইজন স্কুলের ভবন নির্মাণের জন্য ৪ কাঠা করে জমি কিনে দিবেন। তবে সংবাদ সম্মেলনের পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, কথাটি আমার এখানে বলা ঠিক হয়নি। লিখিত বক্তব্যে জিল্ল¬ুর রহমান বলেন, ঈশ্বরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহীন ইসলাম তার চাচাতো ভাইকে ওই পদে নিয়োগ দেয়ার জন্য ৪ লাখ টাকা নিয়ে আমাদের উপর চাপ সৃষ্টি করছেন। এতে আমরা অস্বীকৃতি জানালে সে মো. রশিদুল ইসলাম নামের অপর এক চাকরি প্রার্থীকে দিয়ে নিয়োগ বন্ধের জন্য পাবনার সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মামলা দায়ের করান। পরবর্তীতে মামলার বাদি নিজেই তার ভুল বুঝতে পেরে মামলাটি প্রত্যাহার করেন। মূলত তিনিই বিভিন্ন মিথ্যা তথ্য প্রদান করে শতবর্ষী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি সম্পর্কে নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ করাচ্ছেন। অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে মামলার বাদী মো. রশিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শাহীন ইসলাম আমাকে ভুল বুঝিয়ে আদালতে মামলা করতে উৎসাহিত করেছিলেন। কিন্তু আমি আমার ভুল বুঝতে পেরে তা প্রত্যাহার করে নিয়েছি। সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ আবদুর রহমান, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য সিদ্দিকুর রহমান, আমিরুল ইসলাম ও আশরাফুজ্জামান স্বপন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
নিয়োগ কমিটির সদস্য ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. সেলিম আক্তার জানান, নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে টাকা নেওয়া সম্পূর্ণ অবৈধ ও বিধি বহির্ভূত। তবে কেউ চাইলে জমি দান করতে পারেন, তবে নিয়োগ দেয়ার শর্তে জমি নেয়া যাবে না, এটা অন্যায়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ