ঈশ্বরদী মহিলা কলেজের পাঁচ শিক্ষকের নিবন্ধন সনদ তদন্ত নিয়ে ধুম্রজাল || তদন্ত কমিটি নিয়েও লুকোচুরি

আপডেট: আগস্ট ২৭, ২০১৯, ১২:৫৪ পূর্বাহ্ণ

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি


ঈশ্বরদী মহিলা কলেজের ৫ শিক্ষকের শিক্ষাসনদ, এমপিও, নিবন্ধন, ডিপ্লোমা সার্টিফিকেটের তদন্ত নিয়ে ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ডিজি (মহা পরিচালক) অফিস থেকে এসব শিক্ষকদের নিবন্ধন সনদসহ যাবতীয় কাগজপত্র জমা দিতে একাধিকবার চিঠি দেওয়ার পরও তারা শিক্ষাসনদ জমা না দেওয়ায় তাদের সনদ জাল বলে সন্দেহ করা হয়েছে। কলেজের বিশ^স্থ সূত্র জানিয়েছেন তারা ডিজি অফিসের আদেশ অমান্য করে ইচ্ছে করেই নিজেদের এমপিওভুক্তি করাচ্ছেননা, ফলে কলেজ তহবিল থেকে প্রতিজনকে ১৭ হাজার ৫০০ টাকা করে বেতন প্রদান করতে হচ্ছে। তারা নিবন্ধন সনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিলে সহজেই তারা এমপিওভুক্ত হতেন, এতে করে কলেজের তহবিলের টাকা সাশ্রয় হতো।
যেসব শিক্ষকদের নিবন্ধন সার্টিফিকেট জাল কিংবা ভুয়া বলে প্রশ্ন উঠেছে তারা হলেন, সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক হাফিজুর রহমান, ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক নিলুফা আক্তার, ভূগোল বিভাগের প্রভাষক মো. মিজানুর রহমান, মনোবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক লিপি খাতুন ও উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের প্রভাষক দিলরুবা খাতুন। তবে কলেজ সূত্র দাবি করেছে এদের মধ্যে লিপি খাতুন ও দিলরুবা খাতুনের নিবন্ধন সনদ থাকলেও তারা এমপিও’র জন্য আবেদন করেননি ‘অন্য কারণে।’ এই অন্য কারণটি বলতে রাজি হননি কলেজ কর্তৃপক্ষ। কলেজ সূত্র জানিয়েছেন, জাল সনদ দিয়ে চাকরি গ্রহণের ঘটনা প্রমানিত হলে এসব শিক্ষকদের চাকরি থাকবেনা-এই ভয়ে তারা নিবন্ধন সনদ জমা দিচ্ছেননা, এমপিওতে নিজেদের অন্তর্ভুক্তি থেকেও বিরত রয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে কলেজের অন্যান্য শিক্ষক, কলেজ গভর্নিং বডিসহ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে ঈশ্বরদী মহিলা কলেজের শিক্ষকবৃন্দের শিক্ষা সনদ, এমপিও, নিবন্ধন, ডিপ্লোমা সার্টিফিকেট যাচাই করণ কমিটি এবং কলেজের আর্থিক অবস্থা যাচাই করণ কমিটি নামে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করার জন্য কলেজ গভর্নিং বডির মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভাটি সম্প্রতি ঈশ্বরদীর একটি অভিজাত চাইনিজ রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় শিক্ষকদের শিক্ষাসনদ, এমপিও, নিবন্ধন, ডিপ্লোমা সার্টিফিকেট যাচাই করণ কমিটির আহবায়ক করার জন্য কলেজ পরিচালনা কমিটির অন্যতম সদস্য সাবেক এমপি মঞ্জুর রহমান বিশ্বাসের নাম সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়। কিন্তু রহস্যজনকভাবে তাকে কমিটির আহবায়ক না করে অপর সদস্য আবদুল খালেককে আহবায়ক করে চিঠি দিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। গত ২০ আগস্ট কলেজের অধ্যক্ষ মো. হামিদুর রহমান স্বাক্ষরিত এই চিঠিতে ঈশ্বরদী মহিলা কলেজে কর্মরত সকল শিক্ষকদের শিক্ষা সনদ, এমপিও, নিবন্ধন, ডিপ্লোমা সার্টিফিকেট ও কলেজের সার্বিক আর্থিক অবস্থা যাচাই কমিটি গঠন করা হলো উল্লেখ করে আগামী ২ সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন পেশ করার জন্য অনুরোধ করেন। তবে কলেজ গভর্নিং বডি এবং তদন্ত কমিটির সদস্যরা এই কমিটি বাতিল করে সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কমিটি গঠন করার জন্য অধ্যক্ষকে মোবাইল করে জানিয়ে দিয়েছেন বলে এ প্রতিবেদকের নিকট স্বীকার করেছেন।
তদন্ত কমিটির আহবায়ক ঈশ্বরদী মহিলা কলেজ গভর্নিং বডির সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আবদুল খালেক বলেন, আমি অধ্যক্ষকে জানিয়ে দিয়েছি এই কমিটি বাতিল করে গভর্নিং বডির সভায় যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নতুন করে কমিটি গঠন করার জন্য। তদন্ত কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মুস্তাফিজুর রহমান খান কামাল বলেন, কলেজের একাধিক শিক্ষকের নিবন্ধন সনদ নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় কমিটির সভায় যেভাবে তদন্ত কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিল সে অনুযায়ী কমিটি গঠন করা হয়নি বলেই আমি এই কমিটি বাতিল করতে অধ্যক্ষকে জানিয়ে দিয়েছি। কলেজের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সাবেক এমপি মঞ্জুর রহমান বিশ্বাস এসব বিষয়ে বলেন, কলেজের কয়েকজন শিক্ষক জাল নিবন্ধন সনদ জমা দিয়ে ঈশ্বরদী মহিলা কলেজে চাকরি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে, একারণে সঠিকভাবে তদন্ত করার জন্য যে কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ধরা পড়ার ভয়ে এখন অন্যভাবে যেনতেনভাবে তদন্ত করার জন্য সভার সিদ্ধান্তকে পাশ কাটানো হয়েছে।
এসব বিষয়ে ঈশ্বরদী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. হামিদুর রহমান বলেন, ঈশ্বরদী মহিলা কলেজের শিক্ষকদের নিবন্ধন সনদ জাল কিনা তা তদন্ত রিপোর্ট এলেই পরিস্কার বোঝা যাবে। কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহাম্মেদ হোসেন ভূঁইয়া এসব বিষয়ে বলেন, তদন্ত কমিটিতে ভুলক্রমে আহবায়কের নাম পরিবর্তন হয়েছিল, আমি জানতে পেরে কমিটি পুনর্গঠনের জন্য অধ্যক্ষকে বলে দিয়েছি। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট জমা দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ