ঈশ্বরদী মোকামে বন্ধ হয়ে গেছে ৭ শ’ মিল চাতাল : বেকার দশ হাজার শ্রমিক

আপডেট: নভেম্বর ২০, ২০১৯, ১:১০ পূর্বাহ্ণ

সেলিম সরদার, ঈশ্বরদী


একদিকে চালের দাম বেড়েই চলেছে অন্যদিকে ধানের অভাবে প্রতিদিন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে উত্তরাঞ্চলের বড় চালের মোকাম ঈশ্বরদীর শত শত মিল চাতাল। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চালের দাম বাড়ার আগেই এই মোকামে ধানের অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে প্রায় ৭ শ হাস্কিং চাল কল ও মিল চাতাল।
গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিন মোকামে গিয়ে জানা যায় পর্যাপ্ত ধান না পাওয়া ও ধান ভাঙিয়ে চাল তৈরি করার পর অব্যাহত লোকসান গুনতে গুনতে ব্যবসায়ীদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে, এছাড়া অটো রাইস মিলের দাপটে একরকম কোনঠাসা হয়ে পড়েছেন হাস্কিং মিলের মালিক ও ব্যবসায়ীরা। মূলত এসব কারণে এই মোকামের শত শত চালকল ও চাতাল বন্ধ করে দিয়েছেন মিল মালিক ও ব্যবসায়ীরা। অনেকে ধান-চালের ব্যবসা গুটিয়ে অন্য কোন ব্যবসায় মনোনিবেশ করেছেন। কেউ কেউ স্থানীয় বাজারে দোকান করে চালের ব্যবসার বদলে তৈরি পোশাক ও মুদি ব্যবসা করছেন।
চালকল মালিক গ্রুপ ও মিল মালিক সমিতি সূত্রের দেওয়া হিসেব অনুযায়ী উপজেলার জয়নগর, মিরকামারি, বরইচরা, সাহাপুর, দাশুড়িয়া, মুলাডুলিসহ ঈশ্বরদী মোকামের প্রায় ৭শ’ মিল চাতালের মধ্যে মাত্র ৩০ থেকে ৪০টির মত চাতাল এখনো চালু আছে বাকিগুলো সবই বন্ধ হয়ে গেছে। এদিকে এসব চাতালে কর্মরত প্রায় ১১ হাজার চাতাল শ্রমিকরাও কাজ হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েছেন। এদের কেউ রিকশা চালিয়ে কেউ মাঠে দিনমজুরের কাজ করে সংসারের খরচ যোগাচ্ছেন।
গতকালও ঈশ্বরদী মোকামের চালের বাজার ছিল উর্দ্ধমুখি। উপজেলা ধান চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক সাদেক আলী বিশ্বাস জানান, বাঁশমতি চালের ৫০ কেজির বস্তা ২১০০ টাকা থেকে বেড়ে ২৪০০ টাকা, মিনিকেট ১৯০০ টাকা থেকে ২২৫০ টাকা, আটাশ চাল ১৬০০ টাকা থেকে বেড়ে ১৮০০ টাকা, উনত্রিশ চাল ১৩০০ টাকা থেকে বেড়ে ১৬০০ টাকা ও মোটা চালের দাম ১২০০ টাকা থেকে বেড়ে ১৪০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানান, দুএকদিন পর এই মোকামে চালের দাম আরো বাড়বে।
বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাস্কিং মিল মালিক সমিতি পাবনা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ঈশ্বরদী উপজেলা চালকল মালিক গ্রুপের সভাপতি মো. ফজলুর রহমান মালিথা বলেন, একের পর এক অটো রাইস মিল চালু হওয়ায় ঈশ্বরদী মোকামের হাস্কিং মিল চাতাল এখন হুমকির মুখে পড়েছে। ঈশ্বরদীর চালকল মালিক ও চাল ব্যবসায়ী মো. শরফুজ্জামান বিডন জানান, ধানের মোকাম থেকে এখনো নতুন ধান আসা শুরু হয়নি, নতুন ধান বাজারে এলে চালের দাম কমে যাবে।