উপজেলায় শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ

আপডেট: মার্চ ১১, ২০১৯, ১:০৭ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


একটি কেন্দ্রে ভোট প্রদানের অপেক্ষায় নারীরা-সোনার দেশ

রাজশাহীর আটটি উপজেলায় শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভোট কেন্দ্রগুলোতে সকালের দিকে ভোটারের উপস্থিত কম ছিলো। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে ভোটারের উপস্থিতি। ভোটাররা স্বতস্ফূর্তভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে। কেন্দ্রগুলোতে নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ-বৃদ্ধের পাশাপাশি অনেক তরুণ-তরুণী ভোটারদের লক্ষ করা গেছে। এসব কেন্দ্রগুলোতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ভোট সম্পন্ন হয়েছে।
উপজেলার ভোটকেন্দ্রগুলো ঘুরে দেখা গেছে, ভোটারদের মধ্যে আনন্দ-উৎসাহ বিরাজ করছে। তবে গোদাগাড়ীতে জাল ভোট প্রয়োগের অভিযোগে একটি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন।
দুপুরে পৌনে ১টার দিকে উপজেলার আল জামিয়াতুস সালাফিয়া আলিম মাদ্রাসা কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। এ কেন্দ্রে আটক তিনজন হলেন, পোলিং অফিসার নাজমুল হক, মুকিদ আলী মাস্টার ও নৌকার পোলিং এজেন্ট মাসুদ রানা।
গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মশিউর রহমান নিশ্চিত করে বলেন, স্থগিত হওয়ার আগে কেন্দ্রটিতে প্রায় ১৭ শতাংশ ভোটগ্রহণ করা হয়েছিল।
এর আগে সকাল আটটার দিকে গোদাগাড়ী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেখা যায়, ভোটারদের স্বতস্ফূর্ত উপস্থিতি। যদিও খুব সকাল হলেও নারী ভোটারদের উপস্থিতি বেশি ছিলো। তারা জানায়, সকাল সকাল ভোট দিয়ে নিশ্চিন্ত হতে চাই। তাদের কথা, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রগুলো ভোটার বাড়বে। তখন ভোট দিতে অনেক সময় লেগে যাবে। এই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা অমিত সরকার বলেন, এই কেন্দ্রে মোট নারী ভোটার তিন হাজার ৫১১জন। কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়ায় সকালে ভোটগ্রহণ শুরু হয়।
এই উপজেলার আয়েশা সাবের আলিম ও দাখিল মাদ্রাসায় ভোটারের উপস্থিত বেশ ভালো ছিলো। এই কেন্দ্রে পুরুষের চেয়ে নারীদের উপস্থিতি বেশ লক্ষ করা গেছে। প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানায়, এই কেন্দ্রে নারী-পুরুষ মিলে মোট ভোটার দুই হাজার ৩২৯ জন। নারী এক হাজার ১৫৪ ও পুরুষ ভোটার এক হাজার ১৭৫ জন। সকাল নয়টা অর্থাৎ, এক ঘণ্টায় ১০০ ভোট কাস্ট হয়েছে। শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে বলে তিনি জানান।
অন্যদিকে, উপজেলার মইশালবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সকাল ১০টার দিকে ভোটারের উপস্থিত তুলনামূলক কম ছিলো। কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা খন্দকার মাহফুজুল হক বলেন, দুই হাজার ৭৭জন পুরুষ ভোটার নিয়ে এই কেন্দ্র। সকাল নয়টা পর্যন্ত ৩০টি ভোট কাস্ট হয়েছে।
এছাড়া গোদাগাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজ নারী ভোটকেন্দ্র। এই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা বিকাশ চন্দ্র জানান, মোট ভোটার এক হাজার ৯৫৯ জন। সকাল ১০টায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৬০টি।
এই উপজেলার হাট গবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা বোরহানুল ইসলাম বলেন, নারী-পুরুষ মিলে দুই হাজার ৪৯৬ জন ভোটার। সকাল ১১টার দিকে ২৫০ ভোট কাস্ট হয়েছে।
এই কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা শ্রীমতি রাণী বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রের পরিবেশ অনেক ভালো। ভোট দিতে পেরে তিনি অনেক খুশি।’
এছাড়া তানোর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা আক্কাস আলী জানান, তিন হাজার ৭১৬ জন নারী ও পুরুষ ভোটার। দুপুর একটায় ৪০ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়েছে বলে তিনি জানান। ভোট দিতে আসা জোসনা বেগম জানায়, যিনি এলাকার উন্নয়ন করবেন। তাকেই ভোট দিবেন তিনি। ভোটের পরিবেশ কেমন জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ভোটের পরিবেশ অনেক ভালো। কোথাও কোনো ধরনের ভয়ভীতি নেই।
অন্যদিকে, চারঘাট উপজেলার ৫২টি ভোট কেন্দ্রে ভোটগ্রহণে নারী-পুরুষ সারিবদ্ধভাবে ভোটা দেন। কেন্দ্রগুলোতে কিছু বিছিন্ন ঘটনা ছাড়া অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভোটারদের নিরাপত্তার লক্ষে চারঘাট উপজেলায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, ম্যাজিট্রেট, বিজিবি, পুলিশ, আনসার ভিডিপি ও র‌্যাবের টহলদল নিয়োজিত ছিল।
সকালে ভোটারদের উপস্থিতি কম থাকলেও দুপুরের পর পর তা বাড়তে থাকে। কেন্দ্রগুলোতে পুরুষের চেয়ে নারীদের উপস্থিতি বেশি লক্ষ করা গেছে। আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী ফকরুল ইসলাম সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে চারঘাট পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে নিজের ভোট প্রদান করে। এ কেন্দ্রে ভোট সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৫২৫।
এদিকে, দুর্গাপুরে বিছিন্ন দু’একটি ঘটনার মধ্যদিয়ে ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। ভোটগ্রহণেরে শুরু থেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল মজিদের সমর্থক ও নেতাকর্মীরা কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করে। আওয়ামীলীগ নেতা কামারুজ্জামান কামরুল অভিযোগ করে বলেন, রৈপাড়া কেন্দ্রে নৌকার ভোটারদের বাঁধা দেওয়া হয়েছে। পূর্বপরিকল্পিত ভাবে তারা প্রিজাইডিং অফিসারসহ সকলকে চাপের মুখে রেখেছে। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে কেন্দ্রটিতে স্বাভাবিকভাবে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। বিকেলে দু’একটি ভোট কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চালায় মজিদের কর্মী সমর্থকরা।
পুরো উপজেলার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে রির্টানিং কর্মকর্তা লিটন সরকারের জানান, নির্বাচনে সামান্য কিছু বিশৃঙ্খলা ঘটতেই পারে। সবমিলে উপজেলায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এছাড়া বাঘায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়ায় শেষ হলো ভোটগ্রহণ। কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি অনেকটাই কম ছিলো। সকালে উপজেলার আড়ানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আড়ানী সরকারি মনোমোহিনী উচ্চ বিদ্যালয়, তেথুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ভোটারের উপস্থিত কম ছিলো। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নারী-পুরুষ ভোটারদের উপস্থিত বাড়তে থাকে। এই উপজেলায় চেয়ারম্যান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় হয়। উপজেলায় পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে দুই প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
বাঘা উপজেলা সহকারী রিটার্নিং অফিসার শাহিন রেজা বলেন, ভোট শান্তিপূর্ণ ভাবে হচ্ছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
অন্যান্য উপজেলার মত মোহনপুরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। চেয়ারম্যান পদে অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম এবং নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে সানজিদা রহমান রিক্তা ইতোপূর্বে বিনাপ্রতিন্দ্বিতায় বিজয়ী হন।
এদিকে, পুঠিয়ায় সকালে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়ায় ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হয়। কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি অনেকটাই কম ছিলো।
সকালে শিবপুরহাট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে, গোপালহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ও পুঠিয়া পিএন উচ্চ বিদ্যালয়সহ অন্যান্য কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিত কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে ভোটার। তবে থেমে থেমে নারী পুরুষ ভোটারদের আসতে দেখা যায়। দুপুর সাড়ে ১২ টা পর্যন্ত একই চিত্র ছিলো ভোট কেন্দ্রগুলোতে।
পুঠিয়া সহকারী রিটার্নিং অফিসার মো. ওলিউজ্জামান বলেন, ভোট শান্তিপূর্ণ ভাবে হচ্ছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি, শান্তিপূর্ণ ভাবে সবখানে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ