উপস্থাপক শ্রাবণ্যর নতুন পরিচয়

আপডেট: নভেম্বর ৮, ২০১৮, ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ব্যস্ততা মানেই শ্রাবণ্য তৌহিদার ব্যস্ততা। বাক্যটির মর্মার্থ বোধহয় আর পরিষ্কার করে বলার দরকার নেই। কারণ এরই মধ্যে হয়তো শ্রাবণ্যর ভক্তরা বুঝে গেছেন, বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল মাঠে নামামাত্রই সোজা টেলিভিশন সেটে গিয়ে হাজির হন শ্রাবণ্য তৌহিদা। একদিকে নিজের দেশ ব্যাটে-বলে মাঠে লড়াই করে, অন্যদিকে উপস্থাপনার ময়দানে শ্রাবণ্য শুরু করেন কথার যুদ্ধ। চলমান জিম্বাবুয়ে-বাংলাদেশের খেলায়ও এর ব্যতিক্রম হচ্ছে না। যথারীতি গাজী টিভিতে করছেন ক্রিকেটবিষয়ক উপস্থাপনা। এ প্রসঙ্গে কথা শুরু হলেও শ্রাবণ্য নিজেই জানিয়ে দিলেন শুধু উপস্থাপনা নয়, এবার রীতিমতো তাকে ধারাভাষ্যকারের দায়িত্বও পালন করতে হচ্ছে।
এ নিয়ে শ্রাবণ্য বলেন, ‘এবার জিটিভি নতুন একটা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, খেলার সময় এখন আমাদের ধারাভাষ্যও দিতে হচ্ছে।’ এর কারণ? ‘এর কারণ একটাই, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভবিষ্যতে যেন আমাদের দেশ থেকে ধারাভাষ্যকার হিসেবে কেউ প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন, সে লক্ষ্য থেকেই এ ধরনের পরিকল্পনা করা হয়েছে’Í বলেন শ্রাবণ্য। তবে এ উপস্থাপক এটাও জানিয়ে দিলেন, নতুন পরিচয়ে ধারাভাষ্য দিতে গিয়ে কোনো কঠিন পরীক্ষা নয় বরং বিষয়টি উপভোগই করছেন তিনি।
অনেকেই জানেন, শ্রাবণ্য তৌহিদা একই সঙ্গে ডাক্তারি পেশার সঙ্গেও জড়িত। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত এ পেশায়ই ব্যস্ত থাকতে হয় তাকে। তার পরও নিয়মিত উপস্থাপনা করে যাচ্ছেন তিনি। বিশেষ করে ক্রিকেট-সংক্রান্ত উপস্থাপনা থাকলে তা সহজে হারাতে চান না। তার ভাষ্য, ‘ক্রিকেট বিষয়ক উপস্থাপনার প্রতি আমার অন্য রকম মোহ কাজ করে। তাই এ-বিষয়ক কোনো প্রস্তাব পেলে লুফে নিই। অবশ্য যদি কেউ মনে করে শুধু ক্রিকেটই ধ্যানজ্ঞান আমার, তাহলে সে ভুল করবে। আমি নিজেকে স্পোর্টস প্রেজেন্টার হিসেবে ভাবতে পছন্দ করি। কারণ এতে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং বিষয় জড়িত।’
কোন জায়গায় চ্যালেঞ্জ বোধ করেন এ কাজে? উত্তরে শ্রাবণ্য বলেন, ‘এতে অবশ্যই অনেক বেশি চ্যালেঞ্জ জড়িত। একজন ক্রিকেট বিশ্লেষক হিসেবে কাজ করতে গেলে ক্রিকেটের খুঁটিনাটি বুঝতে হয়। এছাড়া কোনো ধরনের মুখস্থ বিদ্যা এ ধরণের উপস্থাপনায় কাজে আসে না। পরিস্থিতি বুঝে নিজের বুদ্ধি দিয়ে তবেই না কথা বলতে হয়।’
ক্রিকেট-সংক্রান্ত উপস্থাপনা ছাড়াও এ মুহূর্তে সেলিব্রিটি টকশো রঙিন পাতা, এশিয়ান টিভির কুকিং শোসহ একাধিক অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করছেন শ্রাবণ্য।
এদিকে শ্রাবণ্যর প্রতি একটি বিষয় নিয়ে দর্শকের অভিযোগ আছে। এককথায় বললে, ছোটপর্দায় নাটকে একেবারেই দেখা যায় না তাকে। তাহলে কি অভিনয়ের প্রতি ত্যক্ত-বিরক্ত তিনি? ‘না, মোটেও তা নয়। আমি এমনিতেই এতে কাজ করার সুযোগ কম পাই। সবদিক সামলে উঠে একটি নাটকের পেছনে তিন-চারদিনের জন্য সময় বের করা আমার জন্য কঠিন। তবে বিশেষ দিবসের কিছু নাটকে তো আমি হাজির থাকি। আগামী ভালোবাসা দিবসের জন্যও একটি নাটকে অভিনয়ের ব্যাপারে কথাবার্তা হচ্ছে।’
নতুন জীবন তথা বিয়ের পর লম্বা একটা সময় পার করে ফেলেছেন শ্রাবণ্য। অনেকেরই হয়তো প্রশ্ন থাকতে পারে, বিয়ে-সংসার কি শ্রাবণ্যের ক্যারিয়ারে কোনো প্রভাব ফেলেছে? এ নিয়ে গল্পের ক্ষান্তি টানতে চাইলেন শ্রাবণ্য। বললেন, ‘বিয়ের পর স্বাভাবিকভাবেই জীবনের একটা পরিবর্তন আসে, আমার ক্ষেত্রেও এসেছে। কিন্তু ক্যারিয়ার থমকে যাওয়ার মতো এমন কোনো পরিবর্তন আসেনি। বিয়ে-সংসার-সন্তানকে প্রাধান্য দিয়ে নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি। আমি জানি, একদিন আমার স্বপ্ন সত্যি হবেই।’ তথ্যসূত্র: বাংলা ট্রিবিউন