উবার চালক ঈশ্বরদীর আরমানকে ঢাকায় গলা কেটে হত্যা

আপডেট: জুন ১৫, ২০১৯, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ

সেলিম সরদার, ঈশ্বরদী


নিহত আরমান-সোনার দেশ

গতকাল শুক্রবার ছিল ছোট বোনের বিয়ে। বিয়ে উপলক্ষ্যে শুক্রবার সকালেই নারায়নগঞ্জে যাওয়ার কথা ছিল ঈশ্বরদীর ছেলে ঢাকার উবার চালক আরমানের। কিন্তু বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তাকে গলা কেটে হত্যা করায় বোনের বিয়েতে আর যাওয়া হলোনা আরমানের। আরমানের স্বজন, পুলিশ ও উবারের ওই গাড়ির মালিকের ছোট ভাই জানান, উবারের চালক আরমান ওরফে আমানকে (৭৩) গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে ঢাকার উত্তরার ১৪ নম্বর সেক্টরের ১৬ নম্বর রোড থেকে তার গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়। আরমান ঈশ্বরদীর ফতেমোহাম্মদপুরের মৃত আবদুল হাকিমের ছেলে। সে ঢাকায় মিরপুর ১১ নম্বর এলাকার ১২ নম্বর সড়কের ৭ নম্বর লেনের ১৬ নম্বর বাড়িতে অস্থায়ীভাবে বসবাস করতো। আরমান যে গাড়ির ড্রাইভার ছিলেন সে গাড়ির মালিকের ছোট ভাই অন্তর জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১১ টা ২০ মিনিটের সময় রামপুরার ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে উবারে কল পেয়ে সেখান থেকে যাত্রী নিয়ে আরমান উত্তরার ১৪ নম্বর সেক্টরে যান। ওই ট্রিপ শেষে রাত ১২টার পরে তার মিরপুরে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু রাত ১টার পরও সে ফিরে না এলে আরমানের মোবাইলে কল দিলে অন্য একজন ফোন রিসিভ করে বলেন, ‘অ্যাকসিডেন্ট হয়েছে’। আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পাই গাড়ির ভেতরে আরমানের গলাকাটা লাশ পড়ে আছে। পরে থানায় খবর দিলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। উত্তরা পশ্চিম থানার উপ-পরিদর্শক এসআই মুশফিকুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে আমরা ওই ড্রাইভারের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছি, এ ঘটনায় পুলিশ তদন্ত করছে, তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা যাবে। পুলিশ জানায়, কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে সে সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। তবে গাড়ি ছিনতাইয়ের চেষ্টা থেকে কেউ এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে তারা সন্দেহ করছেন।
আরমানের বাড়ির লোকজন খবর পেয়ে গতকাল শুক্রবার ভৌরে ঢাকায় রওনা দিয়েছেন, ফতেমোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা মুরাদ হাসান জানান, গতকাল শুক্রবার নারায়নগঞ্জে আরমানের ছোট বোনের বিয়ে ছিল। বৃহস্পতিবার রাতে গাড়ির মালিকের কাছে গাড়ি বুঝিয়ে দিয়ে তার নারায়নগঞ্জে বোনের বিয়েতে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বোনের বিয়েতে যাওয়ার আগেই তাকে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার শিকার হতে হলো। ফতেমোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা ও ঈশ্বরদী পৌরসভার কাউন্সিলর কামাল আশরাফি জানান, এ ঘটনায় ঈশ্বরদীর ফতেমোহাম্মদপুরে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বাহাউদ্দিন ফারুকী জানান, ঘটনাটি আমরাও শুনেছি, যেহেতু ঘটনাস্থল ঢাকায় সেহেতু সেখানে মামলা ও তদন্ত হবে।