উল্লাপাড়ায় ট্রেন দুর্ঘটনা নাশকতা কিনা ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে : রেলমন্ত্রী

আপডেট: নভেম্বর ১৬, ২০১৯, ১:০৬ পূর্বাহ্ণ

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি


ট্রেন দুর্ঘটনায় সাংবাদিকদের ব্রিফ করছেন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন-সোনার দেশ

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় বৃহস্পতিবার দুপুরে ঈশ্বরদী-ঢাকা রেলেপথে উল্লাপাড়া স্টেশনে রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেন দুর্ঘটনার পর কোনো পরিকল্পিত নাশকতা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে রেল কর্তৃপক্ষ। দুর্ঘটনার পর বগির ভিতরে আগুন লাগার ঘটনাকে সন্ত্রাসী বা নাশকতা হিসেবে সন্দেহ করছেন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। গতকাল শুক্রবার বিকেলে রেলমন্ত্রী উল্লাপাড়ায় সরেজমিনে ট্রেন দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে এমন মন্তব্য করেন।
দুর্ঘটনার পর ইঞ্জিন থেকে কিভাবে দ্রুত আগুন শীততাপ নিয়ন্ত্রিত বগিসহ অন্য বগির ভিতরে ঢুকলো এটা ভাবনার বিষয়। তিনি বলেন, এর আগে ২০১৪ সালে তথাকথিত আন্দোলনের নামে এই এলাকায় একটি ট্রেন আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। এমনি ঘটনা পুনরাবৃত্তি ঘটেছে কিনা তা একাধিক তদন্ত কমিটির মাধ্যমে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। রেলমন্ত্রী ট্রেন দুর্ঘটনার ২৬ ঘন্টা (শুক্রবার বিকেল ৪ টা) পার হলেও লাইন মেরামত ও সংস্কারের কাজ শেষ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এদিকে উল্লাপাড়ার দুটি ঝুঁকিপূর্ণ রেল ব্রিজ দ্রুত মেরামতের আশ্বাস দেন তিনি। তিনি আরো বলেন, ঈশ্বরদী থেকে ঢাকা পর্যন্ত খুব দ্রুত ডাবল রেল লাইনে সম্প্রসারণ করা হবে। ডাবল লাইন সম্প্রসারিত হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
উল্লাপাড়ায় ট্রেন দুর্ঘটনার ব্যাপারে ঘটনাস্থলে উপস্থিত রেল সচিব মোফাজ্জল হোসেন বলেন, দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে ইতোমধ্যেই চারটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে খুব দ্রুতই দুর্ঘটনার আসল কারণ উদঘাটন করা যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
গত বৃহস্পতিবার এই লাইনে ট্রেন দুর্ঘটনার আগে সংস্কার কাজে জড়িত দু’জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে রেলওয়ে পুলিশ। আটককৃতরা হলো উল্লাপাড়ার কালিগঞ্জ গ্রামের আরিফ হোসেন ও মাটিকোড়া গ্রামের আবদুর রাজ্জাক। তারা রেলওয়ের সংস্কার কাজের কর্মী। রেলের একটি সূত্র ধারণা করছে, সংস্কারের কাজে নিয়োজিতরা উল্লাপাড়া স্টেশনে ঢোকার সম্মুখ পয়েন্টে বেসপ্লেট খুলে রেখেছিল। যে কারণে ওই দু’জনকে আটক করা হয়েছে।
এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন, রেল সচিব মোফাজ্জল হোসেন, অতিরিক্ত সচিব ফারুকুজ্জামান, পশ্চিম রেলের জেনারেল ম্যানেজার মিহির কান্তি গুহ, জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহমেদ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আরিফুজ্জামানসহ রেলের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ।
এদিকে ঘটনার পর থেকে পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ অনেকটা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। একটি ট্রেনও সময়মত গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছে না। যাত্রীদের স্টেশনগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। রংপুর থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশনের পর থেকেই বিভিন্ন স্টেশনে ১ ঘণ্টার উপরে যাত্রা বিরতি দিয়ে ফেলে রাখা হয়। দুপুর ১টার দিকে ট্রেনটি উল্লাপাড়ার লাহিড়ীমোহনপুর স্টেশনে প্রায় চার ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। এ সময় ট্রেনের শতশত যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েন, বিশেষ করে নারী শিশু ও বয়স্করা ভোগান্তিতে পড়ে বেশি। এ সময় অনেক বগির যাত্রীরা ট্রেনের মধ্যে হৈচৈ ও চেচামেচি শুরু করলে অনেকের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উল্লাপাড়া রেলস্টেশনে অবস্থানরত রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ট্রেনটি দ্রুত উল্লাপাড়ায় নিয়ে আশার নির্দেশ দেন।
পশ্চিম অঞ্চল রেলওয়ের চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট মো. শহিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রিলিফ ট্রেনের মাধ্যমে লাইনচ্যুত বগিগুলোকে সরানো হয়েছে। এখন রেললাইন সচল করার কাজ চলছে। এ দুর্র্ঘটনায় রংপুর এক্সপ্রেসের ইঞ্জিন বগিসহ ৩টি বগি পুরোটাই পুড়ে যাওয়াসহ ৯টি বগি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি জানান।
উল্লাপাড়া স্টেশনের কার্যরত স্টেশনমাস্টার আবদুল হামিদ জানান, মিটারগেজ লাইনটি সচল হতে অনেক সময় লাগবে। রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগের কর্মীরা সেটি ঠিক করতে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। তবে বিকল্প হিসেবে এ স্টেশনের ৩ নম্বর ব্রডগ্রেজ লাইন দিয়ে দিনভর ১৫টি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করানো হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত দু’টি লাইন সচল হলেই মিটারগেজের ট্রেনগুলো চলাচল স্বাভাবিক হবে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা) ট্রেন দুর্ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ