ঋণখেলাপি প্রার্থী চিহ্নিত করতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ

আপডেট: নভেম্বর ২৬, ২০১৮, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাতে কোনও ঋণখেলাপি প্রার্থী হতে না পারেন, সেজন্য দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নির্বাচন কমিশনের এক চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (২২ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংককে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে।
ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘আগামী ২৮ নভেম্বর বিকাল ৫টার পর মনোনয়নপত্র দাখিলকারীদের নাম, পিতা/মাতা/স্বামীর নাম ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃক স্ব-উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কাছ থেকে সংগ্রহ করতে হবে। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, রিটার্নিং অফিসারের কাছ থেকে নেওয়া তথ্য প্রয়োজনীয় যাচাই বাছাই শেষে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারকে ঋণ খেলাপ সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করতে হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর ১২ অনুচ্ছেদের বিধান অনুসারে ঋণ খেলাপি ব্যক্তিরা জাতীয় সংসদের সদস্য হওয়ার যোগ্য নন, বিধায় তারা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন না। এতদপ্রেক্ষিতে, নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলকারী ব্যক্তিদের ঋণ খেলাপ সংক্রান্ত তথ্য সকল তফসিলি ব্যাংক হতে সরবরাহ করা আবশ্যক।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ঋণ খেলাপ সংক্রান্ত তথ্য মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দিন কিংবা তার পূর্বে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারকে প্রদান এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণকে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় রিটার্নিং অফিসারের দফতরে উপস্থিত থাকার জন্যও নির্দেশনা দেওয়া হলো। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চিঠিতে বলা হয়েছে, আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ২৮ নভেম্বর ২০১৮।
এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে চিঠি দেওয়ার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে চিঠি দিয়েছে। এর বাইরে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি টিমও তৎপর রয়েছে।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ‘ঋণখেলাপি প্রার্থীদের তথ্য হালনাগাদ তৈরি করতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকেও প্রয়োজনীয় নিদের্শনা দেওয়া হয়েছে।’
এর আগে নির্বাচনে যাতে কোনও ঋণখেলাপি প্রার্থী হতে না পারেন, সেজন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে গত ১২ নভেম্বর চিঠি দেয় ইসি। নির্বাচন কমিশনের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচনে ঋণ খেলাপি ব্যক্তিরা মনোনয়নপত্র দাখিল করলে যাতে তাদের প্রার্থী হিসাবে অযোগ্য ঘোষণা করা যায়, তার জন্য আইনে নির্ধারিত সকল ব্যাংক হতে ঋণ খেলাপি সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করা আবশ্যক।
এর আগে ইসির চিঠি পাওয়ার পরই বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ঋণখেলাপিদের তথ্য হালনাগাদের জন্য মৌখিকভাবে নির্দেশ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নির্দেশনায় ঋণখেলাপি সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা ছাড়াও নাগরিকত্ব, প্রার্থী কোনও প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ছিলেন কিনা, প্রার্থী নির্বাচনি এলাকার বাইরে ঋণখেলাপি কিনা তাও জানতে চাওয়া হয়।
এ প্রসঙ্গে একটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, পত্র-পত্রিকায় যাদের নাম আসছে, আমরা তাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছি। যাতে কোনও ঋণখেলাপি আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হতে না পারেন, সে ব্যাপারে আমরা শাখা ব্যবস্থাপকদেরও নির্দেশনা দিয়েছি।’
এরইমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিআইবিতে ব্যাংকের পাশাপাশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণগ্রহীতাদেরও তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা হয়েছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বড় অংকের ঋণখেলাপিদের তথ্য সিআইবিতে হালনাগাদ করে মাসিকভিত্তিতে। আর অন্য খেলাপিদের তথ্য হালনাগাদ করে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে। এরইমধ্যে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খেলাপিদের তথ্য হালনাগাদ করা হয়েছে। এখনও যারা খেলাপি ঋণ নিয়মিত করছে তাদের তথ্য সঙ্গে সঙ্গে হালনাগাদ করা হচ্ছে।