ঋণ প্রবৃদ্ধি অপরিবর্তিত রেখে মুদ্রানীতি ঘোষণা

আপডেট: January 30, 2017, 12:03 am

সোনার দেশ ডেস্ক



ব্যক্তিখাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ অপরিবর্তিত রেখে বিনিয়োগবান্ধব সর্তক মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি-জুন) এই মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন গভর্নর ফজলে কবির।
এ সময় ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী ও এস এম মনিরুজ্জামান, বাংলাদেশ ব্যাংকের চেঞ্জ ম্যানেজমেন্ট উপদেষ্টা আল্লাহ মালিক কাজেমি ও প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মো. আখতারুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের মুদ্রানীতিতে জুন ২০১৭ পর্যন্ত বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন করা হয়েছে ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ। যা প্রথমার্ধের মুদ্রানীতিতে উল্লেখ করা ছিল।
এছাড়াও অভ্যন্তরীণ ঋণের প্রবৃদ্ধি অপরিবর্তিত রেখে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ। মুদ্রানীতি ঘোষণার সময় গভর্নর বলেন, অর্থবছরের প্রথমার্ধের জন্য অভ্যন্তরীণ ঋণের প্রবৃদ্ধি ১৫ দশমকি ৭ শতাংশ এবং ব্যক্তিখাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি ১৬ দশমিক ৬ শতাংশ ধরা হয়েছিল। এর বিপরীতে নভেম্বর পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ১২ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ব্যক্তিখাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ১৫ শতাংশ। মুদ্রা ও ঋণ প্রবাহের যৌক্তিক নির্ধারণ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ রাখতে অবদান রেখেছে উল্লেখ করে ফজলে কবির বলেন, ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত গড় বার্ষিক ভোক্তা মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বসীমা ধরা হয়েছিল ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। এর বিপরীতে গত ডিসেম্বর শেষে গড় মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৫২ শতাংশ।
জ্বালানি তেলের দাম কমায় রেমিটেন্স কমেছে উল্লেখ করে গভর্নর বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্য নিম্ন পর্যায়ে থাকাসহ অন্যান্য কারণে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত রেমিটেন্স আসার পরিমাণ ১৭ দশমকি ৬ শতাংশ কমেছে।
হু-ির কারণে রেমিটেন্স কমছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে গভর্নর বলেন, হু-ি বা মানি লন্ডারিংয়ের বিষয়ে আমাদের রিসার্স গ্রুপ কাজ করছে। তারা মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ মধ্যপ্রাচ্যের তিনটি দেশে যাবে। ব্র্যাক ব্যাংকের বিকাশের নাম ব্যবহার করে ব্যবসা করছে এরকম  ২৫ জন ব্যবসায়ীকে সনাক্ত করা হয়েছে দুবাইয়ে।
পাশাপাশি ব্যাংকের সার্ভিস চার্জ বেশি কিনা এবং ওয়েস্টার্ন মানিসহ যারা রেমিটেন্স আনার ক্ষেত্রে ব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত তাদের কমিশন বেশি দিতে হচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এসব কারণগুলোসহ সার্বিক বিষয় আমরা খতিয়ে দেখছি। আশা করি দুই-তিন মাসের মধ্যে এর সমস্যার সমাধান হবে বলে জানান ফজলে কবির।
দেশে আমদানি বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত নভেম্বর পর্যন্ত বৈদেশিক লেনদেনের চলতি খাতের উদ্বৃত্তি কমে ঘাটতিতে দাঁড়িয়েছে। এর অর্থ হলো আমদানি বাড়ছে। এটি খুবই ইতিবাচক।-জাগোনিউজ