এআর রহমানও আত্মহত্যা করতে চাইতেন!

আপডেট: নভেম্বর ৭, ২০১৮, ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


‘২৫ বছর বয়স পর্যন্ত আমি আত্মহত্যা নিয়ে ভাবতাম নিয়মিত। আমরা বেশির ভাগ মানুষই নিজেদের যথেষ্ট যোগ্য মনে করি না। বাবাকে হারানোর পর আমি শূন্যতা বোধ করতাম। ওই সময় আমার জীবনে অনেক কিছুই ঘটেছিল।’
সবার সামনে নিজের মেধাকে প্রমাণের আগে জীবনে এমন সব পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন যে, পরাজয়ের গ্লানিবোধ থেকে একটা সময় প্রতিদিনই আত্মহত্যা করার কথা ভাবতেন বিশ্বখ্যাত সংগীত পরিচালক এআর রহমান। অবশ্য অস্কারজয়ী এ সংগীতজ্ঞ এটাও বলেছেন, জীবনের ওই কঠিন পরিস্থিতিই তাকে আগের চেয়ে আরো সাহসী হতে সহযোগিতা করেছে। নিজের আত্মজীবনী প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এআর রহমান বলেন, ‘২৫ বছর বয়স পর্যন্ত আমি আত্মহত্যা নিয়ে ভাবতাম নিয়মিত। আমরা বেশির ভাগ মানুষই নিজেদের যথেষ্ট যোগ্য মনে করি না। বাবাকে হারানোর পর আমি শূন্যতা বোধ করতাম। ওই সময় আমার জীবনে অনেক কিছুই ঘটেছিল।’
তিনি আরো বলেন, ‘কিন্তু এসব ঘটনাই একটা সময় আমাকে আরো বেশি সাহসী করে তোলে। মৃত্যু সবার জন্যই অনিবার্য। প্রতিটি সৃষ্টিরই শেষ আছে। তাহলে কেন এসব নিয়ে এত ভয় পেতে হবে?’
এআর রহমান জানান, তার ভেতর যে সুপ্ত প্রতিভা ছিল, তা উদ্ভাসিত হয়েছে এ রকম নানা কঠিন পরিস্থিতি উদয়ের কারণেই। সফলতা নিয়ে এআর রহমানের বক্তব্য, ‘চেন্নাইয়ে একটি রেকর্ডিং স্টুডিও খোলার পরই আমার ভাগ্যের মোড় ঘুরে যায়। তার আগে পরিস্থিতি অন্য রকম ছিল। বাবার মৃত্যুর কারণে আমি ৩৫টি ছবিতে কাজের প্রস্তাব পেলেও সেগুলো থেকে মাত্র দুটিতে কাজ করেছি। সবাই অবাক হয়ে প্রশ্ন করত, কীভাবে আমি জীবন চালাব? সবাই বলত সুযোগ কাজে লাগাতে। আমার তখন বয়স ২৫ বছর। তবুও আমি সব প্রস্তাব গ্রহণ করতে পারিনি। ১২ থেকে ২২ বছরের মধ্যে আমি গানের বিষয়ে সবকিছু শিখে নিয়েছিলাম। তাই সংগীত পরিচালনা আমার কাছে সাধারণ বিষয় ছিল। আমার একই কাজ করতে ভালো লাগত না।’ সংগীত পরিচালক হিসেবে এআর রহমানের অভিষেক ঘটে ১৯৯২ সালে ‘রোজা’ ছবির মাধ্যমে। এরপর জীবন বদলে যেতে থাকে রহমানের। তিনি ধর্মান্তরিতও হন। ধর্মান্তরিত হওয়া নিয়ে রহমান বলেন, ‘আমার আসল নাম দিলীপ কুমার কোনো দিনও পছন্দ ছিল না। আমার মনে হতো, এই নামটার সঙ্গে আমার ব্যক্তিত্বের কোনো মিল নেই। আমি অন্য মানুষ হতে চাইতাম। নতুন মানুষ হতে চাইতাম, অতীতের সব বোঝা ঝেড়ে ফেলে।’