এএফসি কাপের নকআউট পর্বে আবাহনী

আপডেট: জুন ২৭, ২০১৯, ১:০২ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


আগের দুবার বিদায় নিয়েছিল গ্রুপ পর্ব থেকে। তবে এবার দেশের ফুটবলপ্রেমীদের হতাশ করেনি ঢাকা আবাহনী। ‘ই’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে এএফসি কাপের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে আকাশি-হলুদ জার্সির দল।
বুধবার গ্রুপসেরা হওয়ার পথে ভারতের মিনার্ভা পাঞ্জাবকে ১-০ গোলে হারিয়েছে আবাহনী। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে কর্নার থেকে দুর্দান্ত হেডে জয়সূচক গোলদাতা আফগান ডিফেন্ডার মাসিহ সাইগানি। ৬ ম্যাচ থেকে বাংলাদেশের প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়নদের সংগ্রহ ১৩ পয়েন্ট।
দিনের অন্য ম্যাচে ভারতের আরেক দল চেন্নাইয়ান ৩-২ গোলে হারিয়েছে নেপালের মানাং মার্সিয়াংদিকে। ১১ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে দ্বিতীয় হয়েছে চেন্নাইয়ান। মিনার্ভার ৫ আর মার্সিয়াংদির ২ পয়েন্ট।
ভিসা জটিলতায় ভারতে যেতে পারেননি নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার সানডে চিজোবা। ইনজুরির কারণে ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার ওয়েলিংটন প্রিওরিও খেলতে পারেননি। তবে দুই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ছাড়াই জয়ের উচ্ছ্বাস আবাহনীর।
গৌহাটির ইন্দিরা গান্ধী স্টেডিয়ামে প্রথম আক্রমণ ছিল মিনার্ভার। ষষ্ঠ মিনিটে ফরোয়ার্ড স্যামুয়েল লালমুয়ানপুইয়ার হেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় অল্পের জন্য। এরপর নিজেদের গুছিয়ে আক্রমণে ওঠে আবাহনী। দশম মিনিটে হাইতির ফরোয়ার্ড কেরভেন্স বেলফোর্টের বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া শট পোস্টে যাওয়ার ঠিক আগে ফিরিয়ে দেন প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডার। ২২ মিনিটে অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার মামুনুল ইসলামের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে আবার হতাশ করে বাংলাদেশের জনপ্রিয় দলকে।
৩০ মিনিটে আবার হতাশা। মিডফিল্ডার সোহেল রানার অ্যাসিস্ট থেকে ফরোয়ার্ড নাবীব নেওয়াজ জীবনের শট ঠেকিয়ে দেন মিনার্ভার গোলকিপার ভাস্কর রায়। ৫ মিনিট পর মামুনুলের পাস থেকে সোহেলের শটও ভাস্করকে পরাস্ত করতে পারেনি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে আক্রমণের ঢেউ তুললেও গোলের দেখা পাচ্ছিল না আবাহনী। ৫৩ মিনিটে সাইগানির পাস থেকে ফরোয়ার্ড জুয়েল রানার শট পোস্ট খুঁজে পায়নি। ৭০ মিনিটে জীবনের শট চলে যায় সাইড বার ঘেঁষে। ৬ মিনিট পর বদলি ফরোয়ার্ড ফয়সাল আহমেদ শীতলের হেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় একটুর জন্য।
৮০ মিনিটে অবশ্য সৌভাগ্যের ছোঁয়া পেয়েছে আবাহনী। মিনার্ভার আকাশদীপ সিংয়ের শট সাইডবারে লেগে প্রতিহত হলে বেঁচে যায় প্রিমিয়ার লিগের সফলতম দল।
ম্যাচ যখন ড্রয়ের পথে, ঠিক তখনই মহামূল্যবান গোলটির জন্ম। ৯৩ মিনিটে জীবনের কর্নার থেকে হেড করেছিলেন বেলফোর্ট। বল শূন্যে থাকা অবস্থায় সাইগানির দুর্দান্ত হেড চলে যায় মিনার্ভার পোস্টে।
একটু পরই বেজে ওঠে শেষ বাঁশি। আবাহনী তখন প্রথমবারের মতো এএফসি কাপের নকআউট পর্বে ওঠার আনন্দে উন্মাতাল!
এদিকে দীর্ঘ দিন ধরে আবাহনীর সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে সত্যজিত দাশ রুপু। আশি-নব্বইয়ের দশকে খেলেছিলেন ধানমন্ডির এই ক্লাবে, প্রায় দেড় যুগ ধরে দলের ম্যানেজারের দায়িত্বও তার কাঁধে। আবাহনীর সবার প্রিয় ‘রুপুদা’ ম্যাচের শেষ দিকে ভীষণ দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বললেন, “অনেক টেনশনে ছিলাম। অন্য ম্যাচের শেষ দিকে চেন্নাইয়ান তৃতীয় গোল করে জয়ের পথে এগিয়ে যাচ্ছিল। আমাদের সামনে তাই জয় ছাড়া আর কোনও পথ খোলা ছিল না। খেলোয়াড়দের প্রতি নির্দেশ ছিল, ‘আরও আক্রমণাত্মক খেলতে হবে, যেভাবেই হোক জিততে হবে।’ আজ আমরা বড় ব্যবধানে জিততে পারতাম। কিন্তু দুর্ভাগ্য, একটার বেশি গোল পাইনি। অবশ্য এক গোলের জয়েই আমরা অনেক খুশি।”
আবাহনীর পর্তুগিজ কোচ মারিও লেমসের ওপরে ছিল অনন্ত চাপ। ড্র করলেই বাদ এমন কঠিন সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়েও শিষ্যদের ওপর থেকে তিনি আস্থা হারাননি, ‘কোচ হিসেবে এটাই আমার প্রথম আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট। আর প্রথমেই সাফল্য পেলাম। এই অনুভূতির কথা বলে বোঝানো যাবে না। আজকের ম্যাচটা আমাদের জন্য সহজ ছিল না। দুজন গুরুত্বপূর্ণ বিদেশি ফুটবলার খেলতে পারেনি। তবে তাদের ছাড়াই প্রতিপক্ষের মাঠে আমরা সাফল্য পেয়েছি।’
দলের পারফরম্যান্সে উচ্ছ্বসিত লেমস আরও বললেন, ‘আজ আমরা কিছুটা ভাগ্যের সহায়তা পেয়েছি। গোলটা এসেছে শেষ মুহূর্তে। অবশ্য আমরা ক্রমাগত আক্রমণ না করলে গোলের সুযোগও আসতো না। দলের প্রত্যেকে নিজেকে উজাড় করে দিয়েছে। ছেলেদের পারফরম্যান্সে আমি খুব খুশি। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট পর্বে উঠেছি। এট আমাদের জন্য বিশাল অর্জন।’
আবাহনী: শহীদুল আলম সোহেল, রায়হান হাসান, ওয়ালি ফয়সাল, টুটুল হোসেন বাদশা, মামুনুল ইসলাম, সোহেল রানা, নাবীব নেওয়াজ জীবন (মামুন মিয়া), জুয়েল রানা (ফয়সাল আহমেদ শীতল), সাদ উদ্দীন, মাসিহ সাইগানি ও কেরভেন্স বেলফোর্ট।