একই মায়ের দুটি জরায়ুতে তিনটি শিশুর জন্ম, ব্যবধান ২৬ দিনের

আপডেট: মার্চ ৩০, ২০১৯, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


দুই জরায়ুতে বেড়ে ওঠা তিন নবজাতক- সংগৃহীত

যশোরের শার্শার গৃহবধূ আরিফা সুলতানা ইতির দুটি জরায়ুতে একই সময়ে সন্তান ধারণের বিরল ঘটনা ঘটেছে। এ গৃহবধূর দুই জরায়ু থেকে তিনটি সন্তান জন্ম নিয়েছে। প্রথম সন্তান জন্মের ২৬ দিন পর আরও দুই সন্তানের জন্ম হয়। এ ঘটনায় চিকিৎসক ও সেবিকারাও বিস্মিত হয়েছেন। তিনটি সন্তানই সুস্থ আছে।
গৃহবধুর পুরো নাম আরিফা সুলতানা ইতি (২০)। স্বামী সুমন বিশ্বাস। বাড়ি যশোরের শার্শা উপজেলার শ্যামল গাছি গ্রামে।
খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স মঞ্জু রাণী জানান, ‘২৫ মার্চ ভোর রাতে এখানে আনার পর ইতির স্বাভাবিক ডেলিভারি হয়। তাতে একটি পুত্র সন্তান জন্ম নেয়। এরপর কিছু অস্বাভাবিক ঘটনার ফলে তাকে আরও পরীক্ষা করা হয়। তখনই ইতির দুটি জরায়ু শনাক্ত হয়। এরপর তাকে এখানে আরও কিছুদিন চিকিৎসা করা হয়। কিন্তু দ্বিতীয় জরায়ু তখনও সন্তান ডেলিভারি দেওয়ার পর্যায়ে আসেনি। এক পর্যায়ে ৩ মার্চ তাকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দিয়ে বলে দেয়া হয় ১৫/২০ দিন পর পরীক্ষা করলে ওই জরায়ু থেকে সন্তান প্রসবের পরিস্থিতি বোঝা যাবে।’
তিন শিশুর বাবা সুমন বিশ্বাস জানান, ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে তার স্ত্রী গর্ভধারণজনিত কারণে অসুস্থ হলে তাকে প্রথমে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ঘণ্টাখানেক থাকার পর স্ত্রীকে ২৫ ফেব্রুয়ারি খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ভোররাতে পৌঁছানোর পর সেখানে তার স্ত্রীর নরমাল ডেলিভারি হয়। এতে একটি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। এর ২৬ দিন পর স্ত্রী আবারও অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে যশোর শহরে বেসরকারি আদ-দ্বীন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আবারও তার স্ত্রী একটি ছেলে ও মেয়ে শিশুর জন্ম দেন। তিনটি শিশুই সুস্থ আছে।
তিনি আরও বলেন, ‘এটা আল্লাহর রহমত ও অলৌকিক ঘটনা। আমাদের সন্তানরা সুস্থ আছে। তাদের নাম রেখেছি ইফাদ ইসলাম নুর, মো. হুজাইফা ও জান্নাতুল মাওয়া খাদিজা।’ সুমন বিশ্বাস জানান, তার স্ত্রীও সুস্থ আছেন।
যশোর আদ-দ্বীন হাসপাতালের গাইনি চিকিৎসক শীলা পোদ্দার বলেন, ‘এই প্রথম এ ধরনের একটি ঘটনা দেখলাম। এর আগে এমন ঘটনা দেখিওনি, শুনিওনি। প্রথমে যখন ইতিকে আনা হয়, তখন বিষয়টি বুঝতে পারিনি। পরে অপারেশনের শেষ পর্যায়ে বুঝতে পারি ইতির গর্ভে দুটি জরায়ু ছিল। যার একটিতে একটি সন্তান, অন্যটিতে দুইটি সন্তান ছিল। একটি সন্তান থাকা জরায়ু থেকে আগেই স্বাভাবিক ডেলিভারি হয়েছিল। পরে এখানে আনলে আরও দুইটি বাচ্চা ডেলিভারি হয়।’
আরিফা সুলতানা ইতি শার্শা উপজেলার পানবুড়ে গ্রামের মো. শহিদ ইসলামের মেয়ে। আর সুমন বিশ্বাস শ্যামলা গাছি গ্রামের মো. মন্টু বিশ্বাসের পুত্র। সুমন আরও জানান, তিনি শার্শায় একটি ভল্কানাইজিং গ্যারেজে (মটর লিক সারাই) কর্মচারী। দৈনিক ২৫০ টাকা হাজিরায় সেখানে কাজ করেন তিনি। এ অবস্থায় স্ত্রীর চিকিৎসা করতে গিয়ে ৮০ হাজার দেনায় পড়েছেন। এখন আর্থিক সংকটে রয়েছেন। ২০১৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর সুমন ও ইতির বিয়ে হয়। এরপর ২০১৭ সালে ১৬ রমজান তাদের প্রথম সন্তান হিসেবে একটি মেয়ে জন্ম হয়। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে ডেলিভারিতে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে না পারায় ভূমিষ্ট হওয়ার ২ মিনিট পর প্রথম ওই সন্তান মারা যায়। এরপর ইতির গর্ভে ২টি জরায়ুতে তিনটি সন্তান পেয়েছেন সুমন। এ সন্তান লাভে তিনি খুবই খুশি ও উৎফুল্ল।
তথ্যসূত্র: বাংলাট্রিবিউন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ