একজন কুস্তিগির মায়ের লড়াই

আপডেট: নভেম্বর ১৫, ২০১৭, ১:২৭ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


এ বছরের ৪ জানুয়ারি ছেলে ফয়সাল আহমেদের জন্ম। সিজারিয়ান অপারেশনের পর আবার কুস্তির ম্যাটে নামার কথা কি তিনি ভাবতে পেরেছিলেন? অথচ সেই ফারজানা শারমিন মিতুই মঙ্গলবার শেষ হওয়া ষষ্ঠ সার্ভিসেস কুস্তিতে সাফল্য পেয়েছেন, ৬৩ কেজি ওজনশ্রেণিতে সেনাবাহিনীর হয়ে জিতে নিয়েছেন রুপা। এই ইভেন্টে অবশ্য ২০১১ থেকে টানা পাঁচ বছর স্বর্ণপদক ছিল তার দখলে। তবে সন্তান জন্মের মাত্র ১০ মাসের মধ্যে দ্বিতীয় হওয়াও কম কথা নয়!
অনেকেই ভেবেছিল, পদক জয় তো দূরের কথা, কুস্তির ম্যাটেই বোধহয় আর দেখা যাবে না ফারজানাকে। মা হওয়ার পর কুস্তির মতো শারীরিক সংঘর্ষ আর পরিশ্রমের খেলায় অংশগ্রহণ কল্পনা করাই কঠিন। তবে ফারজানা অদম্য সাহসের সঙ্গে সব সংশয় দূর করে এগিয়ে চলেছেন। সন্তান জন্মের পর আট মাস ছুটিতে ছিলেন। এরপর ধীরে ধীরে দুই বেলা অনুশীলন করে ফিরে পেয়েছেন ফিটনেস।
মঙ্গলবার সার্ভিসেস প্রতিযোগিতার ফাঁকে বাংলা ট্রিবিউনকে ফারজানা বললেন, ‘অনেকেই মনে করেছিল আমি ফিরতে পারবো না। সিজারিয়ানের মতো কঠিন অপারেশনের পর কুস্তির মতো খেলায় ফেরা সত্যিই কঠিন। কিন্তু আমি হতোদ্যম হইনি। কুস্তিতে ফেরার জন্য আমাকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। সন্তান জন্মের সময় ওজন ছিল ৮২ কেজি। কয়েক মাসের মধ্যে তা ৬৩ কেজিতে আনতে হয়েছে। কারণ আমি এই ওজনশ্রেণিতে খেলি। কুস্তিতে ফেরা ভীষণ চ্যালেঞ্জিং ছিল আমার জন্য।’
ফারজানার বিয়ে হয় ২০১২ সালে। গ্রামীন ব্যাংকে চাকরি করা স্বামী আরশাদ আলীর কর্মস্থল শেরপুর। শাশুড়ির সঙ্গে ঢাকায় থাকা ফারজানাকে সামলাতে হয় সংসারের সব কাজ। সেনাবাহিনীর সৈনিক হিসেবে কর্মরত এই কুস্তিগির জানালেন, ‘আমাকে অনেক কিছু সামলে কুস্তিতে টিকে থাকতে হচ্ছে। শাশুড়ি অবশ্য অনেক সাহায্য করেন, স্বামীও অনুপ্রাণিত করেন আমাকে। কিন্তু এত ছোট বাচ্চা সামলে কুস্তিতে টিকে থাকা খুব কঠিন। আমাকে সব দিক ঠিক রেখে খেলা চালিয়ে যেতে দেখে অনেকেই অবাক হয়। আসলে ভালোবাসা থেকেই কুস্তির সঙ্গে জড়িয়ে আছি। এমন নয় যে কুস্তি না খেললে চাকরি থাকবে না।’
২০০৯ সালে জুডো দিয়ে ফারজানার খেলোয়াড়ি জীবন শুরু। আনসারের হয়ে জুডো ছাড়াও উশু, কুস্তি আর বক্সিং করতেন। সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার পর শুধু কুস্তিতে লড়ছেন। এ পর্যন্ত জাতীয় ও সার্ভিসেস প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এক ডজনের বেশি স্বর্ণপদক জিতেছেন। বয়স ২৮ হয়ে গেলেও আরও কয়েক বছর খেলোয়াড় হিসেবে থাকার ইচ্ছে ফারজানার। তারপর কোচ হয়ে জড়িয়ে থাকতে চান কুস্তির সঙ্গে।-বাংলা ট্রিবিউন