একজন শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশ

আপডেট: April 26, 2020, 12:20 am

এম মতিউর রহমান মামুন


আজ থেকে শত বছর পূর্বে রবীন্দ্রনাথ হয়তো এমন এক পরিস্থিতিতে লিখেছেন “হে দেব, হে পিতা, তুমি বিশ্বপাপ মার্জনা করো মানুষ মরছে তাকে বাঁচাও। কে বাঁচাবে পিতা নোহসি। তুমি যে আমাদের সকলের পিতা, তুমি বাঁচাও। তোমার বোধের দ্বারা বাঁচাও”।
এমন বোধ থেকেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির মহাদুর্যোগকালে দেশে ও বাইরে যাঁরা বিত্তবান বা বিত্তসম্পদের মালিক আছেন তাঁদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন, দেশের মানুষের এই দুঃসময়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে মানুষকে বাঁচানোর জন্য তা নিঃসন্দেহে প্রসংশনীয় ! আমাদের দেশে বড় বড় উদ্যোক্তা, হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক নেহায়েত কম নয় কিন্তু এই দুঃসময়ে প্রত্যাশানুযায়ী এগিয়ে আসছে বলে মনে হয় না। দেশ ও জাতির কঠিন সময়ে বিত্তবান মানুষ এগিয়ে আসুক সেই চাওয়া তো অমূলক নয়। এর মধ্যই বসুন্ধরা, ব্র্যাক ব্যাংকসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান দুঃসময়ে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে তারা নিশ্চয় আজীবন সমাদৃত হবে। বিশেষ করে যারা দেশে এবং দেশের বাইরে শত শত হাজার কোটি টাকা ব্যাংকে জমা রেখেছেন সবার আগে তারা ক্রান্তিকালে দেশের মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা ভালোবাসা ও দেশপ্রেমে এগিয়ে আসুক- মানুষ এমন কামনাই করছে, এবং তা হবে শ্রেষ্ঠ কাজ। কেননা দেশের মানুষের কল্যাণে যারা অর্থ ব্যয় করতে পারেন তারাই সার্থক । সে প্রত্যাশা কতটা পূরণ হবে তা জানি না। তবে আশার কথা জাতীর দুঃসময়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই আমাদের শেষ ভরসা। একটু ভেবে দেখার সময় এসেছে বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রভাবশালী বিশ্ব মোড়ল হিসাবে খ্যাত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে সম্পূর্ণ অসহায় বলে মনে হচ্ছে। তাদের লাশের সারি প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, দাফন করবে কী করে তাই এখন বড় বিষয়। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের একই অবস্থা। ইউরোপের রাষ্ট্রনায়কদের করুণ আর্তনাদে আকাশ ভারি হচ্ছে ! ঠিক সেই মুহূর্ত্বে ৮৫ হাজার গ্রাম বাংলার অসচেতন বিপুল দারিদ্র জনগোষ্ঠীর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অদম্য শক্তি, সুদৃঢ় মনোবল ও অক্লান্ত পরিশ্রম মেধা মননে জাতিকে সমৃদ্ধ করে করোনা’র বিপক্ষে যুদ্ধ করছেন। শুধু মানসিক শক্তিনিয়ে ২০ কোটি মানুষের জন্য বিভিন্ন প্যাকেজ, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করতে সহজ শর্তে কৃষি লোন সহ করোনা পরর্বতীতেও তিন বছর মেয়াদি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন তা প্রসংশনীয়। তবে বলে রাখা দরকার গরিব কৃষক যেন লোন গ্রহণে কোনো হয়রানি না হয় এবং বিনা জামানতে শুধু এনআইডি কার্ড দিয়েই যেন মানুষ লোন গ্রহণ করতে পারে বঙ্গবন্ধু কন্যার সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার। লকডাউনে বিপাকে পড়া হতাশাগ্রস্ত গ্রাম-গঞ্জের নিম্ন আয়ের মানুষের দুর্দশা লাঘবে শেখ হাসিনার সরকার দ্রুততম সময়ে জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণ তৎপরতা শুরু করেছে যা বিরল। ভর্তুকি দিয়ে ন্যায্যমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য বিক্রয়ও চলছে তা প্রসংশনীয়। ইতিপূর্বে প্রধানমন্ত্রী পরিষ্কার নির্দেশ দিয়েছেন কাজ হারানো গ্রাম-গঞ্জের বিপন্ন মানুষের তালিকা করার জন্য। তৈরির কাজ দ্রতই চলছে। তাদের ব্যাংক হিসাবে নগদ অর্থ পাঠানোর জন্য ৭৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ধরেই নেওয়া যায় মোবাইল ব্যাংক হিসাবে এই অর্থ যাবে। তা ছাড়াও সরকার প্রধান বয়স্ক ও বিধবা ভাতাসহ অন্যান্য খাতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা তহবিল ব্যাপক আকারে বাড়ানো ও পরিমাণে বৃদ্ধি করেছেন। নতুন করে আরও ৫০ লাখ নতুন রেশন কার্ড ইস্যু করা হচ্ছে তা প্রশংসিত হবে। প্রধানমন্ত্রী গণমানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবের জন্য যে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন তেমনটি বলেছিলেন রবীন্দ্রনাথ “আমার সমস্ত স্বদেশীদের সুখ-দুঃখময় চিত্ত যে আমারই চিত্তের বিস্তার, তাহারই উন্নতি যে আমারই চিত্তের উন্নতি এই একান্ত সত্য যতদিন আমরা না উপলব্ধি করিয়াছি, ততদিন আমরা দুর্ভিক্ষ হইতে দুর্ভিক্ষে, দুর্গতি হইতে দুর্গতিতে অবতীর্ণ হইয়াছি-ততদিন কেবলই আমরা ভয়ে ভীত এবং অপমানে লাঞ্ছিত হইয়াছি”। একজন শেখ হাসিনা যখন জাতির বেঁচে থাকার জন্য সহায়ক বা অবলম্বন মনে করছেন সাধারণ মানুষ তখন বাঁকিদের ভূমিকা কী সে দিকেই এখন দৃষ্টি। আমাদের মনে রাখা দরকার বিভিন্ন সময় দূর্যোগ এসেছে আবার তার সমাধানও হয়েছে, কোনো কিছুই তো আর চিরস্থায়ী নয়। তবে হা আমাদেরও উচিত হবে এই মুহূর্ত্বে সহনশীল হয়ে, ধৈর্য ধারণ করা। আমার মনে হয় তার চেয়ে বড় কাজ এখন কিছুই নেই। যার যে দায়িত্ব বা কর্তব্য তা যথাযথ পালনের মধ্যদিয়ে দেশ ও জাতিকে সহযোগিতা করাও কর্তব্যের মধ্যেই পড়ে। দুঃখজনক হলেও সত্য, এই বিষয় আমাদের মধ্য তেমন নেই বললেই চলে। সরকার যথাযথ রাত-দিন কাজ করছে কিন্তু আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব আমরা কতটুকু পালন বা অনুসরণ করছি তা দেখার বিষয়। সময়ে অসময়ে বিরুদ্ধতা না করে সহয়োগিতার নাম দেশপ্রম। করোনাভাইরাস সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে গেছে। এর সঙ্গে লড়াই করে আমাদের জিততেই হবে। এবং মহাসংকটকালে বিপদগ্রস্ত মানুষকে নিয়ে রাজনীতির চর্চা থেকে বিশ্বাবাসীকে বেরিয়ে আসতে হবে। তা না হলে বিপদ বেড়েই চলবে। আমরা বিপন্ন হব আরও মানুষকে বিপন্ন করব- এই বর্বর মনোবৃত্তি আমাদের মধ্য উদয় যেন না হয়, আমাদের মনের মধ্যে যেন না আসে। জাতির এই সংকটকালে সরকারের পক্ষ থেকে যে দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে তা মেনে চলাও আমাদের কর্তব্যর মধ্যই পড়ে। কেননা সরকারের গৃহিত প্রতিটা পদক্ষেপ জনকল্যাণমুখি, ইতোমধ্যেই শেখ হাসিনা প্রমাণ করেছেন। তিনি একটা রাষ্ট্রের রাষ্ট্রনায়ক যার নাম বঙ্গবন্ধুর ‘বাংলাদেশ’।
লেখক : রবীন্দ্রস্মৃতি সংগ্রাহক ও গবেষক।