বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

একজন সলিম উদ্দিন এবং আমাদের মুক্তিযুদ্ধ

আপডেট: December 10, 2019, 1:25 am

সুজিত সরকার


দেশে এখনো এমন মানুষ জীবিত আছেন, যারা কেবল স্বাধীনতাই চেয়েছিলেন, তাদের কর্মযজ্ঞের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির প্রত্যাশা করেন নি। এমনই এক ব্যক্তিত্ব ছিলেন নাটোরের বড়াইগ্রাম থানার মর্সিন্দা গ্রামের ছলিম উদ্দিন মণ্ডল। স্বচ্ছল সংসার তার। জমিতে ধান-পাট-গমসহ নানা ফসল ফলিয়ে তিনি সন্তানদের পড়ালেখাসহ সাংসারিক ব্যয় মোকাবেলা করতেন। মাঝে-মধ্যে স্ত্রীর ভাইদের পড়ালেখায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতেন। শ্যালকত্রয় সে জন্যে তাঁর প্রতি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ ছিলেন। জ্যেষ্ঠ আব্দুল আজিজ মুক্তিযোদ্ধা এবং শহিদ। মেজো একটি বেসরকারি কলেজের অধ্যক্ষ। ছোট পিটিআই-এর ইন্সট্রাক্টর। মণ্ডল সাহেবের সন্তানদের মধ্যে জ্যেষ্ঠপুত্র বনপাড়া ডিগি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক।
গত শতকের ষাটের দশকের মধ্যভাগ থেকে বঙ্গবন্ধু ছয় দফা প্রণয়ন করেন এবং সে দাবির আলোকে বাঙালিদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম গড়ে ওঠে। দাবির সমান্তরালে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশজুড়ে নানা আন্দোলন গড়ে ওঠে। তার আগে ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালে হক-ভাসানির নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচন, সাম্প্রদায়িক শিক্ষানীতি বাতিল, সামরিক স্বৈরশাসন বিরোধী ছাত্র-জনতার সংগ্রাম করেছে। এবং ছাত্রদের পক্ষ থেকে ছাত্র লীগ ১১ দফা দাবি পূরণের আন্দোলনও দেশময় ছড়িয়ে দিয়েছে। ততোদিনে আওয়ামী লীগ ভেঙে ন্যাপ, আবার ন্যাপ ভেঙে এক দল ভাসানির নেতৃত্বে চিনপন্থি আরেক দল অধ্যাপক মোজাফ্ফরের নেতৃত্বে সোভিয়েতপন্থি রাজনীতিক কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ভাসানির দলও শেষ পর্যন্ত এক থাকেনি, তারা ভেঙে আরো কয়েক টুকরো হয়ে যায়। মোজাফ্ফরের নেতৃত্বে পরিচালিত ন্যাপ স্বাভাবিকভাবেই শক্তিশালী হয়ে ওঠে। তাদের সঙ্গে পাকিস্তানে নিষিদ্ধ ঘোষিত কমিউনিস্ট পার্টির নেতা-কর্মীরা যুক্ত হন, যারা সোভিয়েত পন্থি হিসেবে চিহ্নিত ছিলেন। আওয়ামী লীগ থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি পরিত্যাজ্য হয়। বঙ্গবন্ধু স্পষ্ট বুঝেছিলেন, ‘মুসলিম’ শব্দটি দলের সঙ্গে যুক্ত থাকায় তার অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও আদর্শকে ম্লান করছে। দেশের মুসলমান ব্যতিত অন্য ধর্মাবলম্বীরা দলের কার্যক্রমে সুস্থ মনে অংশ নিতে পারছে না। পাকিস্তান নামের রাষ্ট্র সৃষ্টি এবং সাম্প্রদায়িক অপ-তত্ত্বে বাংলা ভেঙে দ্বি-খণ্ডিত করাকে বঙ্গবন্ধু সুস্থ চিত্তে গ্রহণ করেন নি। কলকাতা থেকে ফিরে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হয়েই তিনি পাকিস্তানি শাসকদের দ্বি-চারিতা পর্যবেক্ষণ করে তার বিরোধিতা শুরু করেন। কারাগারে যান। কারামুক্ত হয়ে সংগঠনকে আরো শক্তিশালী করতে জনস্বার্থের পক্ষে কর্মসূচি ঘোষণা করেন। শুরু হয় তাঁর ওপর সরকারি নির্যাতন। তাঁর “অসমাপ্ত আত্মজীবনী” পড়লেই সেটা অনুধাবন করা যায়। এ ছাড়া “কারাগারের রোজনামচা”তেও অনেক ঘটনার বিবরণ তিনি লিখে গেছেন। সময়ের সঙ্গে এবং জনমতের পক্ষে অবস্থান নিয়ে তিনি ধারাবাহিকভাবে নানা কর্মসূচিপ্রণয়ন ও পালন করেন।
প্রথম দিকে অনেকেই বঙ্গবন্ধুর পাকিস্তান বিরোধিতা সুস্থ চিত্তে গ্রহণ করেন নি। তারা ভেবেছে, মুসলমানদের জন্যে একটা দেশ সৃষ্টি হলো, সেই দেশের বিরোধিতা করার অর্থ পাকিস্তান নামের রাষ্ট্রের শুধু নয়, ধর্মের বিরোধিতার সমতুল্য। কিন্তু দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং যোগ্যতা থাকা পরও কর্মক্ষেত্রে বাঙালির অবস্থান অনিশ্চিত হয়, কিংবা উচ্চপদে ও সামরিক বাহিনীতে বাঙালির সংখ্যা যখন শতকরা দশ জন হয়, স্কলারশিপ দেয়ার ক্ষেত্রেও এই বৈষম্য আরো স্পষ্ট হয়ে ওঠে, একই পণ্যের মূল্য পশ্চিম পাকিস্তানের সঙ্গে পার্থক্য নির্ণিত হয়, যেমন-চিনি পূর্ব বাংলায় দশ আনা সের, পশ্চিম পাকিস্তানে ছয় আনা, কাগজ পূর্ব বাংলায় দশ থেকে বারো আনা দিস্তা, পশ্চিম পাকিস্তানে চার আনা, তখন স্বভাবতই শিক্ষিত মধ্যবিত্তরা বৈষম্যরেখাটি স্পষ্ট বুঝতে পারেন। রাজনীতিক প্রজ্ঞাবান বঙ্গবন্ধু সে সব বুঝতে পেরেই ছয় দফা প্রণয়ন করেন। জন সচেতনার লক্ষ্যে ছাত্র-যুবকেরা দেশময় তার প্রচার চালান। নানা কর্মসূচি ঘোষণা ও সফল করেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, হাটে-বাজারে, রাজপথে প্রতিবাদী মিছিল-সভা করেন তারা। পোস্টার, প্রচারপত্র আর ছাত্র-জনতার সভার ফলে দেশের সাধারণ মানুষও বিষয়টি অনুধাবন করতে সক্ষম হয়। ‘সোনার বাংলা শ্মশান কেনো’ মুদ্রণ করে এক ঐতিহাসিক পোস্টার দেশ ছেয়ে যায়। এ ছাড়া কোন্ পণ্যের মূল্য পশ্চিম পাকিস্তানে কতো আর পূর্ব বাংলায় কতো তার একটি তালিকা দিয়ে আরেকটি পোস্টার-প্রচারপত্র বিতরণ হয়। পাকিস্তানিরা পূর্ব বাংলার ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের মুসলমানই মনে করতো না। তারা বাঙালি মুসলমানদের ভারত আর হিন্দুদের দালাল মনে করতো। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠির এই মনোভাব বাঙালিদের হতাশ করেছে। তারা আশাহতও করেছে। অন্যদিকে বাম-প্রগতিশীল হিসেবে পরিচিত ন্যাপ একদল রাশিয়ায় বৃষ্টি হলে তারা বাংলাদেশে বসেই ছাতা মেলেন, ভাসানির ন্যাপ ইসলামিক সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার গ্রহণ করে সত্তরের নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘ভোটের বাক্সে লাথি মারো, সমাজতন্ত্র কায়েম করো।’ দুই ন্যাপই জনগণের আকাক্সক্ষার বিপরীতে রাজনৈতিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে গিয়ে তারা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ভাসানি ন্যাপ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালেও পাকিস্তানের সঙ্গে কনফেডারেশন করার পক্ষে প্রচারণা করে। এই প্রস্তাব খোন্দকার মোস্তাক ও জিয়াউর রহমানেরও ছিলো। তারা একাত্তরে একটি প্রচারপত্র বিতরণ করে, যার শিরোদেশে লেখা হয় ‘মুজিব না স্বাধীনতা?’ বঙ্গবন্ধু তখন পাকিস্তানে বন্দি। তাঁকে মুক্ত করে পাকিস্তানের সঙ্গে একটা আপোসরফা করার পক্ষে মোস্তাক-ভাসানি একমত ছিলেন। বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে খুন করার পর ভাসানি তার প্রতিবাদও করেন নি। তিনি সামরিক শাসনামলে সে কারণেই বলেছিলেন, ‘ডোন্ট ডিস্টার্ব আইয়ুব’। চরম বামেরা পিস্তলে তিন গুলি সংরক্ষণ করতেন। একটা পাকিস্তানিদের, অন্যটা মুক্তিযোদ্ধাদের, আরেকটা নিজের জন্যে বরাদ্দ রাখতেন। তারাও স্বাধীনতা চান, তবে মুজিবের নেতৃত্বে নয়। কিন্তু একবারও ভাবেন নি তারা জনবিচ্ছিন্ন। জনসমর্থন ব্যতিত কি বিশেষ কোনো রাষ্ট্র কিংবা শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা যায়? পরবর্তীতে যারা স্বাধীন দেশে ‘বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়ে গণবাহিনি গঠন করে নির্বিচারে সাধারণ মানুষকে হত্যা করেছেন, তাদের আজকের পরিণতি সেই মুজিবের দলের ওপর নির্ভর করে সংসদ ও মন্ত্রী পদে আসীন হতে হয়েছে। এই ইতিহাস দেশের শিক্ষিত সমাজ অবহিত। তাদের অনেকেই তার সঙ্গে যুক্তও ছিলেন। আজকেও তাদের অনেকে নানা পেশায় থেকে নানা দল করছেন। তাদের অনেকেই এখনো মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের প্রতি আন্তরিক ও অনুগত নন। ভোট এলে ‘জয় বাংলা’ বলেন, ভোট শেষ হলেই এই শব্দ দুটো বারেক উচ্চারণ করেন না। অর্থাৎ সুযোগ বুঝে তারা ঐতিহাসিক শব্দ দুটোকে ব্যবহার করেন। তাদের অনেকেই মুক্তিযুদ্ধে অংশ না নিয়েও বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন বলে দাবি করেন। এ্ ভাবেই ইতিহাসের বিকৃতি ঘটেছে। ইতিহাসের বিকৃতি কেবল জামাত-বিএনপি আর রাজাকারের দল করেনি, এই রাজনীতিক গোষ্ঠিও করেছেন।
কিন্তু মর্সিন্দা গ্রামের সলিম উদ্দিন মণ্ডল এতোসবের খবর রাখতেন না। তিনি নিঃস্বার্থভাবে এবং কোনো পুরস্কারের প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করেই মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দিয়েছেন। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়মিত আশ্রয় দিচ্ছেন, খাদ্য-অর্থ ও তথ্য জোগান দিচ্ছেন সেটা এলাকার অনেক মানুষই অবহিত। এ তথ্য শান্তি কমিটি আর রাজাকার-আল বদরদের কাছে পৌঁছলে, তারা সলিম উদ্দিন মণ্ডলের বাড়ি লুটপাট করে আগুন জ¦ালিয়ে দেয়। পাকিস্তানিরা তাঁকে ধরার জন্যে একাধিকবার চড়াও হয়। বুদ্ধিবলে তিনি পাকিস্তানি ও রাজাকাদের পাতা ফাঁদ ছিঁড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যান। দেশ স্বাধীন হলে গ্রামের যুবতী হাজেরা খাতুন পাকিস্তানিদের নির্যাতনের শিকার হলে তিনি তাঁকে আশ্রয় দেন। হাজেরার স্বামী তাঁকে পরিত্যাগ করে নিরুদ্দেশ হয়। ধর্ষিতা স্ত্রী নিয়ে ঘর করতে পারবে না। এ মন্ত্রণা দেয় গ্রামের মসজিদের ইমাম, যে ছিলো পাকিস্তানিদের দালাল। সলিম উদ্দিন বীরাঙ্গণাকে বাড়িতে রেখে খাদ্য ও পরিধানের ব্যবস্থা করেন। অর্থাৎ পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেন। হাজেরা খাতুন অদ্যাবধি বীরাঙ্গণার মর্যাদা পাননি। বৃদ্ধ বয়সে গ্রামের গৃহস্থের বাড়ি বাড়ি কাজ করে উদোরের প্রয়োজন মোকাবেলা করেন। সলিম উদ্দিন যতোদিন জীবিত ছিলেন, ততোদিন তাঁর খাওয়া-পড়ার বিষয়টি ভাবতে হয়নি। তাঁর মৃত্যুতে সংসার ছেলেদের মধ্যে ভাগ হয়ে যায়। সংসারের আর্থিক সামর্থ্যও অনেকটা কমে যায়। ফলে হাজেরাকে নিজের লজ্জা নিবারণ ও পেটের দায় মেটাতে হয় শ্রম দিয়েই। অথচ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, সকল বীরাঙ্গণাই মুক্তিযোদ্ধার মর্যাদায় ভূষিতা হবেন। অনেকেই হয়েছেন, কিন্তু হাজেরা জীবনের পরিণতি স্পর্শ করেও সেই মর্যাদাটুকু পাননি। আর পাবেন কি না কে বলবে। অথচ বড়াইগ্রাম থানার এক সম্মুখ যুদ্ধে ধৃত রাজাকারের স্ত্রী দিব্বি শহিদ মুক্তিযোদ্ধার সনদ নিয়ে মোহাম্মদপুর অসহায় মুক্তিযোদ্ধাদের জন্যে নির্মিত বাড়িতে সরকারি চাকরি করেও সন্তান-সন্ততি নিয়ে বসবাস করছে। এ দেশে রাজাকারের পরিবারের আশ্রয় হয় মুক্তিযোদ্ধার মিথ্যে পরিচয়ে, কিন্তু হাজেরার মতো প্রকৃত বীরাঙ্গণার সামান্য স্বীকৃতি হয় না। সলিম উদ্দিন জীবিত থাকলে হয়তো হাজেরাও একটা ব্যবস্থা হয়ে যেতো। তাঁকে সংসদ সদস্য, চেয়ারম্যান কেউই সহযোগিতা করেন নি। সলিম উদ্দিনের স্ত্রীর ভাই আব্দুল আজিজ শহিদ হয়েছেন একাত্তরে। তাঁর বোনের ছেলে মেরিগাছা হাই স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক আক্কাস আলীও আব্দুল আজিজের সঙ্গেই নিহত হয়েছেন। তাঁরা ভারতে প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করলে লালপুর থানার মহরকয়ায় রাজাকারদের হাতে গ্রেফতার হন। রাজাকারেরা তাঁদের নির্মমভাবে নির্যাতন করে পাকিস্তানিদের হাতে তুলে দেয়। আহত মুক্তিযোদ্ধাদের পাকিস্তানিরা নাটোর এনে আরেক দফা নির্যাতন করে হত্যা করে। তাঁদের মৃতদেহটা পর্যন্ত পরিবারের হাতে দেয়া হয়নি। লাশ ফেরত দেয়ার কথা বলে শান্তি কমিটির নেতা পাঁচবাড়িযা হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী টাকা নিয়েও নানা বাহানা করে। এই দালাল প্রধান শিক্ষক ও আরেক দালাল মোমিন উদ্দিন মহুরি তথ্য দেয় যে, সলিম উদ্দিন মণ্ডলের বাড়িতে প্রতিরাতে মুক্তিযোদ্ধা আশ্রয় নেয়। পাকিস্তানিরা সে তথ্যের ভিত্তিতে রাজাকার-আল বদরদের নিয়ে সলিম উদ্দিনের বাড়ি আক্রমণ করে।
এ ভাবে দেশের অভ্যন্তরে বসে অনেক মানুষ নিঃশর্তে মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা দান করেছেন। আমরা এঁদের অবদানকে উল্লেখযোগ্যভাবে স্মরণ করি না। মুক্তিযোদ্ধারা মাসিক ভাতা পান, তাদের ছেলে-মেয়ে এমন কি নাতি-নাতনিরাও রাষ্ট্রীয় সুযোগ পায়। কিন্তু এদের সন্তান না পান, তাঁকে তো সম্মানিত করা যেতে পারে। আর তা পারেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা। কারণ তাঁরাই তো একাত্তরে সলিম উদ্দিনদের সহযোগিতা নিয়ে যুদ্ধ করেছিলেন। সলিম উদ্দিনদের অবদান সম্মুখ যোদ্ধাদের থেকে কোনো অংশে কম কি?