একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: নাটোর সদর আসন শক্ত অবস্থানে নৌকা, কোনঠাসা বিএনপি

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৮, ২:২৬ পূর্বাহ্ণ

মোহাম্মাদ সুফি সান্টু, নাটোর


(ছবিতে বাম থেকে) সাংসদ শফিকুল ইসলাম শিমুল, সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকার, জেলা আওয়ামী লীগ সহসভাপতি ও পৌর মেয়র উমা চৌধুরী জলি, জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম রমজান, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুল সোনার দেশ

ভৌগলিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ জেলা হচ্ছে নাটোর। সারাদেশের সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা, ও জাতীয় অর্থনীতিতেও নাটোরের গুরুত্ব অপরিসীম। নাটোরকে উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বারও বলা হয়ে থাকে। এ আসনে ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩২ হাজার। এরমধ্যে মধ্যে ১ লাখ ৬০ হাজার পুরুষ ভোটর এবং ১ লাখ ৬৭ হাজার নারী ভোটার। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সারাদেশের মত নাটোরের এ আসনেও নির্বাচনী আমেজ শুরু গেছে।
বর্তমানে নাটোরের এ আসনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী বিজয়ী হলেও গুটিয়ে বসে নেই নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন প্রত্যার্শী নেতাকর্মীরা। নির্বাচনী এলাকায় সভা সমাবেশ, মিটিং-মিছিল, গণসংযোগ, মোটরসাইকেল শোডাউন, উঠোন বৈঠকে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। এ আসনে নির্বাচনী প্রচারনা এখন তুঙ্গে, চলছে প্রচার-প্রচারনা। নির্বাচন এখনও কিছুটা দেরি থাকলেও ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ভোট প্রার্থনা করছেন আওয়ামীলীগের প্রার্থীরা। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে প্রতিটি দলের নেতাকর্মী ও ভোটাররা সরব হয়ে উঠেছেন। দলীয় মনোনয়ন পেতে ব্যস্ত ও গলদঘর্ম হচ্ছেন প্রতিটি দলের নেতাকর্মীরা। মনোনয়ন নামক সোনার হরিণকে নিজের ঘরে কব্জা করতেও মরিয়া হয়ে উঠেছেন তারা। কার চেয়ে কে বেশি জনপ্রিয়, সেটা প্রমাণ করতেও দৌঁড়ঝাপের শেষ নেই। বর্তমানে নাটোরের এ আসনেটি আওয়ামীলীগের দখলে। এ আসনে মনোনয়ন দৌঁড়ে দলীয়-বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের ছড়াছড়ি। আর প্রার্থী বেশি হওয়ায় বড় দুই দলের নেতাকর্মীদের মাঝে দ্বন্দ্ব, গ্রুপিং, বিভেদ ও ¯œায়ুযুদ্ধ দৃশ্যমান। নাটোরের সদর আসনে শক্ত অবস্থানে আছে আওয়ামীলীগ। মাঠে বিএনপি-জামায়াতসহ অন্যান্য দলের নেতাকর্মীদের প্রকাশ্যে কোন তৎপরতা না থাকলেও ক্ষমতা পুনরুদ্ধারে গোপন তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে তারা। গত নির্বাচনে বিজয়ী আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থীরা হলেন, লালপুর বাগাতিপাড়া (আসন-১) থেকে আবুল কালাম আজাদ। তবে আগামী নির্বাচনে আওয়ামীলীগ সমর্থিত নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধ থাকলে আবারও এ আসনটি থেকে নৌকা বিজয় লাভ করবে বলে নেতাকর্মী ও ভোটারদের অভিমত।
জেলা সদর হওয়ায় এই আসনটি প্রতিটি দলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি আসন। এই আসনে মূলত আওয়ামীলীগ ও বিএনপির হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলে। নির্বাচনে নানা সমীকরণ মেলাতে হয় প্রার্থীদের। এই আসনে আওয়ামীলীগের সবচেয়ে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছে। নাটোরের রাজনীতিতে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের একজন সাবেক ভূমি উপমন্ত্রী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব রয়েছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে আবারও মনোনয়ন প্রত্যাশি জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সাংসদ শফিকুল ইসলাম শিমুল। জেলার রাজনীতিতে তরুণ এই রাজনৈতিক নেতার উত্থান কিছুটা নাটকীয়। চারদলীয় জোটের শাসনামলে উপমন্ত্রী রুহুল কুদ্দুস তালুকদারের পেশিশক্তির রাজনীতির জবাবে নাটোরের রাজপথে আওয়ামী লীগের যে কয়েকজন তরুণ নেতার উত্থান ঘটে, তাদেরই একজন এই শিমুল। ২০০৮ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হন। ২০১৩ সালে নাটোরের প্রাণকেন্দ্র কানাইখালি মোড়ে মোহাম্মদ নাসিমসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে জনসভার মঞ্চে সদর আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকারের সঙ্গে হাতাহাতিতে লিপ্ত হয়ে বিতর্কিত হন এই নেতা। এ ঘটনার পরই মূলত রাজনীতির লাইমলাইটে চলে আসেন শিমুল। ভাগ্য বিপর্যয় ঘটে আহাদ আলীর সকারের। মনোনয়ন পেয়ে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হন শিমুল। নির্বাচনে জিতে আরও অপ্রতিরোধ্য হয়ে পড়েন শিমুল। মনোনয়নকে কেন্দ্র করে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকারের সঙ্গে পুরনো দ্বন্দ্ব তো ছিলই । সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর নানা কারণেই জেলা আওয়ামীলীগের প্রথম সারির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম রমজান, পৌরসভার মেয়র উমা চৌধুরী জলি এবং জেলা যুবলীগের সভাপতি বাসিরুর রহামান খান চৌধুরী এহিয়ার সঙ্গেও দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। নির্বাচনকে সামনে রেখে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এছাড়া আওয়ামীলীগ থেকে নৌকা প্রতীকে নির্বাচনে মনোনয়ন চাইবেন জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম রমজান, সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকার, জেলা আওয়ামী লীগ সহসভাপতি ও পৌর মেয়র উমা চৌধুরী জলি, জেলা যুবলীগের সভাপতি বাসিরুর রহমান খান এহিয়া চৌধুরী মনোয়ন, জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মালেক শেখ।
বর্তমান সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলামের আরেক অপ্রতিরোধ্য প্রতিদ্বন্দ্বীর নাম শরিফুল ইসলাম রমজান। ২০১৪সালে নাটোর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকে আরো জনপ্রিয় হয়ে উঠেন জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম রমজান। বর্তমানে এই আসনে তিনি জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছেন বলে জানাচ্ছেন দলীয় সূত্র ও সাধারণ ভোটাররা। স্থানীয় সাংসদ শফিকুল ইসলাম বিভিন্ন সময় বিতর্কিত হলেও শরিফুল ইসলাম রমজানের রয়েছে একদম ক্লিন ইমেজ। বিভিন্ন গোয়েন্দা রিপোর্টে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রমজানই রয়েছেন বলে জানা শোনা যাচ্ছে। বলা হয়ে থাকে, জনপ্রিয়তা কিংবা পেশিশক্তিতে এমপি শিমুলের সঙ্গে নাটোর শহরে টক্কর দিতে পারেন এই রমজানই। তাই শিমুল বিরোধী বলয়ের কেন্দ্রীয় চরিত্রও তিনি। শিমুলকে হঠিয়ে সামনের নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারেও জোর আশাবাদী এই নেতা। সম্প্রতি তিনি বর্তমান সাংসদের বিরুদ্ধে নির্বাচনী প্রচারনায় বাধাদানের অভিযোগ করেন। উপজেলা চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকে এই আসনের প্রতিটি ইউনিয়ন, পাড়া, মহল্লায় ঘুরে বেড়িয়েছেন তিনি। জনগণের আস্থার প্রতীকে পরিনত হয়েছেন। সরকারি অনুদানের বাইরেও তিনি ব্যক্তিগত উদ্যেগে নানা উন্নয়ন কর্মকা- পরিচালনা করে আসছেন। রাস্তাঘাট নির্মাণ, নানা উন্নয়ন অবকাঠামো তৈরিতে তার অবদান রয়েছে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রতি অবিচল আস্থা ও বিশ্বাস রেখে জননেত্রী শেখ হাসিনার সকল আদেশ ও নির্দেশ মেনে দীর্ঘ ৩০টি বছর ধরে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয় শরিফুল ইসলাম রমজান। জননেত্রী শেখ হাসিনার উপর ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পর আন্দোলন করতে গিয়ে তার বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে ৩টি মামলা রুজু করা হয়। সরকারি স্টাডি অ্যান্ড ট্যুর ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রিয়া, জার্মানী, চীন, ভারত, সিংঙ্গাপুর, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশসমূহে ভ্রমন করেন। ২০১৪ সালে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার এক বছর পরেই ২০১৫ ইতোমধ্যেই শিক্ষা বিকাশে অনন্য অবদান রাখার জন্য রাজশাহী বিভাগের শ্রেষ্ঠ উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর নাটোর জেলা আওয়ামীলীগের কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক পদে তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান সাংসদ শফিকুল ইসলাম শিমুলের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। এ কাউন্সিলে মোট ২৫৩ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ১জন কাউন্সিলর অনুপস্থিত, নির্বাচনী প্রিজাইডিং অফিসারের স্বাক্ষর না থাকায় ২টি ভোট বাতিল হয়। ভোটে তিনি ১২৭ ভোট পেলেও কারচুপির কারণে হাতেগোনা ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে যৌথ বাহিনী কর্তৃক গ্রেফতার, বারবার কারাবরণ এবং ১৯৯০ এরশাদ পতনের পর কারামুক্তি লাভ করেন। তৎসময়ে তার বিরুদ্ধে আনিত ৩০টি রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা সমূহ বিশেষ বিবেচনায় সরকারের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে প্রত্যাহার করা হয়। এরপর ২০০১ সালের ১ অক্টোবর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ষড়যন্ত্র ও কারচুপির মাধ্যমে আওয়ামীলীগকে পরাজিত করার পর নাটোরে বিএনপি জামাত কর্তৃক ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ, সন্ত্রাস, অগ্নিসংযোগ, আওয়ামীলীগ কর্মীদের বাড়িঘরে লুটপাটের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সাধারণ মানুষের মধ্যে সঠিকভাবে উপস্থাপন, বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কর্মকা- প্রকাশ ও প্রচার এবং সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে ২০১৪সালে মুক্তবুদ্ধি সম্পন্ন সমমনা সাংবাদিকদের একটি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠা করেন। নিজ উদ্যোগে গঠিত শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি সংরক্ষণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ, গণকবরে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নাম অনুসন্ধান পূর্বক প্রতিস্থাপন, শহীদ ও মৃত মুক্তিযোদ্ধাদের কবরস্থান সংরক্ষণে পাকাকরণ ও স্মৃতি সংরক্ষণ করেন। ৬ শতাধিক মসজিদ, ৩ শতাধিক ঈদগাহ মাঠ, ৩ শতাধিক কবরস্থান, ১ শতাধিক মন্দির, ২০-২৫ টি শ্মশাণ ঘাট, ৫টি গির্জা, ৩টি খ্রিস্টানদের কবরস্থনের উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন সাধন করেন বিভিন্ন সময়ে আওয়ামীলীগের একজন একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে আন্দোলনকারী ও কারাবরণকারী এই নেতা। এছাড়া বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদানের নিমিত্ত্ব ১টি ব্লাড ব্যাংক (রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির অধীন) স্থাপন করেছেন। নির্বাচনী প্রচারেও আওয়ামীলীগের অন্যান্য প্রার্থীদের চাইতে তিনি সবচেয়ে বেশি নৌকা প্রতীকে গণসংযোগ করে চলেছেন। নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন পেলে নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারেও পুরোপুরি আশাবাদী তিনি।
আহাদ আলী সরকার সম্পর্কে শহরের অনেকেই বলেন, ব্যক্তিগতভাবে সজ্জন এই রাজনীতিবিদের ভুল ছিলো মন্ত্রী থাকাকালে ছেলেদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা। তাকে ডুবিয়েছে তার দুই ছেলে। অবশ্য কিছুটা কোণঠাসা হলেও জেলার রাজনীতিতে এখনও নিজের বলয় ধরে রাখতে পেরেছেন ক্ষমতার গদি থেকে ছিটকে পড়া এই রাজনীতিবিদ। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন লাভের দৌড়ে শিমুলের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী তিনি। আরেকজন মনোনয়ন প্রত্যাশি উমা চৌধুরী জলি। নাটোর পৌরসভার নির্বাচিত মেয়র। রাজনীতিতে নবাগত হলেও পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যের শেকড়টা অনেক গভীরে প্রোথিত। তার বাবা প্রয়াত শঙ্কর গোবিন্দ চৌধুরী ছিলেন বঙ্গবন্ধুর একান্ত সহচরদের একজন। ছিলেন নাটোর আওয়ামী লীগের প্রানপুরুষ। প্রায় ২২ বছর আগে মারা গেলেও এখনও শহরের আপামর মানুষ সবাই শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন এই মানুষটিকে। তারই মেয়ে উমা চৌধুরী জলি। নাটোর পৌরসভা নির্বাচন এবার সুষ্ঠু হয়েছে স্বীকার করেন বিএনপি নেতারাও। সেই নির্বাচনে তিনি বিএনপির প্রার্থীকে উল্লেখযোগ্য ভোটের ব্যবধানেই পরাজিত করে মেয়র হন। জলিকে ঘিরেও রয়েছে আওয়ামী রাজনীতির একটি বলয়। নৌকা প্রতীক পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী তিনিও। এছাড়া বাসিরুর রহমান খান চৌধুরী এহিয়াও মনোনয়ন চাইবেন। শহরের প্রভাবশালী ও সম্ভ্রান্ত চৌধুরী পরিবারের সন্তান তিনি। বর্তমান সাংসদ শফিকুল ইসলাম শিমুল এমপির সঙ্গে একসময় তার গভীর সম্পর্ক থাকলেও এখন তারা চরম প্রতিদ্বন্দ্বী। নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন প্রত্যাশি অপর আওয়ামীলীগ নেতা মালেক শেখ বসে নেই। তিনিও বিভিন্ন স্থানে প্রচারণা ও জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মরহুম হানিফ আলীর ছোট ভাই তিনি। রাজনৈতিক পরিবারের ব্যাকগ্রাউন্ড ও নিজের ইমেজকে তিনি কাজে লাগাতে বদ্ধপরিকর।
আওয়ামী লীগে একাধিক প্রার্থী থাকলেও এ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী একজনই। নাটোরে বিএনপির কারিগর হিসেবে পরিচিত সাবেক উপমন্ত্রী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু এই আসনে প্রার্থী হচ্ছেন এটা নিশ্চিত। জেলার রাজনৈতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে নাটোরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে সবসময় মাঠে সচেষ্ট ছিলেন। ভবিষ্যতেও জনগণ তার পক্ষেই থাকবেন। স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাবশালী এই নেতা কোনো কারণে প্রার্থী হতে না পারলে অবশ্য তার স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন ছবি এবারও বিএনপির প্রার্থী হবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বিভিন্ন মামলা জটিলতায় ২০০৯ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে দুলু অংশ নিতে পারেননি। এবারও তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলে নাটোরে বিএনপির ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তায় পড়বে বিএনপি। বিএনপিতে দুলু বিরোধী একটি বলয় অপ্রকাশ্যে থাকলেও জাতীয় পার্টিতে প্রার্থী নিয়ে কোনো বিরোধ নেই। যদিও বাম দলগুলো থেকে প্রার্থিতা নিয়ে কোনো ঘোষণা এখনও আসেনি, তবুও এবারও এই দল থেকে প্রার্থী হবেন ১৯৮৬-৮৮-এর সংসদ সদস্য সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান সেন্টু বলে মনে করছেন অনেকে। তবে জামায়াত নেতাদেরও নির্বাচন নিয়ে কোনো আলোচনা নেই। তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ রেখেছেন মাত্র। এছাড়া বাংলাদেশের ওয়াকার্স পাটি থেকে লড়বেন দলটির জেলা সভাপতি অ্যাড. লোকমান হোসেন বাদল।