একান্ত সাক্ষাৎকারে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী এমাজউদ্দিন প্রামানিক || রেশমের ক্ষেত্রে আমাদের কিছু ‘পিছুটান’ রয়েছে

আপডেট: জানুয়ারি ৪, ২০১৮, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


অনেক চেষ্টা করেও রাজশাহীর রেশম বিষয়ে তেমন কোনো অগ্রগতি অর্জন করা যায় নি। আমাদের কিছু পিছুটান আছে। তবে এটি কাটিয়ে ওঠার বিষয়ে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছি। রেশম ছাড়া পাট এবং বস্ত্র খাতের যথেষ্ট উন্নতি করা গেছে এমনটায় অভিমত দেন পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এমাজউদ্দিন প্রামানিক।
দৈনিক সোনার দেশকে দেয়া একান্ত সাক্ষাতকারে এ কথা বলেন নওগাঁর মান্দা থেকে নির্বাচিত এই প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা। সম্প্রতি জাতীয় সংসদ ভবনে তার অফিসে এই সাক্ষাৎকারটি নেন, সোনার দেশের সহকারী সম্পাদক রাশেদ রিপন। রেশম বিষয়ে সরকার যে উদ্যোগগুলো গ্রহণ করেছে সে বিষয়ে এবং পলুচাষি পর্যায়ে উৎপাদন বৃদ্ধির বিষয়ে উদ্যোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী ইমাজউদ্দিন প্রামানিক বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়ার পরে তিনি এবং তার প্রতিমন্ত্রী অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন। এই কর্মকাণ্ডে মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ অন্য কর্মকর্তারা কাজ করে যাচ্ছেন। পাট এবং বস্ত্র খাতে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। তবে রেশমকে এগিয়ে নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে এটিকে ব্যর্থতা বলা যাবে না। যেভাবে সফল হওয়ার কথা সেভাবে সফল হওয়া যাচ্ছে না। সব ক্ষেত্রে আমরা চেষ্টা করছি পলু গুটি উৎপাদন থেকে গাছ লাগানোর জন্য যে প্রজেক্টগুলো রয়েছে তার কাজ চলছে। আশা করি এগিয়ে যেতে পারবো। তবে এ ক্ষেত্রে পিছু টান টা বেশি। সামনে বাজেটের সময় আমি বেঁচে থাকি মন্ত্রী থাকি বা না থাকি। সংসদ সদস্য হিসেবে কিছু প্রস্তাব দিব রেশমের ব্যপারে। বাজেটে এই প্রস্তাবগুলো যদি গ্রহণ করা হয় তবে রেশমের ক্ষেত্রে অগ্রগতি সম্ভব। তবে যে পিছুটান আমাদের আছে তার জন্য বিগত বিএনপি সরকার দায়ি। আগের সরকারগুলো রেশমকে পেছনে টেনে নিয়ে গেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ ক্ষেত্রে বিশেষ কতগুলো উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তিনি সহযোগিতা করছেন। এই পিছুটান ছেড়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
রেশম কারখানা চালু করা হয়েছে যদি মাঠে পলুর উৎপাদন না থাকে তবে কারখানা আবারো লোকসানের মুখে পড়বে। এ ক্ষেত্রে লোকসানের বোঝা আরো বাড়বে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, কোনো কাজ যখন শুরু করা হয় তখন তাতে যদি আন্তরিক প্রচেষ্টা থাকে একাগ্রতা থাকে, তবে তাকে এগিয়ে নেয়া সম্ভব। এ ক্ষেত্রে সুতার কথা বলা হচ্ছে। যখন কারখানা চালু থাকবে। পলুচাষিরা সুতার ভালো দাম পাবে তাদের যদি ভালো মুনাফা দেয়া যায় তখন অবশ্যই চাষিরা পলু চাষে ফিরে আসবে। রেশম সুতার উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।
রেশম উন্নয়ন বোর্ডের অধিন বেশ কয়েকটি প্রকল্প চলছে। বর্তমান বাজেটে চারটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ সব প্রকল্প বাস্তবায়নে যথেষ্ট অগ্রগতি হচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে সমস্যা কোথায়? এ প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এমাজউদ্দিন প্রামানিক বলেন, আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের কিছু পিছুটান রয়েছে। বিশ্বের কয়েকটি দেশ যেমন চিন এবং ভারত রেশমের ক্ষেত্রে যথেষ্ট অগ্রসর হয়েছে। তাদের উৎপাদন খরচ কম। আমাদের ক্ষেত্রে উৎপাদন খরচ বেশি। এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করা হচ্ছে।