একীভুত হচ্ছে ধর্মভিত্তিক ৮টি দল

আপডেট: মে ১৭, ২০১৯, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


আটটি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল ও সংগঠন একীভুত হয়ে একটি রাজনৈতিক দল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতোমধ্যে একটি খসড়া কমিটিও করা হয়েছে। সম্ভাব্য নতুন দলটির নাম ‘ইসলামিক ডেমোক্রেটিক পার্টি (আইডিপি)’। বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মিছবাহুর রহমান চৌধুরীকে চেয়ারম্যান, সাবেক সংসদ সদস্য এম এ আউয়ালকে কো-চেয়ারম্যান ও মুখপাত্র এবং অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম মহাসচিব হিসেবে নতুন দলের দায়িত্ব পালন করবেন।এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত একাধিক শীর্ষ নেতা বাংলা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নতুন দলটির উদ্যোক্তারা জানান, ঈদুল ফিতরের আগে-পরে আনুষ্ঠানিকভাবে দলটি আত্মপ্রকাশ করবে। যে আটটি দল একীভূত হচ্ছে, এর সব দলই গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর ১৫টি সমমনা রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি নিয়ে গঠিত ‘ইসলামিক ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স’ (আইডিএ)-এর অন্যতম শরিক ছিল।
একীভুত হওয়া আটটি দল হচ্ছে, বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোট, গণতান্ত্রিক ইসলামি মুভমেন্ট, ইসলামিক পার্টি (এম এ রশিদ), ইসলামিক জাস্টিজ পার্টি, ইসলামী ইউনিয়ন, মানবাধিকার আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি, ডিএম নাজমুল হকের বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি। এছাড়া শর্ষিনার পিরের জমিয়তে দারুস সুন্নাহ ও পেশাজীবী পরিষদও (ড. রেজাউল করিম) নতুন দলে যুক্ত থাকবে।
দলের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান মিছবাহুর রহমান চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বাংলাদেশে এই মুহূর্তে ইসলামিক দলের কর্মকাণ্ড প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ও ও ইসলামের মূল ধারার অনুসারী আলেমদের দল ও সংগঠনের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী দল গঠনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। শিগগিরই আমরা এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবো।’
২০১৩ সাল থেকে বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব ছিলেন এম এ আউয়াল। গত দশম জাতীয় সংসদে তিনিও ছিলেন সংসদ সদস্য। পরবর্তী সময়ে নির্বাচনের আগে তরিকত ফেডারেশন থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। নতুন দলে কো-চেয়ারম্যান ও মুখপাত্র হিসেবে কাজ করবেন এম এ আউয়াল।
নতুন দল সম্পর্কে এম এ আউয়াল বলেন, ‘আমরা ১৫টি দল মিলে জোট করেছিলাম। পরে দেখলাম চিন্তা-চেতনা ও আদর্শের জায়গায় আমাদের মধ্যে মিল রয়েছে। সবাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়, ইসলামি মূল্যবোধ, জঙ্গিবাদমুক্ত দেশ প্রতিষ্ঠায় কাজ করছি। আমাদের ক্ষুদ্র-ক্ষুদ্র শক্তি ও প্রচেষ্টাগুলো একত্রিত করার জন্য উদ্যোগ নিয়েছি। এজন্য আমরা জোটের ৮টি দল আলাদা না থেকে একীভূত হচ্ছি। এতে আমাদের ঐক্য সুদৃঢ় হবে, রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী অবস্থানও সৃষ্টি হবে।’
মাসিক মদীনার সম্পাদক ও ইসলামী রাজনীতিক প্রয়াত মাওলানা মুহিউদ্দিন খানের মেয়ে জামাই অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম দলের সম্ভাব্য মহাসচিব হচ্ছেন। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘যে আটটি দলের সমন্বয়ে নতুন দল হবে, আত্মপ্রকাশের দিনে সেই আটটি দলের বিলুপ্তি ঘোষণা করা হবে।’
নির্বাচন কমিশনে এখন নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৩৯টি। এর মধ্যে ইসলামপন্থী দল ১০টি। জোটের সংখ্যা প্রায় ১৭টি। এই জোটগুলোর মধ্যে নিবন্ধিত-অনিবন্ধিত দল ও সংগঠন রয়েছে ১৫২টি। জোটগুলো হচ্ছেÍ১৪ দলীয় জোট, ২০ দলীয় জোট, সম্মিলিত জাতীয় জোট, গণতান্ত্রিক বাম জোট, যুক্তফ্রন্ট, জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়া, ইসলামিক ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স, জাতীয় ইসলামী মহাজোট, বাংলাদেশ জাতীয় জোট (বিএনএ), ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট এনডিএফ, গণতান্ত্রিক জোট, প্রগতিশীল জোট, হুদা জোট ও বিজেপি।
এই জোটগুলোর মধ্যে ‘ইসলামিক ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েনন্স’ বিলুপ্ত হয়ে এখন ইসলামিক ডেমোক্রেটিক পার্টিতে রূপান্তরিত হচ্ছে। গত একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে উল্লিখিত জোটগুলো সক্রিয় থাকলে নির্বাচনের পর সবগুলো জোটই প্রায় ধুঁকছে।
অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা অনেক চিন্তা-ভাবনা করেছি। প্রাথমিকভাবে জোটের মধ্যে যে ২১ জনের প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন, তারাই থাকবেন নতুন দলে। আমরা চাইছি, সম্মিলিতভাবে শক্তিশালী একটি দল করতে।’ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষে উদ্যোক্তারা নিবন্ধনের জন্য প্রস্তুতি নেবেন বলেও তিনি জানান।
তথ্যসূত্র: বাংলাট্রিবিউন