বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

এক মাসে সীমান্তে ১১ বাংলাদেশিকে হত্যা এটা উভয় দেশের সম্পর্কের পরিপন্থি

আপডেট: February 6, 2020, 11:59 pm

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আগের যে কোনো সময়ের থেকে অনেক ভাল, অনেক বন্ধুত্বপূর্ণÑ দুই দেশের পক্ষ থেকে তেমনটিই বলা হয়ে থাকে। কিন্তু সীমান্তে বিএসএফ-এর গুলিতে মানুষ হত্যার আধিখ্য ওই বক্তব্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এটা বাংলাদেশের জন্য খুবই অস্বস্তিকর। দুই বন্ধুপ্রতীম দেশের মধ্যে এ রকম পরিস্থিতি মোটেও কাম্য নয়Ñ বরং এই তৎপরতা বন্ধুত্বেরই পরিপন্থী।
২৫ ডিসেম্বর থেকে ৫ ফেব্রুয়ারির সকাল পর্যন্ত দেশের সীমান্ত এলাকায় ১১ জন বাংলাদেশি নাগরিককে হত্যা করা হয়েছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদর দফতরে বাহিনীর পরিচালক (পরিকল্পনা) লে. কর্নেল সৈয়দ আশিকুর রহমান সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান।
ওই কর্মকর্তা আরো জানান, ‘সীমান্তে হত্যাকাণ্ডে যেটা সাধারণভাবে বোঝা যায় যে, সীমান্তের সন্নিকটে, তা কিন্তু না। অনেক সময় দেখা যায় ভারতীয় সীমান্তের ভেতরে ৫ থেকে ১৫ কিলোমিটারের ভেতরেও হয়। হয়তো দেখা যায় কোনও নিরীহ মানুষ ভারতের সীমান্তে ঢুকে যাচ্ছে, হয়তো গরু আনার জন্য গেছে, তাই অনেক সময় দেখা যায় আমাদের নির্দিষ্ট এলাকার বাইরেও এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। যখন আমাদের ওপাশ থেকে মৃতদেহ হস্তান্তর করা হয়, তখনই আমরা জানতে পারি। এই সংখ্যাটা বেশি ঘটে যারা গরু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত তাদের ক্ষেত্রেই। আমরা এটা দেখছি।’
বাংলাদেশের সাথে ভারতের বন্ধুপ্রতীম সম্পর্কই যদি থাকে তা হলে এ ধরনে হত্যাকাণ্ড কীভাবে গ্রহণযোগ্য হয়। বিএসফ ও বিজিবির মধ্যে এ বিষয়ে তথ্য আদান-প্রদান হয়, মহাপরিচালক পর্যায়ে সম্মেলন হয়, সেখানে সীমান্ত হত্যা নিয়ে আলোচনা হয়Ñ সীমান্তে হত্যা শুন্যের কোঠায় নিয়ে আসার অঙ্গীকারও ব্যক্ত হয় কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি বরং উল্টোটাই। অবৈধ প্রবেশ অর্থেই যে বাছ-বিচার না করে গুলি করে হত্যা করতে হবেÑ এর যথার্থতা বিচার করা যায় কি?
বাংলাদেশ- ভারত উভয় দেশই জঙ্গিবাদের ঝুঁকির মধ্যে আছে। বাংলাদেশ জঙ্গিবাদকে জিরো টলারেন্স দেখিয়েছে এবং জঙ্গি তৎপরতা কঠিনভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছে। শুধু এটাই নয়Ñ বর্তমান সরকার ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধেও জিরো টলারেন্স দেখিয়েছেÑ তারা আর বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে পারে না। এর ফলে ভারতই বড় সফলতা পেয়েছে। উভয় দেশের জন্য বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য দুই দেশের সীমান্তরক্ষীদের পরস্পরে মধ্যে সমঝোতা ও সহযোগিতা খুবই প্রয়োজন। কিন্তু বিএসএফ কর্তৃক সীমান্তে নির্বিচার বাংলাদেশি হত্যা সেই সমঝোতা ও সহযোগিতার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এর ফলে উভয় বাহিনির মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাসের সঙ্কট দেখা দিতে পারে। এটাও কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিষয়টি ভারতের দিক থেকেই বেশি করে বিবেচনার দাবি রাখে। সমঝোতা ও সহযোগিতা চাপিয়ে দেয়ার বিষয় নয়Ñ উভয় দেশের বন্ধুত্ব ও সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশই গুরুত্বপূর্ণ।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ