বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

এবার এস এ গেমসে আসছে সোনা ক্রীড়াঙ্গনে একক ইভেন্টগুলোকেও আরও গুরুত্ব দিতে হবে

আপডেট: December 5, 2019, 1:14 am

দক্ষিণ এশিয়ান গেমস (এসএ) এবার চতুর্থ দিন পর্যন্ত চারটি সোনার পদক জয় করেছে বাংলাদেশের ছেলেমেয়েরা। তাদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে এসএ গেমসে সাফল্যে ভাসছে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন। তবে দলগতভাবে নয়। যেই পদকগুলো এখন পর্যন্ত এসেছে সবাই একক ইভেন্টে। গত মঙ্গলবার এসএ গেমসের তৃতীয় দিনেই ৩টি সোনা জিতেছে বাংলাদেশ। ২০১৬ সালে পুরো প্রতিযোগিতায় যে কয়টি সোনা জিতেছিল তারা, এবার সেটা এলো মাত্র তিন দিনেই! সোমবার দিপু চাকমা তায়কোয়ান্দোর ২৯ প্লাস বয়স শ্রেণিতে জিতে বাংলাদেশকে প্রথম সোনা এনে দেন। মঙ্গলবার দিনটা বাংলাদেশের জন্য সাফল্যময় হয়েছে কারাতের সৌজন্যে। সব সোনাই এসেছে এই ডিসিপ্লিন থেকে। বাংলাদেশকে এদিন প্রথম সোনা জয়ের আনন্দ এনে দেন আল আমিন ইসলাম। কাঠমান্ডুর আন্তর্জাতিক স্পোর্টস কমপ্লেক্সে ৬০ কেজি কুমিতে ইভেন্টের ফাইনালে পাকিস্তানের জাফরকে চার পয়েন্টের ব্যবধানে হারান। ৭-৩ পয়েন্টে বাংলাদেশকে এই আসরের দ্বিতীয় সোনা এনে দেন রাজশাহীর ছেলে আল আমিন।
কারাতে থেকে বাংলাদেশকে দিনের দ্বিতীয় সোনা এনে দেন মারজান আক্তার প্রিয়া। মেয়েদের ৫৫ কুমিতে ইভেন্টের ফাইনালে তিনি পাকিস্তানের কাউসার সানাকে ৪-৩ পয়েন্টে হারান।
সোমবার কাতা ইভেন্টে ব্রোঞ্জ জিতে এই আসরে বাংলাদেশকে প্রথম পদক এনে দেওয়া হোমায়রা আক্তার অন্তরাও পান সোনালী সাফল্য। দিনের তৃতীয় সোনা আসে তার হাত ধরে। মেয়েদের ৬১ কেজি কুমিতে ইভেন্টের ফাইনালে ৫-২ পয়েন্টে তিনি জেতেন নেপালের অনু গুরুংয়ের বিপক্ষে।
এদিন কারাতের একই ইভেন্ট দুটি ব্রোঞ্জ জিতেছে বাংলাদেশ। মেয়েদের ৬৮ কেজিতে মরিয়ম খাতুন বিপাশা ও ছেলেদের ৬৭ কেজিতে মোহাম্মদ ফেরদৌস পদক যোগ করেন। আগের দিন কারাতে থেকে দুটি রুপা ও সাতটি ব্রোঞ্জ জিতেছিল লাল-সবুজ পতাকার প্রতিনিধিরা।
তাই দেশের ক্রীড়াঙ্গনে কিশোর ও তরুণ সমাজকে খেলার প্রতি আসক্ত, উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করা এবং দেশজুড়ে খেলার প্রসার ও জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করা। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিয়ে তাদের সামর্থ্য, মেধা ও সক্ষমতা উদ্ঘাটন করা। দেশে ও বিদেশে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা ও প্রয়োজনীয়তা বলার অপেক্ষা রাখে না। পরিবেশ-পরিস্থিতির সঙ্গে সময়মতো নিজেকে মানিয়ে নিতে হয়। যত বেশি খেলার সুযোগ মিলবে একজন খেলোয়াড় নিজেকে ‘পক্ব’ করার পাশাপাশি তাঁর পারফরম্যান্সের গ্রাফকে ঊর্ধ্বমুখী করতে পারবেন। এজন্য প্রস্তুতির কোনো বিকল্প নেই। ভালো প্রস্তুতি আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়, মানসিক চাপ থেকে মুক্ত রাখে। যারা প্রশিক্ষণের দায়িত্বে ছিলেন তারা অবশ্যই ভালো। এর প্রমাণও মিলেছে। তবে মনে রাখতে হবে, সময়ের সঙ্গে সব কিছুই পাল্টায়। সীমাবদ্ধতা থেকে তখন বেরিয়ে আসা ছাড়া উপায় থাকে না। দুনিয়াজুড়ে খেলার চত্বর দ্রুত এগিয়ে চলেছে-আর এই অগ্রযাত্রার সঙ্গে তো তাল মিলিয়ে চলতেই হবে। ভালো কাঁচামাল, দক্ষ বিশেষজ্ঞ, ভালো ব্যবস্থাপনা ও সুষ্ঠু পরিবেশ পারে কারখানা থেকে ভালো পণ্য উৎপাদন করতে।
আর যারা এখন পর্যন্ত কোনো পদক জেতেননি সত্যি, তারা নিজেদের অতিক্রম করতে পেরেছেন, সম্ভাবনার আলো জ্বালাতে সক্ষম হয়েছেন। স্বপ্নের পথের সঙ্গে ভালো পরিচয় ঘটেছে। বেড়েছে সাহস ও আত্মবিশ্বাস। মনের মধ্যে বিশ্বাস জমেছে, সামর্থ্য, সক্ষমতা ও মেধাকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে অবশ্যই সম্ভব বড় স্বপ্নপূরণ। আর সেটা হলো অলিম্পিক থেকে পদক থেকে সোনা জয়। একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে। সেই আশায় আছি-দলগত ইভেন্টের পাশাপাশি একক ইভেন্টগুলোকে বর্তমান সরকার গুরুত্ব দিচ্ছেন। আগামীতে অলিম্পিকের জন্য আরও দিবেন। এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ