এবার ক্লোন বিড়াল

আপডেট: আগস্ট ২৯, ২০১৯, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


চীনা এক বায়োটেক প্রতিষ্ঠান এবার তৈরি করল একটি ক্লোন বিড়াল। এখন তারা এই বিড়ালে স্মৃতি সংযোজনের কাজ করছেন। গার্লিক নামের একটি মৃত বিড়ালের কোষ থেকে ক্লোন তৈরি করে গার্লিককে পুনর্বার জন্ম দেওয়া হয়েছে।
এই ক্লোন বিড়ালটি দেখতে হুবুহু প্রয়াত গার্লিক বিড়ালের মতোই। বিড়ালটির মালিক হুয়াং ইয়ু গ্লোবাল টাইমসকে বলেন, ‘আমার বিড়ালটি ইউরিনারি ট্র্যাক ডিজিসে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। তারপর আমি গার্লিকের ক্লোন করার সিদ্ধান্ত নেই। কারণ ও আমার কাছে খুবই স্পেশাল ছিল এবং আমি ওকে ভুলতে পারছিলাম না।’ গার্লিকের ক্লোন তৈরি করেছে চীনের বায়োটেক প্রতিষ্ঠান সিনোজিনি। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান বিজ্ঞানী লাই লিয়াংজিউ বলেন, ‘ক্লোন বিড়ালটি তার জেনেটিক ডোনারের (মূল বিড়াল) মতোই দেখতে। কিন্তু আচরণ এবং ব্যক্তিত্ব আলাদা। বিড়ালটির নিজস্ব সত্তা বিরাজ করছে এবং নিজস্ব স্মৃতি অনুযায়ী সে আচরণ করছে।’
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ক্লোন বিড়ালের পরবর্তী গবেষণায় আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে মূল বিড়ালের ব্যক্তিত্ব ও আচরণ ক্লোন বিড়ালে সংযোজন করা যাবে।
সিনোজিনির ব্যবস্থাপক ঝাও জিয়ানপিং গত সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘ম্যান-মেশিন ইন্টারফেস টেকনোলজি অথবা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স টেকনোলজি ব্যবহার করে আমরা ক্লোন পশুর-প্রাণীর মধ্যে আসল পশু-প্রাণীর স্মৃতি সংযোজন এবং সংরক্ষণ করার কাজে অনেক ধাপ এগিয়ে গেছি।’
ধরুন, আপনার পোষা বিড়ালটি কোনো কারণে মারা গেল অথবা হারিয়ে গেল। তখন আপনার দুঃখিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। অনলাইনে অর্ডার দিয়ে দিলেন ক্লোন বিড়াল। কিছুদিন পর আপনার হারিয়ে যাওয়া অথবা মৃত বিড়ালটির ক্লোন আপনার বাসায় ডেলিভারি ম্যান এসে দিয়ে গেল। ব্যাপারটা কত অদ্ভুত, মজার আর কাল্পনিক, তাই না? কিন্তু এই কাল্পনিক ব্যাপারটিকেই বাস্তবে রূপ দিতে যাচ্ছে চীনা প্রতিষ্ঠানটি। সিনোজিনির বিজ্ঞানীরা একই ধরনের কোষ ট্রান্সফার কৌশল ব্যবহার করে এর আগে ২০১৭ সালে বিশ্বের প্রথম ক্লোন কুকুর তৈরি করেছিলেন।
প্রতিষ্ঠানটি থেকে বিড়ালের ক্লোন তৈরি করতে চাইলে ব্যয় করতে হবে প্রায় ২৫০,০০০ ইউয়ান। আর কুকর ক্লোনিংয়ের জন্য ৩৮০,০০০ ইউয়ান।
যদিও এ ধরনের ক্লোনিং ইতোমধ্যেই অনেক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্লোন প্রাণীগুলো তেমন স্বাস্থ্যবান হয় না, তাদের গড় আয়ু আসল প্রাণীদের তুলনায় খুব একটা আশানুরুপ হয় না। অন্যদিকে পোষা প্রাণীদের নিয়ে কাজ করে এমন অনেক সংগঠন ক্লোনিংকে অনৈতিক আখ্যা দিয়েছে।
বিতর্ক সত্ত্বেও বেশ কয়েকজন বিড়াল মালিক ইতিমধ্যে পরিষেবাটি বুক করেছেন বলে জানা গেছে। তথ্যসূত্র : ফিউচারিজম