এলএনজি খাতে ১০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকির প্রাক্কলন

আপডেট: জুন ১০, ২০১৯, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


আগামী ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে তরলিকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) খাতে ১০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হতে পারে। এটাই হবে বাজেটে ভর্তুকির সর্ববৃহৎ খাত। সরকার দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে যে কয়টি খাতকে অগ্রাধিকার দেওার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার মধ্যে জ্বালানি খাত অন্যতম বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, জ্বালানি খাতে ভর্তুকির প্রাক্কলন করা হয়েছে ১০ হাজার কোটি টাকা। এবারই প্রথম এ খাতে বিশাল পরিমাণ ভর্তুকির অর্থ রাখা হচ্ছে। মূলত বিদেশ থেকে বেশি দামে কিনে দেশে অভ্যন্তরীণ বাজারে কম দামে বিক্রি করতে হয়। আর এ কারণে পেট্রোবাংলাকে এই ভর্তুকির অর্থ দেওয়ার প্রয়োজন পড়বে। তবে গ্যাসের দাম বাড়ানো হলে ভর্তুকির পরিমাণ কমে অসবে বলে সূত্র জানিয়েছে। গত এপ্রিল মাসে প্রথমবারের মতো এলএনজি খাতে পেট্রোবাংলাকে এক হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে সরকার।
জানায়, গত বছরের অক্টোবরে অর্থ মন্ত্রণালয়ে ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের জন্য ৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ভর্তুকি চেয়ে চিঠি দিয়েছিল বাংলাদেশ পেট্রোবাংলা। কিন্তু চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত এ বাবদ কোনো অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। গত মার্চ পর্যন্ত ৩ হাজার কোটি টাকা আর্থিক ঘাটতিতে ছিল সংস্থাটি। এপ্রিলের যে টাকা পাওয়া গেছে তা বর্তমান ঘাটতির কিছুটা মেটানো সম্ভব হবে। কিন্তু সামনে এলএনজি আমদানি আরো বাড়বে। গ্যাসের দাম না বাড়ানো হলে ভর্তুকি আরো বাড়াতে হবে।
সূত্র জানায়, দেশের গ্যাসের সংকট পূরণ এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বিদেশ থেকে এলএনজি আমদানি করছে। এক বছর ধরে দেশে দৈনিক ৫০ কোটি ঘনফুট করে এলএনজি সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু এতেও সংকটের সুরাহা হচ্ছে না। এ জন্য এলএনজি আমদানি দ্বিগুণ করার কথা ভাবা হচ্ছে। কিন্তু এলএনজি আমদানি করে দেশের গ্যাস সংকটের সুরাহা করা গেলেও অর্থনৈতিকভাবে ভয়াবহ চাপে পড়ছে পেট্রোবাংলা।
দেশের গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে উত্তোলিত প্রতি ঘনমিটার গ্যাস যেখানে গড়ে সাড়ে ৬ টাকা করে কেনা হয়, সেখানে প্রতি ঘনমিটার এলএনজি আমদানিতে খরচ পড়ছে প্রায় ৪০ টাকা। কিন্তু পেট্রোবাংলাকে দেশের অভ্যন্তরে কম দামে গ্যাস বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে আমদানিকৃত গ্যাসে বিপুল পরিমাণ অর্থ ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাসে এক বছরে ভর্তুকি দিতে হবে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা। এলএনজি আমদানি দ্বিগুণ করা হলে ভর্তুকিসহ লোকসান ৫০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। শুধু পেট্রোবাংলা থেকেই নয়, একটি বেসরকারি কোম্পানি থেকেও সরকার এলএনজি কিনতে বাধ্য হচ্ছে।
জানা গেছে, দেশে বর্তমানে প্রায় চার হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে পেট্রোবাংলার বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্র থেকে ২৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হয়। পেট্রোবাংলা ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ঘাটতির বিপরীতে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি আমদানি করছে।