এসএমই নীতিমালা ২০১৯ নতুন নতুন শিল্প-উদ্যোগ উৎসাহিত হবে

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯, ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ

মন্ত্রিসভার বৈঠকে এসএমই নীতিমালা ২০১৯ এর খসড়ার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। খসড়া নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র, মাঝারি শিল্প এবং কুঠির শিল্প জাতীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যবসায়ীদের ঋণ নিতে জামানত বা সম্পত্তি বন্ধকের প্রয়োজন হবে না। ঋণ পাওয়ার প্রক্রিয়াকেও করা হবে সহজ এবং কম সুদে ঋণ দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হবে।
সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মাদ শফিউল আলম এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সংক্রান্ত বিলটির অনুমোদন দেয়া হয়। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
আগে এ সংক্রান্ত কোনো নীতিমালা ছিল না। এটা করা হয়েছে জাতীয় শিল্পনীতির আলোকে। দেশের প্রায় ৭৮ লাখ অতি ক্ষুদ্র, মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তাদের জিডিপিতে অবদান হচ্ছে প্রায় ২৫ শতাংশ।
জাতীয় সংসদে এই নীতিমালা পাস হওয়ার পর নীতিমালার আলোকে ঋণ কার্যক্রম শুরু হবে। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, বিশেষজ্ঞ ও উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে এসএমই ঋণ প্রক্রিয়া আরো সহজতর করা এবং এ সংক্রান্ত একটি নীতিমালা প্রণয়েনের তাগিদ দেয়া হচ্ছিল। এই নীতিমালার আলোকে উদ্যোক্তারা সহায়তা পেলে সেটা অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন মাত্রা যোগ করবে। নতুন নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখবে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য মতে, এই নীতিমালার আওতায় নারী উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। তাদেরকে ঋণ প্রদান, তহবিল গঠন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, নারীদের উদ্বুদ্ধকরণ এবং ব্যবসায় কার্যক্রমে বাজার সংযোগের সুযোগ বৃদ্ধি করা হবে। এসব কিছুই উদ্যোক্তাদের চাহিদা ছিল। নীতিমালা ধরে এগোতে পারলে অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা উপকৃত হবে। তারা ধাপে ধাপে নিজেদের উন্নতির পথ তারা নিজেরাই তৈরি করে নিতে পারবে। আর এটা করা গেলে এই খাতে জিডিপির হার যে দ্রুত গতি পাবে তা বলাই বাহুল্য। নতুন নতুন শিল্প-উদ্যোগও উৎসাহিত হবে।
উদ্যোক্তাদের জন্য বড় সমস্যা হলো তাদের প্রশিক্ষণ সুবিধা না থাকা, ঋণ পেতে নানা ধরনের হয়রানির শিকার হওয়া ইত্যাদি কারণে ব্যবসায় তারা টিকে থাকতে পারে না। শুধু সঠিক নীতিমালার অভাবে অনেক ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প রুগ্ন হয়ে গেছে। উদ্যোক্তারা পথে বসেছেন। এ ধরনের ব্যবস্থা আর্থ-সামাকি উন্নয়নে বড় বাধা হিসেবে কাজ করেছে।
শুধু নীতিমালা করেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে নাÑ যতক্ষণ পর্যন্ত না নীতিমালার বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। প্রশিক্ষণ,ঋণ কিংবা সরকারের অন্যান্য সুবিধা যদি মুখ চিনে চিনে প্রদান করা হয় সে ক্ষেত্রে নীতিমালা মুখ থুবড়ে পড়বে। প্রকৃত উদ্যোক্তা চিহ্নিত করাটাই এই নীতিমালার প্রয়োজনীয়তা ও উৎকর্ষতা বৃদ্ধির কারণ হবে। অর্থাৎ সহজ উপায়ে ঋণ ও অন্যান্য সরকারি সুবিধা পাওয়ার যে বন্দোবস্ত তা সহজেই যাতে পাওয়া যায় সেটা নিশ্চিত করাই গুরুত্বপূর্ণ। প্রকৃত উদ্যোক্তাদের সুবিধেগুলো নিশ্চিত করা গেলে মন্দ ঋণ হওয়ার আশংকা কমে যায়। কিন্তু ঋণদান ব্যবস্থায় দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি কিংবা মুখ চিনে ঋণ দিলে সেইসব ঋণ আর পরিশোধ হতে চায় না। এ ক্ষেত্রে ব্যাংক এবং প্রকৃত উদ্যোক্তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নিশ্চয় সরকার তাদের সদিচ্ছা থেকেই এসএমই নীতিমালা প্রণয়ন করছে এবং নীতিমালা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ধারাবাহিক মূল্যায়নের ব্যবস্থা থাকবে- এ প্রত্যাশাও রইল।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ