বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

ঐক্যবদ্ধ আ’লীগ আমাদের শক্তি : নাসিম

আপডেট: December 9, 2019, 1:40 am

নিজস্ব প্রতিবেদক


জেলা আ’লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে হাত উঁচিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার অঙ্গীকার করলেন নেতৃবৃন্দ সোনার দেশ

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, কোনো বাহিনী আমাদের শক্তি না, আওয়ামী লীগের কর্মীরা আমাদের শক্তি, ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগ আমাদের শক্তি। তাই আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে সবসময়। আগামিতে যারা নেতৃত্বে আসবেন তারা দলকে সংগঠিত করতে আন্তরিকভাবে কাজ করবেন। ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটি গঠন করবেন। দলে কোনো বিভেদ বা বিভাজন তৈরি করবেন না।
গতকাল রোববার দুপুরে রাজশাহী বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সের মাঠে আয়োজিত রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন নাসিম।
এসময় নাসিম বলেন, খোন্দকার মোশতাকের সাথে যোগসাজোশ করে বঙ্গবন্ধুসহ জাতীয় চারনেতাকে হত্যা করেছিলো খলনায়ক জিয়া। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্বাধীনতার কয়েক যুগ পর বঙ্গবন্ধুসহ জাতীয় চারনেতার বিচার হয়েছে। কিন্তু বিচার এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। শুধুমাত্র কমিশন গঠনের মাধ্যমে খলনায়ক জিয়ার বিচারের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চারনেতার বিচার সম্পন্ন হতে পারে।
তিনি বলেন, আমাদের লড়াই এখনো শেষ হয়নি। বিএনপি-জামায়াত বিষধর সাপ। ঘাপটি মেরে আছে। যেকোনো মুহূর্তে মাথাচাড়া দিতে পারে। একমাত্র বিএনপি-জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার মাধ্যমেই আমাদের এ লড়াই শেষ হতে পারে।
এর আগে সকালে রাজশাহী বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে জাতীয় সঙ্গীতের সাথে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনের উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় নেতারা। সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম এমপি। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সদস্য সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, সদস্য মেরিনা জাহান, নুরুল ইসলাম ঠান্ডু প্রমুখ। আরো বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা প্রফেসর ড. আব্দুল খালেক ও প্রফেসর ড. সাইদুর রহমান খান, জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. মনসুর রহমান এমপি, আয়েন উদ্দিন, ও সংরক্ষিত আসনের সাংসদ আদিবা আনজুম মিতা। সভাপতিত্ব করেন, জেলা আওয়ামী লীগের বিদায়ী সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী এমপি। সঞ্চালনা করেন জেলা আওয়ামী লীগের বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ। শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক সাবেক সাংসদ মেরাজ উদ্দীন মোল্লা।
সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, এই সম্মেলনের সফলতাই নিশ্চিত করেছে আওয়ামী লীগ একটি ঐক্যবদ্ধ দল। সব আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে এই কমিটিই এতো সফলভাবে এই সম্মেলনের আয়োজন করেছে। এতো শান্তিপূর্ণভাবে সম্মেলন সফল হচ্ছে। আওয়ামী লীগ যে শুধু একটা দল না, একটা পরিবার তা আবারো প্রমাণিত হয়েছে। এই পরিবারে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকতে পারে, কিন্তু ভালোবাসা, আন্তরিকতায় ও আদর্শে সবাই এক। এটাই আওয়ামী লীগের বড় শক্তির জায়গা। এই শক্তির জায়গাকে আমাদের ধরে রাখতে হবে।
তিনি বলেন, আগামিতে যারাই নেতৃত্বে আসবেন তারা সব বিভেদের অবসান ঘটিয়ে রাজনীতিকে বিকশিত করবেন। ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে পর্যায়ে গঠিত কমিটিতে যারা সত্যিকার অর্থে ত্যাগী নেতা তাদেরকে দলে রাখবেন।
খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, রাজশাহীর এই মাটি শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামানের পূণ্যভূমি। ফলে এখানে জামায়াত-বিএনপির ঘাঁটি থাকার প্রশ্নই আসে না। হয়তো বা আমাদের কিছু ভুলের কারণে বিএনপি-জামায়াত শক্ত ঘাঁটি সাময়িক নিতে পারে, কিন্তু এখন তার চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। এখন এখানে আওয়ামী লীগের ঘাঁটি। আমাদের তা ধরে রাখতে হবে।
তিনি বলেন, এই অঞ্চলে যে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে তা এখানকার সাংসদের হাত ধরেই হয়েছে। ফলে আমাদের যে সাংগঠনিক দুর্বলতা আছে, নেতৃত্বের দুর্বলতা আছে এমনটি না। আমাদের সবাইকে তারপরও আন্তরিকভাবে, ঐক্যবদ্ধভাবে দলের জন্য কাজ করতে হবে। আমাদের রাজশাহীতে কেউ যে ভাইয়ের রাজনীতি করেনা, সবাই শেখ হাসিনার রাজনীতি করে তা আবারো প্রমাণিত। ফলে আগামিতে যে কমিটি আসবে সেই কমিটির নেতৃত্বকে আমরা সবাই মেনে নেব।
সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, আওয়ামী লীগ বৃহৎ দল। এই দলে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু সেই প্রতিযোগিতা যেন বিশৃঙ্খলায় পর্যবসিত না হয়। আমাদেরও বিশ্বাস কমিটিতে যে-ই আসুক, যে প্রক্রিয়ায়ই আসুক, আমরা তাকে মেনে নেব। তার প্রতি পূর্ণ সমর্থন দিবো।
খায়রুজ্জামান লিটন আরো বলেন, আমাদের এই কমিটি গঠন, আমাদের সামনে যে আরো কাজ রয়েছে সেই কাজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সহায়তা করবে। এই সরকারের আমলে দেশে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। সেই উন্নয়নকে বেগবান করতে এই কমিটি কাজ করবে। আমরা সর্বক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছি। আমরা ভারতের চেয়ে বেশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি। এইসব সফলতার প্রধান কারণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব ও দূরদর্শিতা। এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ২০৩০ সালের আগেই বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, রাজশাহীতে কয়েকবছরে যত নির্বাচন হয়েছে তার সবগুলোতেই আমাদের জনপ্রতিনিধিরা বেশি নির্বাচিত হয়েছে। আগে কখনো এত জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়নি। এ ব্যাপারে বর্তমান কমিটিরও অবদান ছিলো। এর মানে আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ আছে, আগামিতেও ঐক্যবদ্ধ থাকবে।
উল্লেখ্য, গত ৮ নভেম্বর ঢাকায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের সাথে সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় সম্মেলন আয়োজনে মেয়র খায়রুজ্জামান লিটনকে সমন্বয়কের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। এরপর সকলের সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সফলভাবে সম্মেলনটি সম্পন্ন করলেন মেয়র লিটন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ