ওয়ালর্ড ভেজিটেরিয়াল ডে

আপডেট: অক্টোবর ১০, ২০১৯, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ

শুভ্রারানী চন্দ


১৯৭৭ সালে নর্থ ভেজিটেরিয়াল সোসাইটি এ দিনটির প্রবর্তন করে। পুরো অক্টোবর মাস ওয়ালর্ড ভেজিটেরিয়াল মাস হিসেবে পালিত হয়। পুরো বিশ্বে এ দিনটি পালিত হয়। এ দিনটি পালনের ভেতর দিয়ে ভেজিটেবল খাবার কারণ, উপকারিতা, কোন কোন ভেজিটেবল সবচেয়ে উপকারী ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে মানুষকে জানানো এবং তাদের এ সুন্দর অভ্যাস গড়ে তোলার প্রতি আগ্রহী করে তোলার চেষ্টা করা হয়।
আমাদের ভেতরে এমন অনেক মানুষ আছেন যাঁরা ভেজিটেবল পছন্দ করেন না। মাছ, মাংস ছাড়া তাদের একেবারেই চলে না। অনেকে মনে করেন, ভেজিটেবল গরিবের খাবার। তাঁদের এ চিন্তা যে কতটা ভুল- বয়স বাড়ার সাথে সাথে তাঁরা নিশ্চয়ই সেটা উপলব্ধি করতে পারেন। একজন ভেজিটেরিয়াল মাছ, মাংসে অভ্যস্ত মানুষের চেয়ে অনেক শক্তিশালী, শান্ত, সৌম্য ও সুন্দর অবয়বের অধিকারী হয়ে থাকেন। একটু খেয়াল করলেই আমরা এ কথার সত্যতা বুঝতে পারি।
প্রকৃত অর্থে ভেজিটেরিয়ালরা সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হয়ে থাকেন। কৃতিত্বটা ভেজিটেবল ও ফ্রুটসের। আমরা এমন অনেক ভেজিটেবল আছে যেগুলো রান্না করে উত্তমরূপে সেদ্ধ করে খাই-যাতে করে খাবারের গুনাগুন অনেকটাই নষ্ট হয়ে যায়। শুধু তাই নয়, এসব ভেজিটেবলে এত মশলা দেই তাতেও খাবারের গুন নষ্ট হয়। মশলারও কম/বেশি গুন আছে। কিন্তু সেটাকে অক্ষুণ্ন রাখতে হলে বিশেষ নিয়মে সেগুলো ব্যবহার করতে হয়। ভেজিটেরিয়াল ডে একজন ভেজিটেরিয়ানের জীবন যাপনের নীতিগত/ নৈতিক পরিবেশ, স্বাস্থ্য এবং জনহিতকর উপকারিতা সম্পর্কে জনগণকে জানায়। ব্রোকলি, টমেটো, স্পিনাস, আদা, এগুলো স্বাস্থ্যকর ভেজিটেবল। শুধুমাত্র এ চারটিই স্বাস্থ্যকর ভেজিটেবল তা নয়- এগুলোর বাইরেও অনেক ভেজিটেবল আছে যেগুলো স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী এবং যেগুলো খাওয়া অভ্যাস করলে সুস্থ ও সুন্দর থাকা সম্ভব।
এক্ষেত্রে আমাদের জেনে নেওয়া প্রয়োজন ভেজিটেবল খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে :
১) যদি ডায়েটে রিচ ফ্রুট ও ভেজিটেবল খাওয়া যায় তাহলে হার্ট ডিজিজ, হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমতে পারে।
২) ডায়েটে রিচ ফ্রুট ও ভেজিটেবল বিশেষ ধরনের ক্যানসার থেকে রক্ষা করে।
৩) আঁশযুক্ত ফ্রুট বা ভেজিটেবলে হার্ট ডিজিজ, অতিশয় স্থুলতা এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিস কমতে পারে।
৪্র) পটাসিয়ামযুক্ত খাবার হাই ব্লাড প্রেসার কমায়। কিডনি, স্ট্রোক এবং বোন লস কমাতে পারে।
৫) যে সব খাবার উচ্চ ক্যালোরির পরিবর্তে কম ক্যালোরি থাকে সে সব খাবার ক্যালোরির পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে।
পুষ্টি পদার্থ/খাবার-
১) প্রাকৃতিকভাবে বেশিরভাগ ভেজিটেবিলই কম ফ্যাট ও ক্যালোরিযুক্ত।
২) ভেজিটেবল সাধারণতঃ অনেক পুষ্টিকর উপাদান, পটাসিয়াম, ডায়েট্রি ফাইবার, ফলিক অ্যাসিড, ভিটামিন অ ও ঈ সমৃদ্ধ।
৩। পটাসিয়াম সমৃদ্ধ ডায়েট সঠিকভাবে হেলদি, ডায়েট, কোলস্টেরল কমাতে সাহায্য করে এবং হার্ট ডিজিজের ঝুঁকি কমায়। এটি কনস্টিপিশন কমায়।
৪। ফলিক অ্যাসিড রেড ব্লাড সেল তৈরিতে সাহায্য করে। সন্তান সম্ভবা মেয়েদের প্রচুর পরিমাণে ফলিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিৎ।
৫। ভিটামিন অ চোখ ও চামড়াকে হেলদি রাখে ও ইনফেকশন থেকে রক্ষা করে।
৬। ভিটামিন ঈ গোড়ালি ফাটা বা ক্ষত থেকে রক্ষা করে এবং দাঁতকে হেলদি রাখে। ভিটামিন ঈ আয়রন শোষণ করতে সাহায্য করে।
কয়েকটি বেশি পুষ্টিকর ভেজিটেবল-
১) স্পিনাক : এতে আছে ভিটামিন ক,অ ও ঈ, ম্যাগনেসিয়াম ফলিক অ্যাসিড, আয়রন, ক্যালসিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।
২) ব্রোকলি : এতে আছে ৫৫ ক্যালোরি, ভিটামিন K ও C।
৩) মটরশুঁটি : ফাইবার আছে ৯ গ্রাম। এছাড়াও এতে আছে ভিটামিন A,B,C এবং K।
৪। মিষ্টি আলু : এ আলুতে আছে ভিটামিন A,B ও C ১২% পটাশিয়াম এবং বিটা ক্যারোটিন।
৫) বিট : এক বিটে আছে ৫৮ ক্যালোরি। ৪৪২ মিলিগ্রাম পটাসিয়াম, ১৪৮ মিলিগ্রাম ফলিক অ্যাসিড।
৬) গাজর : প্রতি কাপ থেতো করা গাজরে আছে ৫২ ক্যালোরি।
৭) টমেটো : ৩২ ক্যালোরি, ৪২৭ মিলিগ্রাম পটাসিয়াম, ২৭৭ মিলিগ্রাম ভিটামিন C।
৮) আদা: এক কিউব আদায় থাকে ৪ ক্যালোরি।
৯) পিয়াঁজ : একে বলে ন্যাচারাল অ্যান্টি- ফলিক। এতে আছে ৬৪ ক্যালোরি, ভিটামিন C ও B-6।
১০। বেল পেপার : এতে আছে ৩৯ ক্যালোরি, ১৯০ মিলিগ্রাম ভিটামিন C, ৪৩৪ মিলিগ্রাম ভিটামিন B-6 ভিটামিন A এবং ফলিক অ্যাসিড।
১১। ফুলকফি : এক কাপ ফুলকফিতে আছে ২৭ ক্যালোরি। প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন C, ভিটামিন K এবং ফাইবার। এসব খাবারে শরীরের জন্য অর্থাৎ সুস্থ থাকার জন্য প্রায় প্রতিটি উপাদান।
ভেজিটেবল খাবার কারণ-
১) ফ্রুটস ও ভেজিটেবল সব সময় পুষ্টিকর ও উপাদেয় খাবার।
২) এমন কিছু ফ্রুট ও ভেজিটেবল আছে যা অনেকের বাড়ির আঙিনায় উৎপন্ন হয় এবং এজন্য সহজলভ্য।
৩) ফ্রুটস ও ভেজিটেবল প্রকৃতির দান। এ কারণে এগুলো খাওয়া ও হজম করা সহজ।
৪) ফ্রুটস ও ভেজিটেবলের নানা ভ্যারাইটি থাকে- ফলে সব সময় কিছু না কিছু পাওয়া যায়।
৫। ফ্রুট ও ভেজিটেবল ভিটামিন ও মিনারেল সমৃদ্ধ বলে মানুষকে স্বাস্থ্যবান ও শক্তিশালী থাকতে সাহায্য করে।
৬) ফ্রুট ও ভেজিটেবল মানুষের নানা রোগের ঝুঁকি কমায়। হার্ট ডিজিজ, হাই ব্লাড প্রেসার এবং কোনো কোনো ক্যানসার এসব রোগের অন্তর্ভুক্ত।
৭) ফ্রুট ও ভেজিটেবল সাধারণতঃ কম ক্যালোরিযুক্ত।
৮) ফ্রুট ও ভেজিটেবলে আঁশ থাকে যা হজম প্রক্রিয়াকে ভালো রাখে।
৯) ফ্রুট ও ভেজিটেবল যে কোনো কর্মে যেমন- ফ্রেস, ফ্রোজেন, ক্যানড, ড্রাই কিংবা জুস পাওয়া ও খাওয়া যায়। সুতরাং যখন ইচ্ছে এগুলো খাওয়া যায়।
১০) ফ্রুট ও ভেজিটেবল খাবার প্লেটে রং টেক্সার দিয়ে আকর্ষণীয় করে তোলে।
ফ্রুট ও ভেজিটেবলের অনেক উপকারিতা জেনেও যাঁরা আমিষজাতীয় খাবার ত্যাগ করতে রাজি নন- তাঁরা সপ্তাহে অন্ততঃ একদিন করে ফ্রুট ও ভেজিটেবল খাবার অভ্যাস করুন। খারাপ লাগবে না। এ অভ্যাস আমাদের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও জাতীয় স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সহায়ক হবে। আমরা নতুন উদ্যমে আমাদের করণীয় কাজগুলো আনন্দের সাথে করতে পারব। আনন্দের সাথে কাজ করার ফলে আমাদের কাজের মান ও গতি দু’টোই ভালো করবে। তাই আসুন, আমরা সচেতন হই এবং মাছ, মাংসের প্রতি আগ্রহ কমিয়ে ফ্রুট ও ভেজিটেবলে অভ্যাস হই। নিজেরা, সুস্থ থাকি এবং অন্যদের সুস্থ থাকতে সাহায্য করি।