ওয়াসার সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন || প্রধানমন্ত্রীর প্রতি রাসিক মেয়র লিটনের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

আপডেট: অক্টোবর ১১, ২০১৮, ১১:৪৯ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


রাজশাহীতে ৪ হাজার ৬২ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে ওয়াসার ভূ-উপরিস্থিত পানি শোধনাগারসহ ১৭ প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪ হাজার ২০০ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে রাজশাহী ওয়াসার বিদ্যমান চত্বরে একটি বহুতল অফিস ভবন নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৬৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১১ হাজার ১৯৩ কোটি ৬৯ লাখ টাকা, বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব তহবিলের ২ হাজার ৮১১ কোটি ৬২ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে পাওয়া যাবে ১৯৫ কোটি ২৮ লাখ টাকা।
রাজশাহীর জন্য বৃহৎ এ প্রকল্প অনুমোদন দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন।
গতকাল বৃস্পতিবার রাজধানীর শেরেবাংলানগর এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক বৈঠকে এসব প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠক শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
তিনি বলেন, বর্তমানে রাজশাহী মহানগরের পানি সরবরাহের কাভারেজ ৭১ শতাংশ এবং রাজশাহী ওয়াসা মোট পানি উৎপাদনে ৯৬ শতাংশ ভূ-গর্ভস্থ পানি ব্যবহার করে। ভূ-গর্ভস্থ উৎস্য হতে অস্বাভাবিক পানি উত্তোলনের ফলে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্থিতিতল প্রতি বৎসর শূন্য দশমিক ৫ থেকে ১ মিটার নীচে নেমে যাচ্ছে। ফলে ভূ-গর্ভস্থ পানির উপর বিরূপ প্রভাব তৈরি হচ্ছে।
তিনি বলেন, তাই রাজশাহী মহানগরীর পানির কভারেজ ৭১ শতাংশ হতে ১০০ শতাংশ উন্নীতকরণের জন্য চিন সরকারের আর্থিক সহায়তায় জি টু জি ভিত্তিতে ভূ-উপরিস্থ পানি শোধনাগার নির্মাণের জন্য এই প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে। তিনি জানান, প্রকল্পের সুফল নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরেও পানি সরবরাহ করার নির্দেশনা দিয়েছেন।
রাজশাহী ওয়াসা সূত্রে জানা যায়, রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে এই ভূ-উপরিস্থিত পানি শোধনাগার স্থাপন করা হবে। সেখানে পদ্মা ও মহানন্দার মিলনস্থল থেকে পানি উত্তোলন করা হবে। তারপর পানি পরিশোধন করে সেখান থেকে ২৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার দূরে পবার বালিয়া নামক স্থানে পাম্পের মাধ্যমে পাঠানো হবে। বালিয়াতে পানির ধারণের ব্যবস্থা থাকবে। সেখান থেকে উচ্চচাপে পাম্পের মাধ্যমে শহরের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হবে।
ওয়াসা জানায়, এই পানি শোধনাগার থেকে প্রতিদিন ২০ কোটি লিটার পানি পরিশোধন করা হবে। এই পানি দিয়ে ২০৩৫ সালের রাজশাহীতে যে পরিমাণ জনসংখ্যা হবে তাদেরও শতভাগ পানির চাহিদা মেটানো যাবে। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে চার বছর। ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত। প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি লাইন মিলে প্রায় ৪৮ কিলোমিটার পানির লাইন স্থাপন করা হবে।
রাজশাহী ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পারভেজ মামুদ জানান, পদ্মার পানি যেহেতু শুধুমাত্র ঘোলা। তাই ঘোলা পানিকে বিশুদ্ধ করে জীবাণুনাশক করা হলে তা পান করার উপযোগী হবে। ঠিক সেইভাবেই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
এছাড়া একনেকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সড়ক নেটওয়ার্ক উন্নয়ন এবং বাস ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১ হাজার ২২৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, ঢাকা সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিবাস নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ২৫৪ কোটি ১০ লাখ টাকা, ফরিদপুর-ভাঙ্গা-বরিশাল-পটুয়াখালী-কুয়াকাটা জাতীয় মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করতে ভূমি অধিগ্রহণ প্রকল্পের খরচ ১ হাজার ৮৬৭ কোটি ৮৬ লাখ টাকা, বৈরাগীপুল (বরিশাল)-টুমচর-বাউফল (পটুয়াখালী) জেলা মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীত করার প্রকল্পের খরচ ৩০২ কোটি ১৬ লাখ টাকা, ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য নন্দিগ্রাম (ওমরপুর)-তালোর-দুপচাঁচিয়া-জিয়ানগর-আক্কেলপুর-গোপীনাথপুর জেলা মহাসড়ক এবং নন্দীগ্রাম (কাথম) কালিগঞ্জ-রাণীনগর জেলা মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীত করার প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১৭৯ কোটি ২৩ লাখ টাকা।
রাজশাহী ওয়াসার বিদ্যমান চত্বরে একটি বহুতল অফিস ভবন নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৬৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন, চট্টগ্রাম জোন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২ হাজার ৫৫১ কোটি ৯১ লাখ টাকা, যশোর অঞ্চল গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৯৫২ কোটি ২৫ লাখ টাকা, খুলনা বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলার পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৯৩৭ কোটি ৯২ লাখ টাকা, বঙ্গবন্ধু দারিদ্র্য বিমোচন প্রশিক্ষণ কমপ্লেক্স (বর্তমান বাপার্ড), কোটালীপাড়া, গোপালগঞ্জের সম্প্রসারণ, সংস্কার ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৩৪৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকা, পরিবেশবান্ধব কৌশলের মাধ্যমে নিরাপদ ফসল উৎপাদন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১৭২ কোটি ১৩ লাখ টাকা, বৃহত্তর ঢাকা জেলা সেচ এলাকা উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১৩৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকা, রংপুর জেলার মিঠাপুকুর, পীরগাছা, পীরগঞ্জ ও রংপুর সদর উপজেলায় যমুনেশ্বরী, ঘাঘট ও করতোয়া নদীর তীর সংরক্ষণ ও নদী পুনঃখনন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১৩৪ কোটি ৯৪ লাখ টাকা, উপকূলীয় চরাঞ্চলে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৯৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকা, দ্য প্রজেক্ট ফর দ্য ইমপ্রুভমেন্ট অব রিসোর্স ক্যাপাসিটিজ ইন দ্য কোস্টাল অ্যান্ড ইনল্যান্ড ওয়াটারস প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২৮৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা এবং সার সংরক্ষণ ও বিতরণ সুবিধার জন্য দেশের বিভিন্ন জেলায় ১৩টি নতুন বাফার গোডাউন নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৬২৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে এক বিবৃতিতে সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ‘আমি মেয়র থাকাকালে ২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রী চিন সফরে গিয়ে চিনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে যে চুক্তিগুলো স্বাক্ষরিত হয়Ñ তার মধ্যে এই প্রকল্পটি ছিল। আজ (বৃহস্পতিবার) একনেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চার হাজার ১৫০ কোটি টাকার ‘রাজশাহী ওয়াসা ভূ-উপরিস্থ পানি শোধনাগার প্রকল্প’ অনুমোদন দিয়েছেন। এটি আমাদের জন্য অনেক বড় সুসংবাদ। রাজশাহীর জন্য একক বৃহত্তম প্রকল্প এটি। প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়ায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করছি। আমি দায়িত্ব নেয়ার পর এই প্রকল্প অনুমোদনের মাধ্যমে রাজশাহীর জন্য নতুন যাত্রা শুরু হলো।’
উল্লেখ্য, এই প্রকল্পে রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে প্ল্যান্ট স্থাপন করা হবে। সেখান থেকে পদ্মার পানি পরিশোধন করে রাজশাহীবাসীর জন্য সরবরাহ করা হবে। বাংলাদেশ ও চিন সরকার যৌথভাবে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। চার বছরের এই প্রকল্পের মেয়াদ জুলাই ২০১৮ থেকে জুন ২০২২ সাল পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ