কচি পাতার মৃত্যু

আপডেট: মে ১২, ২০১৮, ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ

শামসুর নাহার


সেদিনও রোহিঙ্গাদের অবিশ্রান্ত মানুষের ঢল, আসছে আর আসছে জল প্রবাহের মত। এরই মধ্যে হঠাৎ চোখের সীমানায় দেখলাম এক কিশোর দাঁড়িয়ে। চোখ ছলছল, জানেনা এ পৃথিবীর-কোনখানে হবে তার একটু আশ্রয়! শুধুই হতাশা আর নীরব কান্নায় ছলছল চোখের দাঁড়িয়ে আছে, বাতাসে রেশমী পাঞ্জাবী উড়ছে! কিন্তু মুখে তার ভাষা নেই, শুধু একবুক হতাশা সম্বল করে দাঁড়িয়ে আছে। কি উত্তর দেবে এক প্রহরী সেনার কাছে! কারণ সে জানে চিরতের সে হারিয়ে ফেলেছে তার বাসস্থান, তার আশ্রয়স্থল, তার মায়ের গোছানো ছিমছাম বাড়ি, তার ভাইবোন, মা, বাবা, সবাই তারই সাথে রাতের অন্ধকারে বেরিয়ে পড়েছিল! সে জানে কিন্তু রাতের অন্ধকারে পালিয়ে আসার সময় হিং¯্র স্বাপদের হাত থেকে বাঁচতে গিয়ে সে এখন একেবারে একা! মা, বাবা, ভাইবোন- সবাই এখন তার কাছে অজানা, কোনোদিনই হয়তো খুঁজে পাবে না তাদের, যারা ছিল তার বুকের মানিক-একমাত্র আশ্রয়স্থল! কাকে বলবে এখন এ অজানা রক্তাক্ত ইতিহাস। শুধুই তাকিয়ে আছে অশ্রুসিক্ত চোখে। জানে না কি বলবে এখন শুধুই আছে দুর্বল হাতদুটো। মনে হয় এখনই সে হারিয়ে যাবে বাবা, মার মতই-। কিন্তু কাকে বলবে! কি বলবে! কেমন করে বলবে! জানেনা সে। সে এখন পথের ভিখারীর মতই নিঃস্বম্বল, অর্থহীন, গৃহহীন এক তরুণ যুবক! অজ¯্র, উজ্জল স্বপ্ন আর আকাঙ্খা নিয়ে বড় হচ্ছিল। কিন্তু এখন জানেনা কি বলবে! কাকে বলবে! শুধু স্তব্ধ, ছল ছল চোখে- দাঁড়িয়ে হয়তো বা এখনি শুধু অব্যক্ত কথাগুলো ঝরবে, অঝোর ধারায়!