কবি বন্দে আলী মিয়ার প্রয়াণ দিবস আজ

আপডেট: জুন ২৭, ২০১৯, ১:০৪ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


আজ ২৭ জুন কবি বন্দে আলী মিয়ার মৃত্যুদিবস। ১৯৭৯ সালের এই দিনে তিনি তাঁর রাজশাহীর কাজীহাটার নিজস্ব বাস ভবনে মৃত্যুবরণ করেন। বাংলা ভাষাভাষি মানুষের কাছে কবি বন্দে আলী মিয়া একটি স্মরণীয় ও বরণীয় নাম। তিনি বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী ছিলেন। কবিতা রচনা ছাড়াও তিনি পদাচারণ করেছেন সাহিত্যের বহু শাখায়। তবে কবিতা ও চিত্রশিল্পী হিসেবে জীবন শুরু করেছিলেন তবুও তিনি কবি ও সাহিত্যিক হিসেবে সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পূবেই তিনি কলকাতায় কবি হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।
তিনি ১৯০৬ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাবনা শহরের উপকণ্ঠে রাধানগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মুন্সী জমেদ আলী ও মাতা নেকাজার নেহার একমাত্র সন্তান ছিলেন। ১৯২৩ সালে পাবনার মজুমদার একাডেমী থেকে তিনি মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তারপ কোলকাতায় ইন্ডিয়ান আর্ট একাডেমীতে ভর্তি হন। সেখানে তখন তিনি ছিলেন একমাত্র মুসলিম ছাত্র।
বন্দে আলী মিয়া যখন স্কুলের ছাত্র তখন থেকেই তাঁর প্রতিভার স্ফুরণ লক্ষ্য করা যায়। স্কুল জীবনেই তিনি ছবি এঁকে ও কবিতা লিখে শিক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সমর্থ হন। তিনি ১৯২৯ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তারপর ১৯৩০ থেকে ১৯৫০ সাল পর্যস্ত তিি কোলকাতা কর্পোরেশন পরিচালিত স্কুলে শিক্ষকতার পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। তারপর একসময় তিনি তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানের ঢাকায় এসে কবিতা লিখে, ছবি এঁকে জীবিকা নির্বাহ করেন। পরবর্তী পর্যায়ে ১৯৬৫ সালে তিনি ঢাকা থেকে রাজশাহী বেতারে স্ক্রিপ্টরাইটার হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন এবং আমৃত্য তিনি এই বেতারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
বন্দে আলী মিয়া ছিলেন একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, শিশুসাহিত্যিক, সাংবাদিক ও চিত্রকর। তার সাহিত্যক্ষেত্রের বিচরণই শুধু এমন বৈচিত্র্যপূর্ণ ছিল না, বৈচিত্র্যপূর্ণ ছিল তার পেশাগত জীবনও। তিনি শিক্ষকতা করেছেন, বেতারে কাজ করেছেন এমনকি নাটকেও কাজ করেছেন। তবে তিনি সবচেয়ে বেশি বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক হিসেবে। ছোটদের জন্য পাঁচটা-দশটা নয়, মোট বইয়ের সংখ্যা ১০৫। আর সে সময়ে ছোটদের জন্য লেখা তার ছড়া-কবিতাগুলো এখনও জনপ্রিয়।
কবি যখন বেতারে কাজ করতেন, তখন ছোটদের জন্য একটা অনুষ্ঠান পরিচালনা করতেন তিনি। নাম ছিল ‘সবুজ মেলা’। বেতারে ছোটদের জন্য আরও একটা অনুষ্ঠান হত তখন… ‘ছেলে ঘুমাল’। সে অনুষ্ঠানের জন্য প্রায়ই নিত্যনতুন গল্প লিখে দিতেন তিনি। আর এসব করতে করতেই তিনি গল্পদাদু হয়ে গেলেন।
বন্দে আলী মিয়ার উল্লেখযোগ্য বইগুলো হচ্ছে– ‘ময়নামতির চর’, ‘অরণ্য’, ‘গোধূলী’, ‘ঝড়ের সংকেত’, ‘নীড়ভ্রষ্ট’, ‘জীবনের দিনগুলো’, ‘অনুরাগ’। আর ছোটদের জন্য লেখা বইগুলোর মধ্যে খুব জনপ্রিয় হয়েছিল চোর জামাই, মেঘকুমারী, মৃগপরী, বোকা জামাই, কামাল আতাতুর্ক, ডাইনি বউ, রূপকথা, কুঁচবরণ কন্যা, ছোটদের নজরুল, শিয়াল প-িতের পাঠশালা, বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা ইত্যাদি।
বন্দে আলী মিয়া সাহিত্যকীর্তির জন্য পুরস্কার-সম্মাননাও কম পাননি। শিশুসাহিত্যে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য ১৯৬২ সালে পান বাংলা একাডেমী পুরস্কার। ১৯৬৫ সালে পান প্রেসিডেন্ট পদক। মৃত্যুর পরও তিনি পেয়েছেন দুটো মরণোত্তর পদক– ১৯৮৮ সালে একুশে পদক, ১৯৯০ সালে স্বাধীনতা পদক।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ