কমরেড ফরহাদের প্রয়াণ দিবস আজ

আপডেট: অক্টোবর ৯, ২০১৯, ৯:৪৪ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রের সংগ্রামের অন্যতম সংগঠক, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক জাতীয় সংসদ সদস্য কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদের ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।
কমরেড ফরহাদ ১৯৮৭ সালের ৯ অক্টোবর তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের রাজধানী মস্কোতে মৃত্যুবরণ করেন।
কমরেড ফরহাদ ১৯৩৮ সালের ৫ জুলাই দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন। মেধাবী ছাত্র মোহাম্মদ ফরহাদ মহান ভাষা আন্দোলন,বাষট্টির শিক্ষাা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে প্রথম সারির নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি বহুবার জেল, জুলুম, হুলিয়া, নির্যাতন ভোগ করেন। ১৯৫৪ সালে তাঁকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানের কুখ্যাত নিরাপত্তা আইনে বিনাবিচারে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক রাখা হয়।
১৯৫৫ সালে ১৭ বছর বয়সে মোহাম্মদ ফরহাদ কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য পদ লাভ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকা অবস্থায় কমরেড ফরহাদ ১৯৫৯ সাল থেকে গোপনে ছাত্রদের সংগঠিত করতে থাকেন, ১৯৬২ সাল থেকে প্রায় এক বছর হুলিয়া মাথায় নিয়ে গোপনে ছাত্র আন্দোলন সংগঠন ও শ্রমিক শ্রেণির পার্টির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানে কমরেড ফরহাদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধে কমিউনিস্ট পার্টি-ন্যাপ-ছাত্র ইউনিয়নের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ গেরিলা বাহিনীর প্রধান সংগঠক ছিলেন।
১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সেনাপ্রধান এরশাদের ক্ষমতা দখলের পর সামরিক শাসনবিরোধী রাজনৈতিক ঐক্য তথা পনের দলীয় ঐক্যজোট গঠন, জাতীয় দাবি ৫ দফা প্রণয়ন ও যুগপৎ আন্দোলন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তিনি বলিষ্ঠ ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
৩৫ বছরের ঘটনাবহুল রাজনৈতিক জীবনে তিনি পাকিস্তান আমল এবং স্বাধীন বাংলাদেশে জিয়া-এরশাদের আমলে দীর্ঘ প্রায় ১৪ বছর আত্মগোপন বা কারান্তরালে ছিলেন। ১৯৮৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি পঞ্চগড়-২ ( বোদা-দেবীগঞ্জ) নির্বাচনী এলাকা থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৭ সালের ১০ আগস্ট চিকিৎসার জন্য তিনি মস্কো যান। ৬ অক্টোবর হাসপাতাল ত্যাগ করে হোটেলে অবস্থান নেন। সেখানে অবস্থানকালে ৯ অক্টোবর বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় আকস্মিকভাবে হৃদ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।