করোনায় আক্রান্তরা বিড়ম্বনার শিকার! মানুষ কেন মানবিক হবে না?

আপডেট: May 8, 2020, 11:59 pm

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা অনেক ক্ষেত্রেই সামাজিক বিড়ম্বনা- এমনকি নিগ্রহের সম্মুখিন হচ্ছে। এটা যে শুধু প্রবিশেীরাই করছে তা নয়Ñ অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যরা পর্যন্ত চরম অবহেলা ও অবজ্ঞা দেখাচ্ছে। সমাজের মানুষের আচরণটা এমন যে, করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তি বড় ধরনের কোনো অপরাধ করে ফেলেছে। যখন মানুষের সহানুভুতির দরকার, সহযোগিতার দরকারÑ তদস্থলে অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে। দেশের সংবাদ মাধ্যমে এ ধরনের বিস্তর খবর প্রকাশিত হয়েছে। করেনাভাইরাস সংক্রমণে এমন অসংখ্য অমানবিক কাহিনীর জন্ম হয়েছে যা সমাজবদ্ধ মানুষের ভয়ঙ্কর নির্মমতাকেই প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশের কিছু মানুষ যারা নিজের বাঁচার প্রশ্নে অন্যের বাঁচার অধিকারকে সম্পূর্ণরূপে অগ্রাহ্য করে। দীর্ঘদিনের জানাশোনা, ভাললাগা, ভালবাসা করোনা আক্রান্তের পর সব কিছু মুহূর্তে উবে গেছেÑ সেখানে নিষ্ঠুরতা নেমে এসেছে করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি ও তা পরিবারের ওপর। ঘরছাড়া করতেও দ্বিধা করছে না। বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে যে, করোনা আক্রান্ত কিংবা অন্যভাবে অসুস্থ ব্যক্তিও চরম নিগ্রহের শিকার হয়েছেন। হাসাপাতাল চিকিৎসা দেয় নি। গ্রামের লোক মিণিত হয়ে নিজ বাড়িতে ঢুকতে দেয় নি। অসহায়ভাবে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়তে হয়েছে।
করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার পরও নিস্তার নেই। লাশ দাফনের লোক পাওয়া দুষ্কর হয়েছে। এমনকি লাশ দাফনের ক্ষেত্রেও বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। মৃতের পরিবারকে একরকম একঘরে করে দেয়া হয়েছে কিংবা গ্রাম ছেড়ে যেত বাধ্য করা হয়েছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণে কিছু মানুষের নিষ্ঠুরতারও পরিচয় পাওয়া গেল, যা মানুষের জন্য বড়ই লজ্জার।
কিন্তু কেন এই আচরণ। সমাজবদ্ধ জীব হিসেবে মানুষের আবেদন অগ্রগন্য। কিন্তু সেই মানুষই কীভাবে অন্যের বাঁচার অধিকারকে অস্বীকার করে। এই অস্বীকারের প্রবণতা কোনো ব্যক্তি বিেেশষের নয়Ñ সমষ্টিগতভাবেই করোনা রোগির প্রতি বিদ্বেষ দেখানো হয়েছে। মানব সভ্যতার জন্য এ এক লজ্জার অধ্যায় হয়েও থাকলো। ভবিষ্যতে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ভয়াবহতার স্মৃতিচারণে এই বর্বর কর্মকাণ্ডের গল্পও বর্ণিত হবে নিশ্চয়।
‘মানুষ মানুষের জন্য’Ñকরোনাভাইরাস প্রতিরোধে সে কাহিনীও লিপিবদ্ধ করে যাচ্ছে। এই মানুষই মানবতার সেবায় নিয়োজিত হয়ে নিজে করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে কিংবা জীবন হারাচ্ছে। এ দেশের চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মি, পুলিশ, প্রশাসনের মাঠ পর্যয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংবাদিক ও স্বেচ্ছাসেবিরা সামনের কাতারে থেকে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে চলেছে। তখন এ সমাজেরই একাংশের মানুষ নির্দয় আচরণের মাধ্যমে করোনাভাইরাস পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে। যুদ্ধেরত কর্মিদের সাহস ও মনোবলের প্রতি ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে। এখনই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন মানুষের ঐক্য। করোনা প্রতিরোধে
সবার এক্য। অন্যের প্রতি সাহস ও সহানুভুতির দরকার। এই অনুভবই করোনার মত ভয়াবহ সঙ্কট থেকে জাতি দ্রুত মুক্তি লাভ করতে পারে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ