কর্মকর্তা বদলিতে প্রতিবাদের ঝড় সরকারের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে

আপডেট: জুন ৮, ২০১৯, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের উপপরিচালক মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার আকস্মিকভাবে বদলির ব্যাপার নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছেÑ এখনো হচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমগুলোতে সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় বয়েছে। ফলে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক পিছু হঠেছে এবং ওই কর্মকর্তার বদলি প্রথমে স্থগিত ও পরে বাতিল হয়েছে।
সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত প্রতিবেদনের তথ্য মতে, সোমবার (৩ জুন) দুপুরে রাজধানীর উত্তরার জসিমউদ্দিন রোডের আড়ংয়ের একটি আউটলেটকে একই পাঞ্জাবির দাম পাঁচ দিনের ব্যবধানে দ্বিগুন রাখায় সাড়ে চার লাখ টাকা জরিমানা করেন তিনি। পাশাপাশি আউটলেটটি ২৪ ঘণ্টার জন্য বন্ধ ঘোষণা করেন। এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর তার বদলির আদেশ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। তাকে খুলনায় বদলি করা হয়। আগামী ১৩ জুনের মধ্যে তাকে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেয়া হয়। সোমবার সন্ধ্যায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে বদলির আদেশটির প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়। পরে তার ওই বদলির আদেশের একটি কপি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। ৪ জুন বদলির আদেশ স্থগিত করে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, পরে সেটি বাতিলও হয়।
দুর্বল আমলাতন্ত্রের এও এক বহিঃপ্রকাশ। এই দুর্বলতার পরিণাম সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপর কতটুকু বর্তাবে বা তাদের কোনোভাবে জবাবদিহিতা করতে হবে কি না, তা জানা না গেলেও অপরিপক্ক ওই ঘটনার জন্য সরকারের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। সরকারের কর্মকর্তা-কর্মচারী- যারা ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে থাকেন এই ঘটনা তাদের জন্য একটি হুমকি বা সতর্কবাণী হয়েই থাকলো। যদিও ওই কর্মকর্তার বদলি আদশ বাতিল হয়েছে- তদুপরি আর কেউ ওই ধরনের সাহস নিয়ে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনায় মনোবল দৃঢ় রাখতে পারবেন বলে মনে হয় না। কেননা দায়িত্ব পালনটা যখন বিড়ম্বনার কারণ হয়Ñ সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টরা উৎসাহ হারাবেন, এটাই স্বাভাবিক। এর পরিণতি এই যে, এতে দুর্নীতিই উৎসাহিত হবেÑ যা সরকারের নীতির পরিপন্থী।
দেশের মানুষকে এতো বোকা ভাবার কোনো কারণ নেই। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের বদলি একটি চলমান প্রক্রিয়াÑ তবে সেটা ঈদের মাত্র একদিন আগে করতে হবে কেন? এই যুক্তি খুব অমানবিক হয়ে যায় না? সেটা যে আড়ঙের জরিমানা সংক্রান্ত ঘটনার ফলস্বরূপ- তা কেউ বিবেচনা করলে তাতে দোষের কী আছে! বরং এটাই প্রতীয়মান হয় যে, বিরাগের বশীভুত হয়ে ওই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। আর সেটা যে করা হয়েছে তা জনপ্রশাসনের বক্তব্য থেকেই উঠে এসেছে। জনপ্রশাসন বদলির পক্ষে দেয়া যুক্তি তারাই লঙ্ঘন করেছে, যখন বলা হয়Ñ মন্ত্রণালয় ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের প্রাথমিক তদন্তে আড়ংয়ের অভিযোগ শতভাগ সঠিক নয় বলে প্রতীয়মান হয়। এ কারণে তার বদলির আদেশ স্থগিত করা হয়। মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে অধিকতর তদন্ত করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। অর্থাৎ আড়ংকে জরিমানা করা বদলির অন্যতম কারণ, সেটি মন্তণালয় মানছে!
ভ্রাম্যমান আদালত নিয়ে সরকার অস্বস্তির কোনো জায়গা থেকে থাকলে সরকারের পক্ষ থেকে সে রকম নির্দেশনা থাকা বাঞ্ছনীয় ছিল। সে ক্ষেত্রে এ ধরনের বিড়ম্বনা এড়ানো সম্ভব ছিল। আর যদি তা না হয় তা হলে ঘটনাটির তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ