কলিং বেল চাপলেই কর্মকর্তা হাজির

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৮, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


দেখে মনে হবে কলিং বেল। কলিং বেল বললে ভুল হবে না। কারণ সেই বেলের ওপারে দ্রুত সেবার জন্য বসে আছেন এক কর্মকর্তা। শুধু তাই নয়, তিনি দ্রুত ছুটে আসেন বেল চাপা সেই ব্যক্তির কাছে। বলছিলাম রাজশাহী পাসপোর্ট অফিসের কথা।
পাসপোর্ট অফিসে শারীরিকভাবে অক্ষম প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সুবিধার জন্য কলিং বেল লাগানো হয়েছে। কলিং বেল টিপলে পাসপোর্ট কর্মকর্তা হাজির হবেন। নিয়ে যাবেন একটি কক্ষে। সেখানে তার ফরম পূরণ করবেন। ছবি তোলা ঘরে যাওয়ার জন্য একটি হুইল চেয়ার দেয়া হবে তাকে। সব কার্যক্রম সম্পন্ন হলে বাইরে থাকা আত্মীয়-স্বজনের কাছে পৌঁছে দেয়া হবে তাকে।
গতকাল সোমবার দুপুরে কথা হয় রাজশাহী বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসের সহকারী পরিচালক মো. আবজাউল আলমের সঙ্গে। তিনি বলেন, ২০১৬ সাল থেকে পাসপোর্ট সেবা সপ্তাহ পালন করা হচ্ছে দেশব্যাপি। ৩ ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া পাসপোর্ট সেবা সপ্তাহে গ্রহিতা ও দাতার মাঝে এক মিলন মেলা হয়। প্রাণ খুলে সেবাদান ও গ্রহণের এক অনন্য উৎসব। সেবা সপ্তাহ জুড়ে ছিল জনসাধারণের মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি।
এবছর পাসপোর্ট সেবা সপ্তাহে রাজশাহী বিভাগের আটটি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে সেবা সপ্তাহে সেবা প্রদান করা হয়েছে। সেবা সপ্তাহে মোট আবেদনপত্র গ্রহণ হয়েছে চার হাজার ৬৪১ টি, মোট পাসপোর্ট বিতরণ করা হয়েছে তিন হাজার ৫০৬ টি। মোট রাজস্ব আয় হয়েছে প্রায় এক কোটি, ৭৬ লাখ ২৯ হাজার ৪০৫ টাকা।
পাসপোর্ট সেবা সপ্তাহে সেবাগ্রহণের মধ্যে আবেদনপত্র গ্রহণ, তথ্য সংরক্ষণ, ছবি নেয়া, আংগুলের ছাপ ও স্বাক্ষর নেয়া বা বায়োমেট্রিক তথ্য সংরক্ষণ করা হয়েছে এক হাজার ১১৩ টি, প্রস্তুতকৃত পাসপোর্ট গ্রাহকের হাতে তুলে দেয়া বা বিতরণ করা হয়েছে প্রায় ৭৩১ জনের মাঝে। দাখিলকৃত আবেদনের বিপরীতে সরকারি কোষাগারে রাজস্ব জমা হয়েছে প্রায় ৪৭ লাখ ৯ হাজার ২৫০ টাকা। বিদেশি নাগরিকদের ভিসার জন্য আবেদনপত্র গ্রহণ করা হয়েছে প্রায় ২০০টি, বিদেশি নাগরিকদের ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধিকরণ ও ভিসা প্রদান করা হয় প্রায় ১০০ টি, অপরদিকে পূর্ববর্তী সপ্তাহ জুড়ে, আবেদনপত্র দাখিল হয় ৭৩০টি, প্রস্তুতকৃত পাসপোর্ট বিতরণ করা হয় ৬২৬ টি, রাজস্ব আদায় হয় ২৯ লাখ, ৪২ হাজার, ৮৫০ টাকা, ভিসার জন্য আবেদনপত্র গ্রহণ করা হয় প্রায় ১২০ টি, ভিসা বিতরণ করা হয়েছিল প্রায় ৬০ টি।
এছাড়া রাজশাহী বিভাগের অন্যান্য আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসগুলিও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস বগুড়ায় আবেদনপত্র গ্রহণ-৯৫০টি, পাসপোর্ট বিতরণ করা হয়েছে ৮৮১টি, রাজস্ব আয় প্রায় ৩৮ লাখ, ৫৬ হাজার ৯০০ টাকা। পাবনায় আবেদনপত্র গ্রহণ ৬১২ টি, পাসপোর্ট বিতরণ ৪৮৭ টি, রাজস্ব আয় প্রায় ১৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা। চাঁপাইনবাবগঞ্জে আবেদনপত্র গ্রহণ করা হয়েছে ৫৮১ টি, পাসপোর্ট বিতরণ করা হয়েছে ৩২৯টি, রাজস্ব আয় হয়েছে প্রায় ১৮ লাখ ৫১ হাজার টাকা।
নওগায় আবেদনপত্র গ্রহণ ৫৬১ টি, পাসপোর্ট বিতরণ ৩৭৪ টি, রাজস্ব আয় হয়েছে প্রায় ১৭ লাখ ৩৫ হাজার ৩৫০ টাকা। সিরাজগঞ্জে আবেদনপত্র গ্রহণ করা হয়েছে ৩৯৬ টি, পাসপোর্ট বিতরণ করা হয় ২৮১ টি, রাজস্ব আয় প্রায় ১৬ লাখ ৩৮ হাজার ৭৫০ টাকা। নাটোরে আবেদনপত্র গ্রহণ করা হয়েছে ৩৩২ টি, পাসপোর্ট বিতরণ করা হয়েছে ২৭৫ টি, রাজস্ব আয় প্রায় ১১ লাখ ৬৮ হাজার ১৫৫ টাকা। জয়পুরহাটে আবেদনপত্র গ্রহণ করা হয়েছে ১৯৬ টি, পাসপোর্ট বিতরণ করা হয়েছে ১৪৬ টি, রাজস্ব আয় প্রায় ছয় লাখ, ৯০ হাজার টাকা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ