কলেজ ছাত্রী লিজার মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দাখিল

আপডেট: অক্টোবর ৬, ২০১৯, ১:৩১ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


থানার সামনে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে রাজশাহী মহিলা কলেজছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) তদন্ত কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (০৫ অক্টোবর) আরএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) সালমা বেগমের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি পুলিশ কমিশনার হুমায়ুন কবিরের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপকমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস জানান, তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে। এখানে শাহমখদুম থানা ও ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের কোন দোষ খুঁজে পাওয় যায় নি। কারণ লিজা প্রথমে শাহমখদুম থানায় আসেন। এরপর লিজার অভিযোগ স্বামীকে তার কাছে আসতে দেয়া হয় না। কিংবা তার কাছেও যেতে দেয়া না। এই পর্যায়ে কি করণীয় করা যায়। তখন থানা থেকে তাকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে পাঠানো হয়। কারণ তার অভিযোগগুলোর মধ্যে কোনো ফৌজদারি অপরাধের বিষয় ছিল না। তিনি যৌতুক, মারপিট, ধর্ষণ, অপহরণ এ ধরনের কোন অভিযোগ করেনি। কিন্তু শাহমখদুম থানা তাকে সাধারণ ডায়েরি করার পরামর্শ দিতে পারতেন। এক্ষেত্রে শাহমখদুম থানা তাকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে পাঠানো হয়। এরপর ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার থেকে একজন অ্যাডভোকেটকে ডেকে পাঠানো হয়। যাতে করে সে পারিবারিক কোন আইনে মামলা করতে পারেন। অ্যাডভোকেটও রওনাও হয়েছিল। এরমধ্যে সে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার থেকে বের হয়ে গায়ে আগুন দেয়।
তিনি আরও বলেন, এরপর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু তার অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় হস্তান্তর হয়। সেখানেই তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় থানায় মামলার পর তার স্বামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তাহলে পুলিশের কোন অপরাধ নেই-এই বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপকমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস বলেন, লিজার থানার এসে ঘটনাটি বলার পর ফৌজদারি অপরাধ না থাকলেও সাধারণ ডায়েরি করে রাখতে পারতো শাহমখদুম থানা। দায়িত্ব অবহেলার কারণে থানার ওসিকে প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কৈফিয়ত তলব করা যেতে পারে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ