কাউন্টারে মিললেও অনলাইনে অধরা || কর্তৃপক্ষ বলছে গুজব

আপডেট: মে ২৬, ২০১৯, ১২:৫১ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


রাজশাহী রেলস্টেশনে টিকিট পাবার আশায় দীর্ঘসারি যাত্রীদের-সোনার দেশ

বিক্রি চলছে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট। লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিটি মিললেও অনলাইনে মিলছে না কাক্সিক্ষত টিকিট। তাই লাইনে দাঁড়িয়ে যাত্রীদের কিনতে হচ্ছে টিকিট। অনলাইনে রেলেও অ্যাপসে লোডিং দেখায়, কিন্তু পুরো পেজ খোলে না। এমন বিড়ম্বনার অভিযোগে তুলিছেন টিকিট প্রত্যাশীরা। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, গুজব ছড়ানো হচ্ছে। অনলাইনে টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না। যাত্রীরা তাদের কাক্সিক্ষত টিকিট অনলাইনে ও লাইনে কিনতে পারছেন।
গতকাল শনিবার চতুর্থ দিনের মত ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি হয়েছে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে। সকাল থেকে স্টেশনের কাউন্টারগুলোতে লাইনে দাঁড়িয়ে ক্রেতারা টিকিট কিনছেন। এদিন দেয়া হয়েছে আগামি ৩ জুনের অগ্রিম টিকিট।
সরেজমিনে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, টিকিট প্রত্যাশীদের লম্বা লাইন। বরাবরের মতই টিকিট প্রত্যাশীদের অভিযোগ তুলেছে লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট না পাওয়ার। তাদের কাউন্টার থেকে বলা হয়েছে টিকিট শেষ। এ কথা শুনে কয়েকজন ফিরেও গেছেন।
আবার কেউ কেউ বলছেন, টিকিট নেই শোনার পরেও কেউ তক্কাতক্কিতে জড়িয়ে পড়ছেন কাউন্টারে। এক পর্যায়ে টিকিটও দেয়া হয়েছে সেই যাত্রীদের। তবে টিকিটিগুলো অনলাইনে কিনতে পারলে স্টেশনে এসে লম্বা লাইনের কবলে পড়তে হতো না- এমনটি জানাচ্ছিলেন টিকিট প্রত্যাশীরা। তারা বলেন, মোবাইলের অ্যাপসে সার্চ দেওয়ার পরে লোডিং দেখাচ্ছে। এই লোডিং ঘণ্টার পর ঘণ্টা থেকে যাচ্ছে। নতুন কোনো পেইজ বা অপশন আসছে না। ফলে মোবাইলের মেগাগুলো এমনিতেই নষ্ট হচ্ছে। পাওয়া যাচ্ছে না টিকিটের দেখা।
এমন অভিযোগের ভিত্তি নেই বলে জানালেন, রাজশাহী পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের ম্যানেজার আবদুল করিম। তিনি বলেন,‘ ক্রেতারা ঠিকমতই টিকিট কিনতে পারছেন অনলাইনে। কোনো সমস্যা নেই। কিছু সংখ্যক মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কিনছেন।’
রাজশাহীতে প্রাইভেট চাকরিজীবী টিকিট প্রত্যাশী মো. আসিফ বলেন,‘তিনি সকাল পৌনে ১০টায় স্টেশনে এসেছেন। বেলা ১১টার দিকে টিকিট পেয়েছেন। তিনি বলেন, শুক্রবার রাত ১২টার থেকে দুইটা পর্যন্ত চেষ্টা করেছি অনলাইনে টিকিট কেনার জন্য। সেহরির আগে ও পরে চেষ্টা করেও লাভ হয়নি। শুধু লোডিং দেখাচ্ছে। পেজ খুলছে না। তাই বাধ্য হয়ে চলে আসলাম লাইন দাঁড়িয়ে টিকিট কিনতে।’
আরিফুল ইসলাম নামের জনতা ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, অনলাইনে টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না। লোডিং দেখাচ্ছে। তাহলে এই অনলাইনের টিকিটিগুলো গেলো কোথায়? কোনো না কোনো ভাবে নির্ধারিত তারিখের এই টিকিটগুলো বিক্রি হয়েছে।
এবিষয়ে রাজশাহী পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের ম্যানেজার আবদুল করিম বলেন,‘যারা বলছে অনলাইনে টিকিট পাওয়া যাচ্ছে তারা গুজব ছড়াচ্ছে। অনলাইনে টিকিট না পেয়ে এই পর্যন্ত কেউ লিখিত কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ আসলে বিশ^াস করতাম।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন টিকিট প্রাত্যাশী বলেন, লাইনে তেমন ভীড় নেই। কিন্তু টিকিট বিক্রিতে ধীর গতি। এছাড়া অনলাইনেও পাওয়া যাচ্ছে না টিকিট। তাহলে সেই টিকিটিগুলো কিভাবে বিক্রি করলো কর্তৃপক্ষ।
তারা আরো অভিযোগে তোলে কেউ কেউ স্টেশনের বিকিং গেট দিয়েও ভেতরের কর্মচারীর মাধ্যমে কিনছেন টিকিট। আবার কেউ কেউ কাগজের মধ্যে রেলওয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বা বিভিন্ন কর্মকর্তার সুপারিশ নিয়ে আসছেন টিকিট নিতে। অনেকই ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে কাউন্টার থেকে। আবার কেউ কেউ পেয়েও যাচ্ছে টিকিটও।
অন্যদিকে, টিকিট কালোবাজারি রোধ ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা জোরদার করেছে কর্তৃপক্ষ। শৃঙ্খলা রক্ষায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তৎপর রয়েছেন। এছাড়া স্টেশনের ভেতরে বসানো হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্প। সেখানে সব সময়ের জন্য পুলিশ ও আনসার সদস্যরা অবস্থান করছেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ