কালবৈশাখীর হানায় আম ও ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা || অন্ধকারে নগরী, কৃষকের মৃত্যু

আপডেট: মে ১, ২০১৭, ৪:২৮ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



রাজশাহীতে কালবৈশাখীর হানায় আম ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গতকাল রোববার সন্ধ্যা সাতটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত কালবৈশাখীর সঙ্গে ছিলো তুমুল বৃষ্টি। গতকাল এ মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া সন্ধ্যা সাতটা থেকে রাত দেড়টা পর্যন্ত পুরো নগরী ছিলো বিদ্যুৎবিহীন।
এদিকে গতকালের কালবৈশাখীর হানায় আলম মুন্সি (৪৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। আলম জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার কলাবাগান গ্রামের আতাউর মুন্সির ছেলে। গোদাগাড়ী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিপজুর আলম মুন্সি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গতকাল সন্ধ্যায় কালবৈশাখী শুরু হলে আলম বাড়ির বাইরে রাখা গরু তুলতে বের হয়েছিলেন। এ সময় একটি গাছ ভেঙে পড়ে আলমের ওপর। এর ফলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে।
অপরদিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীর মতিহার থানার শ্যামপুর এলাকার আসিয়া বেগম (৩৫) নামে এক নারীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যিনি ঝড়ের সময় ভয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলেন। আসিয়ার স্বামীর নাম গিয়াস উদ্দিন। হাসপাতালে ভর্তির পর তার জ্ঞান ফেরে।
এছাড়া কালবৈশাখীতে অসংখ্য ঘর-বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। রাজশাহী আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গতকাল সন্ধ্যা ৭টা ৫ মিনিট থেকে ৭টা ১০ মিনিট পর্যন্ত কালবৈশাখীর আসল ঝাঁপটা বাতাস বয়ে গেছে। ওই পাঁচ মিনিট বাতাসের গতিবেগ ছিল ৯০ থেকে ৯৫ কিলোমিটার। কালবৈশাখী এসেছিল দক্ষিণ-পশ্চিম কোণ থেকে।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক নজরুল ইসলাম জানান, গতকাল হাঠাৎ কালবৈশাখী শুরু হওয়ার এক মিনিট পরই শুরু হয় বৃষ্টি। সন্ধ্যা ৭টা ৬ মিনিট থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বৃষ্টি চলছিলই। এ সময় ৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। এটিই মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টি। ঝড় ও বৃষ্টির কারণে রাতে রাজশাহীর কোথাও বিদ্যুৎ ছিল না।
বৃষ্টিতে নগরীর বেশকিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে নগরীর প্রাণকেন্দ্র সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট, রেলগেট, গণকপাড়া, কাদিরগঞ্জে হাঁটু সমান পানি জমে যায়। ফলে দেখা দেয় যানবাহনের সঙ্কট। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন মানুষ। নর্দমা থেকে তুলে রাখা কাঁদাগুলোও বৃষ্টির পানিতে ছড়িয়ে পড়ে সড়কে।
রাজশাহী সদর ফায়ার স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, কালবৈশাখীতে রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়কের ওপর বহু গাছ ভেঙে পড়ে। চারঘাট উপজেলায় সড়কে গাছ পড়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের গাড়ি আটকে যাওয়ার খবর পেয়েছে ফায়ার সার্ভিস। এছাড়া তানোরের কালিগঞ্জ, পুঠিয়া ও রাজশাহী মহানগরীর তালাইমারী এবং সিটি বাইপাস এলাকায় গাছ পড়ে সড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত গাছগুলো অপসারণ করে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল ফায়ার সার্ভিসের সদর ও বিভিন্ন উপজেলার ইউনিটগুলো। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কালবৈশাখীতে আমের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতি হয়েছে কলা ও পেপে বাগানেরও। ঝড়ে পড়ে গেছে ভুট্টা গাছ ও সবজির মাচা। তবে সবমিলিয়ে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ কতো তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ