বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

কিছু বিষয় স্পষ্ট না হলে নাগরিকত্ব বিলে সমর্থন নয়, উল্টো সুর উদ্ধবের

আপডেট: December 11, 2019, 1:18 am

সোনার দেশ ডেস্ক


নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে পুরোপুরি উল্টো সুর শোনাল শিবসেনা। লোকসভায় সমর্থন জানালেও রাজ্যসভায় এই বিলের পক্ষে তাঁর দল ভোট দেবে কি না, তা পুনর্বিবেচনা করার ইঙ্গিত দিলেন শিবসেনা সুপ্রিমো উদ্ধব ঠাকরে। মঙ্গলবার উদ্বব জানিয়েছেন, এই বিলের কিছু বিষয় স্পষ্ট না হলে নরেন্দ্র মোদী সরকারের দিকে তাঁরা সমর্থনের হাত বাড়াবেন কি না, তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করবেন।
গত সোমবার মধ্যরাতে লোকসভায় ভোটাভুটিতে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (সিএবি)-কে সমর্থন করেছে এনডিএ সরকারের এক কালের শরিক শিবসেনা। তবে ২৪ ঘণ্টাও কাটতে না কাটতেই সম্পূর্ণ বিপরীত সুর শোনা গিয়েছে দলীয় প্রধান উদ্ধবের মুখে। এ দিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে উদ্ধব বলেন, ‘‘আমরা এই বিল নিয়ে বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছি। রাজ্যসভায় পেশের আগে তা নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা না পেলে আমরা বিলে সমর্থন করব না।’’
বিলে নিয়ে পুনর্বিবেচনা করা ছাড়াও বিজেপির বিরুদ্ধে কড়া মন্তব্যও করেন উদ্ধব। তাঁর কথায়, ‘‘এটা বিজেপির বিভ্রম হতে পারে যে তাদের সঙ্গে যাঁরা সহমত পোষণ করেন না, তাঁরাই দেশদ্রোহী।’’ সেই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘এটাও একটা বিভ্রম যে একমাত্র বিজেপিই দেশের জন্য ভাবে।’’
নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল কী?
তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, লোকসভায় এই বিল পেশের সময় নিয়েও শিবসেনার মুখপত্র ‘সামনা’র সম্পাদকীয়তে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিলের আড়ালে বিজেপি আসলে ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি করছে, এমন অভিযোগ করেছে শিবসেনা। এমনকি, এই বিল যে দেশের স্বার্থবিরোধী, তা-ও দাবি করা হয়েছে ওই সম্পাদকীয়তে। তাতে লেখা হয়েছে, ‘ভারতে তো এখন সমস্যার কোনও অভাব নেই। তা সত্ত্বেও আমরা নতুন করে সিএবি-র মতো ঝামেলা টেনে আনছি। মনে হচ্ছে, এই বিলের উপর ভিত্তি করে কেন্দ্রীয় সরকার হিন্দু-মুসলিমদের মধ্যে একটা অদৃশ্য দেওয়াল তুলে দিয়েছে।’
পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং বাংলাদেশ থেকে ধর্মীয় নিপীড়ণের জেরে বিতারিত হয়ে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টান জনগোষ্ঠীর শরণার্থীদের ভারতের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে বলে সংস্থান রয়েছে। ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী, অন্তত ১১ বছর ভারতে থাকলে তবেই কোনও ব্যক্তিকে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। নয়া বিলে তা কমিয়ে পাঁচ বছর করা হয়েছে। এবং সেখানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কথা বাদ দেওয়া হয়েছে। সমালোচকদের মতে, এই বিলে ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্বের কথা বলা হয়েছে, যা দেশের সংবিধান-বিরোধী।
নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে এই বিতর্কের মাঝেই উদ্ধব দেশের ‘আসল’ সমস্যাগুলির দিকে নজর ঘোরানোর কথা বলেছেন। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, দেশের আম জনতা পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি বা কর্মসংস্থানের সমস্যা নিয়ে জর্জরিত। উদ্ধবের মতে, ‘‘নোটবন্দি কুফল এখন পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।’’
তবে রাজ্যসভায় এই বিল পেশ হলে শেষমেশ শিবসেনা এর পক্ষে ভোট দেবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় রেখেছে উদ্ধবের দল। দলের লোকসভা সাংসদ অরবিন্দ সবন্ত বলেন, ‘‘আমাদের সকলের আলাদা আলাদা ভূমিকা হয় কি? রাষ্ট্রের হিতের জন্য শিবসেনা সব সময়ই একপায়ে খাড়া। এতে তো কারও একার রাজত্ব নেই!’’ তথ্যসূত্র: আনন্দ বাজার