কুমিল্লার আদালতে হত্যাকা- আদালতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে

আপডেট: জুলাই ১৭, ২০১৯, ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ

কুমিল্লা আদালতে বিচারকের খাস কামরায় ঢুকে একটি হত্যা মামলার আসামিকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে অপর আসামি। সোমবার বেলা ১১টার দিকে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৩য় আদালতের বিচারক বেগম ফাতেমা ফেরদৌসের আদালতে এ ঘটনা ঘটে। এই ঘটনা দৈনিক সোনার দেশসহ দেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছে। আকম্মিক এই হত্যাকা-ের ঘটনা বিচারক, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের আতঙ্কিত করে তুলেছে।
আদালতের খাস কামরায় ছুবিকাঘাত করে এই হত্যার ঘটনা দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। ঘটনাটি নেহাতই বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখা হলেও আদালতের নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এসেছে। এই ঘটনা আদালত যে অরক্ষিত সে বিষয়টি দেশের মানুষের কাছে উপলুব্ধ হচ্ছে। আরো একটি বিষয় তা হলো- আদালতে মামলার আসামী কিংবা বাদির নিরাপত্তার বিষয়টিও বেশ প্রশ্নবিদ্ধ হলো। এখন কুমিল্লার অরক্ষিত আদালতের হত্যা ঘটনার দায় কে নিবে?
কুমিল্লার আদালত এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ইতোমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছেন আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা। পুলিশের দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ তুলে তাদের ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। বিচার চলাকালীন এজলাস অতিক্রম করে খাস কামরায় ঢুকে বিচারকের সামনে আসামিকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় তারা উদ্বিগ্ন। তাদের অভিযোগ, আদালতে কে এলো আর কে গেলো, পুলিশ তা আমলেই নেয় না। নিরস্ত্র পুলিশ দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ নানা বিষয়ে প্রশ্ন তুলছেন আইনজীবীরা। নিরাপত্তার প্রশ্নটি কুমিল্লার ওই আদালতের বিচারকও উত্থাপন করেছেন। সংবাদ মাধ্যমের তথ্যমতে বিচারক বেগম ফাতেমা ফেরদৌস বলেন, ‘আমার সামনে একজন আসামিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হলো। আমার ওপরও হামলা হতে পারতো। আমাদের নিরাপত্তা কোথায়?’
তবে এই ঘটনা ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করে দিল। আদালতের নিরাপত্তার গুরুত্ব কত- এই ঘটনার পর বলার অপেক্ষা রাখে না। দেশের প্রতিটি আদালতে পুলিশের নজরদারি কীভাবে বাড়ানো যায় সে ব্যাপারে কৌশল নির্ধারণের সময় এসেছে। প্রয়োজনে আদালত চত্বরে ঢোকার আগে তল্লাসির ব্যবস্থা নেয়া যায় কি না সেটাও ভেবে দেখা দরকার। তবে এ ব্যাপারে আইনজীবীদেরও সহযোগিতারও প্রয়োজন আছে।
ঘটনাকে কোনোভাবেই বিচ্ছিন্ন না ভেবে বরং নিরাপত্তার বিষয়টি গভীরভাবে বিবেচনার দাবি রাখে। আদালত প্রাঙ্গন কিংবা আদালত যে নিরাপত্তাহীন এলাকা সেটা এই ঘটনায় প্রমাণ হয়েছে। এর সুযোগ আরো বড় সন্ত্রাসী কার্যক্রমের জন্য দুর্বৃৃত্তদের উৎসাহিত হওয়া অসসম্ভব কিছু নয়। এই পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার বিষয়টিকেই বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। আদালতে হত্যাকা-ের ঘটনায় নিরাপত্তার রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের কোনোরূপ গাফলতি প্রমাণ হলে তাদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয়সহ আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ